নিষেধাজ্ঞা বিলে চূড়ান্ত অনুমোদন /ট্রাম্প চাইলেই ভারতীয় পণ্যে ১০০% শুল্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা দেশগুলোকে অর্থনৈতিক শাস্তি দিতে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নিম্নকক্ষে (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ) পাস হয়েছে। ফলে ভারত-চীনসহ অন্যান্য দেশগুলোর উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা পাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আগস্টে মার্কিন সেনেটে বিলটি পাস হয়। ‘লিন্ডসে ও.গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ শীর্ষক বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে প্রতিনিধি পরিষদেও চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় এখন এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায়। বিলের পক্ষে ভোট দেন ২০৩ জন রিপাবলিকান, ৫৬ জন ডেমোক্র্যাট এবং ১ জন স্বতন্ত্র প্রতিনিধি।
ট্রাম্পের পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ইউক্রেনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ।
বিলটি চূড়ান্ত পাসের পথে নানা বাধার সম্মুখীন হয়। এই বিলে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্যের জোরালো আপত্তিও ছিল। তাদের যুক্তি ছিল, এই আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের অতিরিক্ত ক্ষমতা দেবে।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি স্টেনি হোয়ারের উত্থাপিত একটি সংশোধনীতে ১০টি নির্দিষ্ট দেশ—চীন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, হাঙ্গেরি, কিরগিজস্তান এবং স্লোভাকিয়াকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের যোগ্য হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার আহ্বান জানানো হয়।
বিলটির নামকরণ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রাজনীতিবিদ লিন্ডসে ও. গ্রাহামের নামে। গ্রাহাম রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ছিলেন। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে বেশ সোচ্চার তিনি।
এই বিলের মূল উদ্দেশ্য, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। রাশিয়ার নেতৃত্ব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি খাতের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা জাহাজগুলোকেও এই আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ সীমিত করা সংক্রান্ত ‘ইরান স্যাংশন অ্যাক্ট’ এর মেয়াদ বাড়ানোরও প্রস্তাব রাখা হয়েছে বিলে।
রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ ক্রেতাদের মধ্যে প্রথমেই আছে চীন, এরপর দ্বিতীয়তে ভারত।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ভারত রুশ তেলের বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে। এবিষয়ে দিল্লির যুক্তি ছিল, সস্তায় নিজ দেশের স্বার্থে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তেল কিনছে তারা। যদিও ওয়াশিংটনের এই যুক্তি পছন্দ হয়নি।
তাই গ্রাহাম বিলের সংশোধনী প্রস্তাবে ভারতের নাম উঠেছে। এখন এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর পেলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্য আমদানির খরচ অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ বেড়ে গেলে এর প্রভাব পড়বে দুই দিকেই। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম বাড়বে অন্যদিকে ভারতের রপ্তানিকারকরা পড়বেন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার তীব্র চাপে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তাবিত শুল্ক বৃদ্ধি ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। 'ফরচুন ইন্ডিয়া'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি আইসিআরএ –এর প্রধান অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো উচ্চ শুল্ক আরোপ এবং এর আনুমানিক অনিশ্চয়তা ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনায় মন্দার ঝুঁকি তৈরি করবে।’
যদিও ভারতের ওপর এই আইনের প্রভাব কতটা পড়বে, তা এটি চূড়ান্তভাবে হওয়ার পরই বোঝা যাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর এই ক্ষমতার পুরোটাই ব্যবহার করেন কি না, সেটারও ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে।
তবে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সূচনার পর থেকে মূলত রুশ তেল আমদানির ওপর ভর করে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আরও গভীর হলেও, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তা বলা যায় না। গত বছরের আগস্টে ট্রাম্প ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কের পাশাপাশি রুশ অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন।
.png)
-40e58c.jpeg)





