শুধু একটা ফোন হাতে রাখার জন্যই এত টাকা? এই টাকা দিয়ে যে কতকিছু করা যায়—তা হয়তো ভেবে দেখার সময়ই পাচ্ছেন না অনেকে।
সৈকত আমীন

আইফোন ১৭ এলো বাজারে। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বাড়ছে নতুন আইফোন অর্ডারকারীদের দাপট। আজকাল হাতে চকচকে নতুন মডেলের আইফোন না থাকলে যেন ‘জাতে ওঠা’ মুশকিল। চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে আইফোনের সর্বশেষ মডেল, আইফোন ১৭ লাইনআপ-এর চারটি ভার্সনের ফোনের প্রি-অর্ডার। বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও নতুন মডেলের আইফোন বাজারে এলে অনেকেই হুমড়ি খেয়ে সেটা কিনতে চান। মডেলভেদে আইফোন ১৭-এর দাম দেশের বাজারে দাঁড়াতে পারে প্রায় তিনলাখ টাকা পর্যন্ত।
শুধু একটা ফোন হাতে রাখার জন্যই এত টাকা? এই টাকা দিয়ে যে কতকিছু করা যায়—তা হয়তো ভেবে দেখার সময়ই পাচ্ছেন না অনেকে। অথচ এই টাকায় যদি কেউ একটু বুদ্ধি খাটিয়ে বিনিয়োগ করেন, তবে এক বছরে এমন অনেক পথ আছে যেখানে মোবাইল ফোনের দাম উসুল করার পাশাপাশি স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। যেহেতু শেষপর্যন্ত যার আয় বেশি, জাতে ওঠার সিঁড়ি তাঁর জন্য তুলনামূলক সহজ।
গরুর খামার
কোরবানির মৌসুম বাংলাদেশের অন্যতম বড় ব্যবসায়িক মৌসুম। কেউ যদি দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ২–৩টি গরু কিনে মোটা তাজা করার খামার শুরু করেন, তবে এক বছরে উল্লেখযোগ্য লাভ সম্ভব। প্রতিটি গরুতে গড়ে ২০–৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ আসতে পারে। মানে মোট ৬০–৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি আয়। এছাড়া খামার করা এখন এক ধরণের নতুন ফ্লেক্স। খামার মালিকরা জেনজিদের কাছে থেকে নিয়মিতই পেয়ে থাকেন রাজার সম্মান।
ছাগলের খামার
গরুতে ভয় পাচ্ছেন? সমস্যা নেই, ছাগল রাখুন। দুই লাখ টাকায় ২০–২৫টা ছাগল। ছ’মাসেই বিক্রি করে ৩০–৪০% লাভ। তাছাড়া ছাগলের দুধও পাবেন। ফেসবুকে মিম বানানোর বদলে ছাগলের দুধ দিয়ে প্রতিবেশীদের চা খাওয়াতে পারলেই মিলবে এক অনন্য মর্যাদা।
মাছের খামার
কথায় আছে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। দেশের জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাছের চাহিদাও। বাংলাদেশের মানুষের পাতে প্রতিদিন মাছ চাই। তাই মাছের খামার সবসময়ই লাভজনক। এক থেকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে পুকুর ভাড়া নিয়ে বা কারও সঙ্গে অংশীদার হয়ে ব্যবসা শুরু করা যায়। দুই লাখ টাকা দিয়ে ভালো মানের রুই, কাতলা, তেলাপিয়া বা পাঙ্গাসের চাষ করলে ৬–১২ মাসে বিক্রির পর অন্তত ২০–৫০% পর্যন্ত লাভ পাওয়া সম্ভব। মানে এক বছরে ৪০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা বাড়তি আয় হতে পারে। তাছাড়া বাজার থেকে মাছ না কিনে নিজের পুকুরের মাছ দিয়ে যখন মেহমানদের আপ্যায়ন করবেন। অটোমেটিকই পেয়ে যাবেন এক অনন্য মর্যাদা।
মুরগির খামার
মুরগির খামারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অল্প সময়ে টাকা ফেরত পাওয়া যায়। দুই লাখ টাকা দিয়ে ২,০০০–২,৫০০টি ব্রয়লার মুরগি নিয়ে খামার শুরু করা সম্ভব। মাত্র ৪০–৪৫ দিনে এগুলো বিক্রির উপযোগী হয়ে যায়। প্রতিবার বিক্রিতে ১৫–২০ শতাংশ লাভ হয়। বছরে অন্তত ৬–৭ দফায় করা সম্ভব। ফলে এক বছরে ৬০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হাতে আসতে পারে। আর একটা এলাকায় স্ট্রিট ফুডের রাজত্ব যার, এলাকার মানুষের টেস্ট বাডের রাজত্ব তো তাঁরই।
স্ট্রিট ফুড ব্যবসা
ঢাকাসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে স্ট্রিট ফুডের জনপ্রিয়তা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। দুই লাখ টাকা দিয়ে ছোটখাটো স্ট্রিট ফুড কার্ট বা মোবাইল ভ্যান শুরু করা যায়। ফুচকা, চটপটি, বার্গার, ফ্রাইড চিকেন বা আইসক্রিমের মতো খাবারের বিশাল চাহিদা রয়েছে। এখানে লাভের হার তুলনামূলক বেশি—৫০–৮০% পর্যন্ত। প্রতিদিন যদি ৫–৬ হাজার টাকার বিক্রি হয়, তবে মাসে সহজেই ৬০–১ লাখ টাকা লাভ করা সম্ভব। এক বছরে এটি দাঁড়াতে পারে ৬ থেকে ১০ লাখ টাকায়, যা অন্য যেকোনো বিনিয়োগের চেয়ে অনেক বেশি। তখন লোকে আপনাকে “ফুচকা কিং” বলবে। এই টাইটেল আইফোন ১৭-এর স্ট্যাটাসের চেয়েও দামি।
সঞ্চয়পত্র
আইফোন তো হারিয়ে যাবে, নষ্ট হয়ে যাবে কিংবা হয়ে যাবে ছিনতাই। কিন্তু কী ছিনতাই হবে না জানেন? সঞ্চয়পত্র। যারা ঝুঁকি নিতে চান না, তাদের জন্য সরকারি সঞ্চয়পত্রই সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে ১০–১১% পর্যন্ত সুদ পাওয়া যায়। দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে এক বছরে কোনো ঝুঁকি ছাড়াই প্রায় ১৮–২০ হাজার টাকা লাভ পাওয়া যায়। এটি কম হলেও শতভাগ নিরাপদ।
আইফোন ১৭ হাতে থাকলে হয়তো সামাজিক মর্যাদা বাড়তে পারে, কিন্তু আর্থিকভাবে সেটি কোনো সম্পদ নয়—বরং ব্যয়। বিপরীতে একই টাকা খামার, ব্যবসা বা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে সেটি থেকে যা আয় হয়, তা ভবিষ্যতের জন্য স্থায়ী সম্পদ তৈরি করে।
তাহলে প্রশ্ন হলো—জাতে উঠতে চান হাতে ফোন নিয়ে, নাকি হাতে ব্যবসা নিয়ে?

আইফোন ১৭ এলো বাজারে। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বাড়ছে নতুন আইফোন অর্ডারকারীদের দাপট। আজকাল হাতে চকচকে নতুন মডেলের আইফোন না থাকলে যেন ‘জাতে ওঠা’ মুশকিল। চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে আইফোনের সর্বশেষ মডেল, আইফোন ১৭ লাইনআপ-এর চারটি ভার্সনের ফোনের প্রি-অর্ডার। বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও নতুন মডেলের আইফোন বাজারে এলে অনেকেই হুমড়ি খেয়ে সেটা কিনতে চান। মডেলভেদে আইফোন ১৭-এর দাম দেশের বাজারে দাঁড়াতে পারে প্রায় তিনলাখ টাকা পর্যন্ত।
শুধু একটা ফোন হাতে রাখার জন্যই এত টাকা? এই টাকা দিয়ে যে কতকিছু করা যায়—তা হয়তো ভেবে দেখার সময়ই পাচ্ছেন না অনেকে। অথচ এই টাকায় যদি কেউ একটু বুদ্ধি খাটিয়ে বিনিয়োগ করেন, তবে এক বছরে এমন অনেক পথ আছে যেখানে মোবাইল ফোনের দাম উসুল করার পাশাপাশি স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। যেহেতু শেষপর্যন্ত যার আয় বেশি, জাতে ওঠার সিঁড়ি তাঁর জন্য তুলনামূলক সহজ।
গরুর খামার
কোরবানির মৌসুম বাংলাদেশের অন্যতম বড় ব্যবসায়িক মৌসুম। কেউ যদি দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ২–৩টি গরু কিনে মোটা তাজা করার খামার শুরু করেন, তবে এক বছরে উল্লেখযোগ্য লাভ সম্ভব। প্রতিটি গরুতে গড়ে ২০–৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ আসতে পারে। মানে মোট ৬০–৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি আয়। এছাড়া খামার করা এখন এক ধরণের নতুন ফ্লেক্স। খামার মালিকরা জেনজিদের কাছে থেকে নিয়মিতই পেয়ে থাকেন রাজার সম্মান।
ছাগলের খামার
গরুতে ভয় পাচ্ছেন? সমস্যা নেই, ছাগল রাখুন। দুই লাখ টাকায় ২০–২৫টা ছাগল। ছ’মাসেই বিক্রি করে ৩০–৪০% লাভ। তাছাড়া ছাগলের দুধও পাবেন। ফেসবুকে মিম বানানোর বদলে ছাগলের দুধ দিয়ে প্রতিবেশীদের চা খাওয়াতে পারলেই মিলবে এক অনন্য মর্যাদা।
মাছের খামার
কথায় আছে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। দেশের জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাছের চাহিদাও। বাংলাদেশের মানুষের পাতে প্রতিদিন মাছ চাই। তাই মাছের খামার সবসময়ই লাভজনক। এক থেকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে পুকুর ভাড়া নিয়ে বা কারও সঙ্গে অংশীদার হয়ে ব্যবসা শুরু করা যায়। দুই লাখ টাকা দিয়ে ভালো মানের রুই, কাতলা, তেলাপিয়া বা পাঙ্গাসের চাষ করলে ৬–১২ মাসে বিক্রির পর অন্তত ২০–৫০% পর্যন্ত লাভ পাওয়া সম্ভব। মানে এক বছরে ৪০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা বাড়তি আয় হতে পারে। তাছাড়া বাজার থেকে মাছ না কিনে নিজের পুকুরের মাছ দিয়ে যখন মেহমানদের আপ্যায়ন করবেন। অটোমেটিকই পেয়ে যাবেন এক অনন্য মর্যাদা।
মুরগির খামার
মুরগির খামারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অল্প সময়ে টাকা ফেরত পাওয়া যায়। দুই লাখ টাকা দিয়ে ২,০০০–২,৫০০টি ব্রয়লার মুরগি নিয়ে খামার শুরু করা সম্ভব। মাত্র ৪০–৪৫ দিনে এগুলো বিক্রির উপযোগী হয়ে যায়। প্রতিবার বিক্রিতে ১৫–২০ শতাংশ লাভ হয়। বছরে অন্তত ৬–৭ দফায় করা সম্ভব। ফলে এক বছরে ৬০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হাতে আসতে পারে। আর একটা এলাকায় স্ট্রিট ফুডের রাজত্ব যার, এলাকার মানুষের টেস্ট বাডের রাজত্ব তো তাঁরই।
স্ট্রিট ফুড ব্যবসা
ঢাকাসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে স্ট্রিট ফুডের জনপ্রিয়তা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। দুই লাখ টাকা দিয়ে ছোটখাটো স্ট্রিট ফুড কার্ট বা মোবাইল ভ্যান শুরু করা যায়। ফুচকা, চটপটি, বার্গার, ফ্রাইড চিকেন বা আইসক্রিমের মতো খাবারের বিশাল চাহিদা রয়েছে। এখানে লাভের হার তুলনামূলক বেশি—৫০–৮০% পর্যন্ত। প্রতিদিন যদি ৫–৬ হাজার টাকার বিক্রি হয়, তবে মাসে সহজেই ৬০–১ লাখ টাকা লাভ করা সম্ভব। এক বছরে এটি দাঁড়াতে পারে ৬ থেকে ১০ লাখ টাকায়, যা অন্য যেকোনো বিনিয়োগের চেয়ে অনেক বেশি। তখন লোকে আপনাকে “ফুচকা কিং” বলবে। এই টাইটেল আইফোন ১৭-এর স্ট্যাটাসের চেয়েও দামি।
সঞ্চয়পত্র
আইফোন তো হারিয়ে যাবে, নষ্ট হয়ে যাবে কিংবা হয়ে যাবে ছিনতাই। কিন্তু কী ছিনতাই হবে না জানেন? সঞ্চয়পত্র। যারা ঝুঁকি নিতে চান না, তাদের জন্য সরকারি সঞ্চয়পত্রই সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে ১০–১১% পর্যন্ত সুদ পাওয়া যায়। দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে এক বছরে কোনো ঝুঁকি ছাড়াই প্রায় ১৮–২০ হাজার টাকা লাভ পাওয়া যায়। এটি কম হলেও শতভাগ নিরাপদ।
আইফোন ১৭ হাতে থাকলে হয়তো সামাজিক মর্যাদা বাড়তে পারে, কিন্তু আর্থিকভাবে সেটি কোনো সম্পদ নয়—বরং ব্যয়। বিপরীতে একই টাকা খামার, ব্যবসা বা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে সেটি থেকে যা আয় হয়, তা ভবিষ্যতের জন্য স্থায়ী সম্পদ তৈরি করে।
তাহলে প্রশ্ন হলো—জাতে উঠতে চান হাতে ফোন নিয়ে, নাকি হাতে ব্যবসা নিয়ে?

ঘণ্টার পর ঘণ্টা দোকান ঘুরেও যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না, তখন কেনাকাটার আনন্দটা মাঝেমধ্যে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মনোবিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকে বলেন ‘চয়েস ওভারলোড’ বা ‘প্যারাডক্স অফ চয়েস’। কিন্তু কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায়?
১ ঘণ্টা আগে
তাহলে কি সত্যিই ক্যাফেইন কমালে এমন স্বপ্ন দেখা শুরু হয়? অস্ট্রেলিয়ার সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক শার্লট গুপ্তা এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির গবেষক কারিসা গার্ডিনার এই বিষয়ে কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
৬ ঘণ্টা আগে
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর শপিংমল ও বিপণিবিতানগুলোতে এখন জমজমাট কেনাকাটা। বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বড় বড় শপিং মলগুলোতে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
১ দিন আগে
ছেলেদের শখ খুব অল্প। সুন্দর কেডস বা জুতা, সানগ্লাস, মানিব্যাগ বা পারফিউম ছাড়িয়ে সবার পছন্দ এক জায়গায় মেলে। তা হলো ফ্যাশনেবল হাতঘড়ি। ছেলেরা আবার এসব জিনিস উপহার পেতেই পছন্দ করে। যেমন আমার। বৈবাহিক সূত্রে যেসব ঘড়ি পেয়েছিলাম তা উচ্চমূল্যের এবং এগুলো নিজের টাকা দিয়ে কেনার সামর্থ্য ছিল না। নিজের টাকায় যে
১ দিন আগে