ফিলিস্তিন ইস্যুতে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যের দ্বিমুখী নীতি পরিহারের আহ্বান শতাধিক সাবেক কূটনীতিকের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ২০
গাজা সিটিতে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ। ছবি: সিএনএন।
গাজা সিটিতে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ। ছবি: সিএনএন।

ইসরায়েলের ওপর যৌথ নিষেধাজ্ঞা আরোপে নিজ নিজ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা রক্ষা এবং ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ বন্ধের লক্ষ্যে তাঁরা এই যৌথ পদক্ষেপের দাবি জানান। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল্য মঁদ’-এ শনিবার (২২ আগস্ট) প্রকাশিত যৌথ খোলা চিঠিতে তাঁরা আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেরেমি গ্রিনস্টক ও এমির জোন্স প্যারি এবং ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক পরিচালক ইভ ওবিন দে লা মেসোজিয়ে ও ডেনিস বাউচার্ড।

চিঠিতে তাঁরা লেখেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এই অঞ্চলের সীমানা নির্ধারণে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল। ২০২৫ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে উভয় দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা এখন জরুরি পদক্ষেপে বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘দুটি দেশই বিশ্বাস করে, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। বিচারের মাধ্যমেই কেবল আমাদের সরকার দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ খণ্ডন করতে পারবে।’

চিঠিতে ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য ও সামরিক সহযোগিতা অবিলম্বে বন্ধ করা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করা এবং পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া অধিকৃত ফিলিস্তিনি জমিতে নিজ দেশের নাগরিকদের সম্পত্তি ক্রয় নিষিদ্ধ করা এবং জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-সহ অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে গাজায় অবাধ মানবিক সহায়তা ও কূটনীতিক-সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশের যোগসাজশে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা কার্যত ‘জাতিগত নিধনের’ শামিল। বিশ্ববাসী আর ইসরায়েলকে প্রকৃত গণতন্ত্র হিসেবে দেখে না।

স্বাক্ষরকারী ও সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাস হপটন আল জাজিরাকে বলেন, ‘এসব শব্দ আমাদের নিজস্ব নয়, বরং নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থা ও জাতিসংঘের মূল্যায়ন থেকে নেওয়া।’ তিনি সতর্ক করেন যে পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপন ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিচ্ছে।

লিবিয়ায় নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার মিলেট বলেন, ‘আমরা কেবল নিন্দাজ্ঞাপনের মতো কথার বদলে বাণিজ্য ও অস্ত্রের ওপর বাস্তব পদক্ষেপ চাচ্ছি। ইসরায়েল স্পষ্টভাবে বলছে তারা দুই-রাষ্ট্র সমাধান মানবে না, এমন পরিস্থিতিতে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না।’

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলের আগ্রাসনে গাজায় ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী আরও ১ হাজার ২৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা এবং ল্য মঁদ

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত