অরূপ রাহীর সাক্ষাৎকার
পয়লা বৈশাখকে ঘিরে বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে প্রতিবছরই কিছু প্রশ্ন ও বিতর্ক সামনে আসে। কখনো তা রূপ নেয় পরিচয়-সংকটে, কখনো বা সাংস্কৃতিক আধিপত্যের লড়াইয়ে। ‘বাঙালি আগে না মুসলমান আগে’—এই বিতর্ক আর আধুনিক সময়ে উৎসবের রূপান্তর নিয়ে ঢাকা স্ট্রিম-এর আয়োজনে আলাপ করেছেন গায়ক, কবি, লেখক ও চিন্তক অরূপ রাহী।
স্ট্রিম ডেস্ক

ঢাকা স্ট্রিম: পয়লা বৈশাখ এলেই অনলাইনে বা সামাজিক পরিসরে এক নম্বর বিতর্ক হয়ে দাঁড়ায়—আমরা কি আগে মুসলমান নাকি আগে বাঙালি? এই প্রশ্নটাকে আপনি কীভাবে ডিল করেন?
অরূপ রাহী: এই প্রশ্নটি ডিল করার জন্য কিছুটা জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিশ্রম করতে হবে। আমাদের বর্তমান সমাজের একটি বড় সংকট হলো, আমরা সবকিছু খুব সহজে বুঝে ফেলতে চাই। সবকিছু ‘একটু সহজ করে বলুন না’—এই ভঙ্গিটা ক্ষতিকর। মানুষের পরিচয় ইতিহাসে কীভাবে নির্মিত হয়, তা বোঝা জরুরি। আমরা যে ‘আগে বাঙালি না আগে মুসলমান’প্রশ্নটি করি, এটি মূলত একটি ‘বিশুদ্ধতাবাদী’ চিন্তা পদ্ধতি থেকে আসে। আমরা ধরে নিই যে, ধর্ম আর সংস্কৃতি দুটি আলাদা সমান্তরাল রেখা। এই দুই রেখা একে অন্যকে স্পর্শ করে না।
ইতিহাস বলছে, এই বঙ্গীয় বদ্বীপ অঞ্চলে ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতির যে মেলামেশা বা বোঝাপড়া হয়েছে, তা অত্যন্ত গভীর। মানুষ একাধারে বাঙালি হয়েই মুসলমান হয়েছে। মধ্যযুগের সুফি সাহিত্য পড়লে আমরা দেখি যে কারো কারো দ্বিধা থাকলেও পরে কবিরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলছেন যে, বাংলা ভাষায় ধর্মচর্চার মধ্যে তারা কোনো সংকট দেখেননি। পরিচয় নিয়ে যে লড়াই আজ আমরা দেখছি, এটি আসলে ঔপনিবেশিক আধুনিককালের ফল। ঔপনিবেশিক নৃবিজ্ঞান এসে আমাদের ওপর ধর্ম ও সংস্কৃতির কিছু সংজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছে। তার আগে ‘বাঙালি হয়ে মুসলমান থাকা যাবে কি না’—এই প্রশ্নটাই অবান্তর ছিল।
ঢাকা স্ট্রিম: গত কয়েক বছর ধরে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নববর্ষ ঘিরে হওয়া শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের একটা রাজনীতি দেখা যাচ্ছে। ‘মঙ্গল’ শব্দটাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়া এবং নাম বদলে ‘বৈশাখী’ বা ‘আনন্দ’ শোভাযাত্রা করা। এই শব্দের রাজনীতিকে কীভাবে দেখেন?
অরূপ রাহী: একে দেখি একটি গভীর সংকটের প্রকাশ হিসেবে। মনে রাখা দরকার, এই শোভাযাত্রার নাম কিন্তু শুরুতে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ছিল না। এটি নব্বইয়ের দশকে পরে যুক্ত হয়েছে। আর এই নামটির পেছনে বা এটি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক ধরনের নির্দিষ্ট ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদী টোন’ ছিল। অনেক ক্ষেত্রে এর মোটিফ বা প্রতীকের ব্যবহারের মধ্যে এক ধরনের ‘ব্রাহ্মণ্যবাদী’ শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে ওঠে। অথচ বৈশাখের আদি যে আল্পনা বা ব্রত, সেগুলো কিন্তু পুরোপুরি বৈদিক নয়। তার মধ্যে অনেক বেশি তান্ত্রিক ও অন্যান্য লৌকিক উপাদানের প্রাধান্য আছে।
অন্যদিকে, একটি পক্ষ আবার একে ‘শিরক’ বা ‘হারাম’ বলছে। সমস্যাটা হলো, দুই পক্ষই একে অপরের ওপর এক ধরনের ‘আদর্শ’ আরোপ করতে চায়। আর এর মধ্য দিয়ে সংস্কৃতিকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বেঁধে ফেলতে চায়। আমি মনে করি, এই নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলার চেষ্টাটাই এক ধরনের ‘জুলুম’। আমরা যদি নববর্ষকে একটি স্থির ডিসকোর্সের বদলে একটি ‘বিবর্তনশীল’ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতাম, তবে এই সংকট তৈরি হতো না।
ঢাকা স্ট্রিম: মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এর একটি ‘প্রতিরোধী চরিত্র’ ছিল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়। রাষ্ট্র যখন একে আত্তীকরণ করল, তখন সেই চরিত্রটি কি বিঘ্নিত হলো বলে মনে করেন?
অরূপ রাহী: রাষ্ট্র কোনো কিছুই পুরোপুরি হজম করে ফেলতে পারে না। রাষ্ট্র বাহুবল বা তার প্রশাসনিক ক্ষমতা দিয়ে অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, কিন্তু ‘সমাজ’ সব সময় রাষ্ট্রের চেয়ে বড়। উৎসবের নাম যা-ই হোক—বৈশাখী শোভাযাত্রা বা বিজু-বিষু—মানুষ কিন্তু উৎসবের ভেতর দিয়েই তার ক্রিটিক বজায় রাখে। সমাজ রাষ্ট্রের মেজরিটারিয়ান পলিটিক্স বা পরিচয়বাদী রাজনীতির সমালোচনা করতেই থাকবে। এরশাদ আমলে এটি প্রতিরোধের জায়গা থেকে শুরু হয়েছিল। এখন হয়তো শাসকেরা একে নিজেদের ফ্রেমের মধ্যে আনতে চায়। কিন্তু সমাজের ভেতরে এর পর্যালোচনামূলক ধারাটি কখনো মরে যায় না। এটাই আমাদের আশার জায়গা।
ঢাকা স্ট্রিম: অনেকে মনে করেন ‘হালখাতা’ বা ‘চৈত্রসংক্রান্তি’র মতো উৎসবগুলো প্রান্তিক মানুষের হাত থেকে শহরের করপোরেট বা এলিট শ্রেণির কাছে চলে গেছে। প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর কি এখানে হারিয়ে যাচ্ছে?
অরূপ রাহী: গ্রাম সমাজ বা কৃষি সমাজ এখন আর আগের জায়গায় নেই। আমরা এখন পুঁজি-চালিত যুগে বাস করছি। গ্রাম সমাজ এখন করপোরেট কৃষির দখলে। আগে ধানের জন্য গান গাওয়া হতো, বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা হতো। এখন ধানের বীজ কোম্পানির হাতে, সেচ হচ্ছে মেশিনের সাহায্যে। সুতরাং উৎপাদন ব্যবস্থার এই আমূল পরিবর্তনের ফলে উৎসবের চরিত্র বদলাবে—এটাই স্বাভাবিক।
তাই ‘পয়লা বৈশাখ আগের মতো কেন হয় না’—বলে হাহাকার করাটা এক ধরনের অনৈতিহাসিক রোমান্টিকতা হয়ে দাঁড়ায়। বৈশাখের ১৪ রকম শাক খাওয়ার কথা ধরুন। এখন গ্রামে গিয়ে আপনি তিন রকম শাকও খুঁজে পাবেন না। কারণ পরিবেশ ধ্বংস হয়েছে, জলবায়ু বদলে গেছে। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে ‘নন-রোমান্টিক’ ও ‘ঐতিহাসিক’ হওয়া। অতীতের সংকটের পাশাপাশি বর্তমানের মডার্নিটি বা আধুনিকতার সংকটকেও চিনতে হবে।
ঢাকা স্ট্রিম: আপনি আপনার আলাপে ‘রহমত’, ‘ন্যায়’ এবং ‘ইনসাফের কথা বলছেন। নববর্ষ পালনের মাধ্যমে এই লক্ষ্যগুলো অর্জন করা কি সম্ভব?
অরূপ রাহী: অবশ্যই। নববর্ষ বা সংক্রান্তি কেবল উৎসব নয় । এটি একটি গতিশীল ও সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়া। সমাজ স্থির থাকে না। এখন প্রশ্ন হলো, এই পরিবর্তনের গতিমুখ আমরা কোন দিকে নেব? পয়লা বৈশাখ পালনের সার্থকতা তখনই হবে, যখন আমরা এই উৎসবকে একরৈখিক কোনো ইতিহাস হিসেবে না দেখে একে পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে দেখব।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত— জলবায়ু পরিবর্তন, ঔপনিবেশিক মডার্নিটির জুলুম এবং সমাজের ভেতরের বৈষম্যকে মোকাবিলা করা। যদি আমরা উৎসবের এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি ন্যায়, ইনসাফ ও রহমতের দুনিয়া গড়ার দিশা তৈরি করতে পারি, তবেই আমাদের বৈশাখ পালন বা এই বিতর্কগুলোতে অংশগ্রহণ সার্থক হবে।
ঢাকা স্ট্রিম: অরূপ রাহী, চমৎকার এই বিশ্লেষণের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
অরূপ রাহী: আপনাকে এবং ঢাকা স্ট্রিমকেও ধন্যবাদ।

ঢাকা স্ট্রিম: পয়লা বৈশাখ এলেই অনলাইনে বা সামাজিক পরিসরে এক নম্বর বিতর্ক হয়ে দাঁড়ায়—আমরা কি আগে মুসলমান নাকি আগে বাঙালি? এই প্রশ্নটাকে আপনি কীভাবে ডিল করেন?
অরূপ রাহী: এই প্রশ্নটি ডিল করার জন্য কিছুটা জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিশ্রম করতে হবে। আমাদের বর্তমান সমাজের একটি বড় সংকট হলো, আমরা সবকিছু খুব সহজে বুঝে ফেলতে চাই। সবকিছু ‘একটু সহজ করে বলুন না’—এই ভঙ্গিটা ক্ষতিকর। মানুষের পরিচয় ইতিহাসে কীভাবে নির্মিত হয়, তা বোঝা জরুরি। আমরা যে ‘আগে বাঙালি না আগে মুসলমান’প্রশ্নটি করি, এটি মূলত একটি ‘বিশুদ্ধতাবাদী’ চিন্তা পদ্ধতি থেকে আসে। আমরা ধরে নিই যে, ধর্ম আর সংস্কৃতি দুটি আলাদা সমান্তরাল রেখা। এই দুই রেখা একে অন্যকে স্পর্শ করে না।
ইতিহাস বলছে, এই বঙ্গীয় বদ্বীপ অঞ্চলে ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতির যে মেলামেশা বা বোঝাপড়া হয়েছে, তা অত্যন্ত গভীর। মানুষ একাধারে বাঙালি হয়েই মুসলমান হয়েছে। মধ্যযুগের সুফি সাহিত্য পড়লে আমরা দেখি যে কারো কারো দ্বিধা থাকলেও পরে কবিরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলছেন যে, বাংলা ভাষায় ধর্মচর্চার মধ্যে তারা কোনো সংকট দেখেননি। পরিচয় নিয়ে যে লড়াই আজ আমরা দেখছি, এটি আসলে ঔপনিবেশিক আধুনিককালের ফল। ঔপনিবেশিক নৃবিজ্ঞান এসে আমাদের ওপর ধর্ম ও সংস্কৃতির কিছু সংজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছে। তার আগে ‘বাঙালি হয়ে মুসলমান থাকা যাবে কি না’—এই প্রশ্নটাই অবান্তর ছিল।
ঢাকা স্ট্রিম: গত কয়েক বছর ধরে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নববর্ষ ঘিরে হওয়া শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের একটা রাজনীতি দেখা যাচ্ছে। ‘মঙ্গল’ শব্দটাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়া এবং নাম বদলে ‘বৈশাখী’ বা ‘আনন্দ’ শোভাযাত্রা করা। এই শব্দের রাজনীতিকে কীভাবে দেখেন?
অরূপ রাহী: একে দেখি একটি গভীর সংকটের প্রকাশ হিসেবে। মনে রাখা দরকার, এই শোভাযাত্রার নাম কিন্তু শুরুতে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ছিল না। এটি নব্বইয়ের দশকে পরে যুক্ত হয়েছে। আর এই নামটির পেছনে বা এটি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক ধরনের নির্দিষ্ট ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদী টোন’ ছিল। অনেক ক্ষেত্রে এর মোটিফ বা প্রতীকের ব্যবহারের মধ্যে এক ধরনের ‘ব্রাহ্মণ্যবাদী’ শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে ওঠে। অথচ বৈশাখের আদি যে আল্পনা বা ব্রত, সেগুলো কিন্তু পুরোপুরি বৈদিক নয়। তার মধ্যে অনেক বেশি তান্ত্রিক ও অন্যান্য লৌকিক উপাদানের প্রাধান্য আছে।
অন্যদিকে, একটি পক্ষ আবার একে ‘শিরক’ বা ‘হারাম’ বলছে। সমস্যাটা হলো, দুই পক্ষই একে অপরের ওপর এক ধরনের ‘আদর্শ’ আরোপ করতে চায়। আর এর মধ্য দিয়ে সংস্কৃতিকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বেঁধে ফেলতে চায়। আমি মনে করি, এই নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলার চেষ্টাটাই এক ধরনের ‘জুলুম’। আমরা যদি নববর্ষকে একটি স্থির ডিসকোর্সের বদলে একটি ‘বিবর্তনশীল’ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতাম, তবে এই সংকট তৈরি হতো না।
ঢাকা স্ট্রিম: মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এর একটি ‘প্রতিরোধী চরিত্র’ ছিল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়। রাষ্ট্র যখন একে আত্তীকরণ করল, তখন সেই চরিত্রটি কি বিঘ্নিত হলো বলে মনে করেন?
অরূপ রাহী: রাষ্ট্র কোনো কিছুই পুরোপুরি হজম করে ফেলতে পারে না। রাষ্ট্র বাহুবল বা তার প্রশাসনিক ক্ষমতা দিয়ে অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, কিন্তু ‘সমাজ’ সব সময় রাষ্ট্রের চেয়ে বড়। উৎসবের নাম যা-ই হোক—বৈশাখী শোভাযাত্রা বা বিজু-বিষু—মানুষ কিন্তু উৎসবের ভেতর দিয়েই তার ক্রিটিক বজায় রাখে। সমাজ রাষ্ট্রের মেজরিটারিয়ান পলিটিক্স বা পরিচয়বাদী রাজনীতির সমালোচনা করতেই থাকবে। এরশাদ আমলে এটি প্রতিরোধের জায়গা থেকে শুরু হয়েছিল। এখন হয়তো শাসকেরা একে নিজেদের ফ্রেমের মধ্যে আনতে চায়। কিন্তু সমাজের ভেতরে এর পর্যালোচনামূলক ধারাটি কখনো মরে যায় না। এটাই আমাদের আশার জায়গা।
ঢাকা স্ট্রিম: অনেকে মনে করেন ‘হালখাতা’ বা ‘চৈত্রসংক্রান্তি’র মতো উৎসবগুলো প্রান্তিক মানুষের হাত থেকে শহরের করপোরেট বা এলিট শ্রেণির কাছে চলে গেছে। প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর কি এখানে হারিয়ে যাচ্ছে?
অরূপ রাহী: গ্রাম সমাজ বা কৃষি সমাজ এখন আর আগের জায়গায় নেই। আমরা এখন পুঁজি-চালিত যুগে বাস করছি। গ্রাম সমাজ এখন করপোরেট কৃষির দখলে। আগে ধানের জন্য গান গাওয়া হতো, বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা হতো। এখন ধানের বীজ কোম্পানির হাতে, সেচ হচ্ছে মেশিনের সাহায্যে। সুতরাং উৎপাদন ব্যবস্থার এই আমূল পরিবর্তনের ফলে উৎসবের চরিত্র বদলাবে—এটাই স্বাভাবিক।
তাই ‘পয়লা বৈশাখ আগের মতো কেন হয় না’—বলে হাহাকার করাটা এক ধরনের অনৈতিহাসিক রোমান্টিকতা হয়ে দাঁড়ায়। বৈশাখের ১৪ রকম শাক খাওয়ার কথা ধরুন। এখন গ্রামে গিয়ে আপনি তিন রকম শাকও খুঁজে পাবেন না। কারণ পরিবেশ ধ্বংস হয়েছে, জলবায়ু বদলে গেছে। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে ‘নন-রোমান্টিক’ ও ‘ঐতিহাসিক’ হওয়া। অতীতের সংকটের পাশাপাশি বর্তমানের মডার্নিটি বা আধুনিকতার সংকটকেও চিনতে হবে।
ঢাকা স্ট্রিম: আপনি আপনার আলাপে ‘রহমত’, ‘ন্যায়’ এবং ‘ইনসাফের কথা বলছেন। নববর্ষ পালনের মাধ্যমে এই লক্ষ্যগুলো অর্জন করা কি সম্ভব?
অরূপ রাহী: অবশ্যই। নববর্ষ বা সংক্রান্তি কেবল উৎসব নয় । এটি একটি গতিশীল ও সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়া। সমাজ স্থির থাকে না। এখন প্রশ্ন হলো, এই পরিবর্তনের গতিমুখ আমরা কোন দিকে নেব? পয়লা বৈশাখ পালনের সার্থকতা তখনই হবে, যখন আমরা এই উৎসবকে একরৈখিক কোনো ইতিহাস হিসেবে না দেখে একে পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে দেখব।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত— জলবায়ু পরিবর্তন, ঔপনিবেশিক মডার্নিটির জুলুম এবং সমাজের ভেতরের বৈষম্যকে মোকাবিলা করা। যদি আমরা উৎসবের এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি ন্যায়, ইনসাফ ও রহমতের দুনিয়া গড়ার দিশা তৈরি করতে পারি, তবেই আমাদের বৈশাখ পালন বা এই বিতর্কগুলোতে অংশগ্রহণ সার্থক হবে।
ঢাকা স্ট্রিম: অরূপ রাহী, চমৎকার এই বিশ্লেষণের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
অরূপ রাহী: আপনাকে এবং ঢাকা স্ট্রিমকেও ধন্যবাদ।

প্রকৃতিতে রোদের তেজ বাড়ছে। এই গরমে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা ও সতেজ রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রচন্ড তাপের কারণে অনেকেরই অতিরিক্ত ঘাম হয়। ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ বের হয়ে যায়।
৫ ঘণ্টা আগে
বিজ্ঞানীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের চিরাচরিত ধারণা, বিজ্ঞানীরা বোধহয় নাওয়া-খাওয়া ভুলে সবসময় গবেষণাগারে পড়ে থাকেন। বাইরের পৃথিবীতে কী ঘটছে, সেগুলোতে তাঁরা তেমন মনোযোগ দেন না।
১ দিন আগে
চিত্তরঞ্জন সুতার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেপথ্য নায়ক। কর্মের মাধ্যমেই রাজনৈতিক ইতিহাসে আখ্যা পেয়েছে ‘রহস্য’ পুরুষের। শেখ মুজিবুর রহমানের ‘আস্থাভাজন’ চিত্তরঞ্জন ভারত এবং মুজিবনগর সরকারের সেতুবন্ধনে কাজ করেছিলেন।
২ দিন আগে
গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের (৬ মার্চ ১৯২৭, কলম্বিয়া-১৭ এপ্রিল ২০১৪, মেক্সিকো) র্নিজন হাত উঠে আসে মানবসমাজের বিস্তার ও নিঃসঙ্গতার পরিণতির দলিল নিয়ে। আমরা দেখি, হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে; ঘুমহীনতার হাত থেকে বাঁচতে কীভাবে পালিয়ে গেলো আর পত্তন করল নিঃসঙ্গতা ও মাকোন্দো গ্রাম।
২ দিন আগে