ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নিজেদের ‘সার্বভৌম ও স্বাধীন’ বলল তাইওয়ান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০৯: ৩১
তাইওয়ানের একটি টেলিভিশন সংবাদ অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সি চিন পিংয়ের মধ্যকার বৈঠকটি দেখানো হচ্ছে। ছবি: এএফপি

চীন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানকে স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ান এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ‘সার্বভৌম ও স্বাধীন’। খবর আল-জাজিরার।

অবশ্য সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণার পথে হাঁটবে না বলেও জানিয়েছে তাইওয়ান। শনিবারের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, তাইওয়ান ‘ক্রস-স্ট্রেইট স্ট্যাটাস কো’ বজায় রাখার পরিকল্পনা করছে, যার অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করবে না তারা।

এর আগে শুক্রবার বেইজিংয়ে চীনের সরকারপ্রধান সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি কাউকে স্বাধীন হতে দেখতে চাই না।আমরা যুদ্ধ চাই না। যদি বর্তমান অবস্থা বজায় থাকে, তাহলে আমার মনে হয় চীনও এতে সন্তুষ্ট থাকবে।

তিনি এখানে স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানের কথা উল্লেখ করছিলেন, যাকে বেইজিং নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে।

তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ইস্যু। ১৯৪০-এর দশকের চীনের গৃহযুদ্ধ থেকে এর শুরু।

যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানের স্বাধীনতার দাবিকে সমর্থন করে না। তবে মার্কিন প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে অস্ত্র বিক্রি ও বিভিন্ন মন্তব্যের মাধ্যমে দ্বীপটিকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এ কারণে চীন তাইওয়ানে আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র রক্ষা করতে এগিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হয়।

তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তার পূর্বসূরিদের চেয়ে তাইওয়ানকে রক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান দেখিয়েছেন।

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, আমাদের ৯ হাজার ৫০০ মাইল পাড়ি দিয়ে যুদ্ধে যেতে হবে। আমি সেটা চাই না। আমি চাই তারা (তাইওয়ান) শান্ত হোক। চীনও শান্ত থাকুক।

ট্রাম্পের চীন সফরে তাইওয়ান ইস্যু

সম্প্রতি ট্রাম্পের চীন সফরে তাইওয়ান-বেইজিং উত্তেজনা একটি বড় ইস্যু হয়ে ওঠে।

ট্রাম্পকে সি চিন পিং বলেন, তাইওয়ান হলো চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এটি ঠিকমতো পরিচালনা করা না গেলে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের দ্বন্দ্বে সংঘাত পর্যন্ত গড়াতে পারে, যা দুদেশের সম্পর্ককে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় ঠেলে দেবে।

পরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিষয়ে খুবই দৃঢ় অবস্থানে আছেন সি। এ বিষয়ে কোনো দিকেই প্রতিশ্রুতি দেননি বলেও জানান ট্রাম্প।

এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাইওয়ানের জন্য কংগ্রেসে অনুমোদিত নতুন ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি এখনও অনুমোদন দেইনি। আমরা দেখব কী হয়। আমি দিতে পারি। আবার নাও দিতে পারি।

তাইওয়ান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে তাইপের সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বা স্বীকৃতি দেয় না।

আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ‘ওয়ান চায়না’ নীতি অনুসরণ করে। যেখানে তারা তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে বেইজিংয়ের অবস্থানকে স্বীকার করে — যদিও তা সমর্থন করে না।

চীনের সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের পক্ষে সামরিকভাবে এগিয়ে আসবে কি না, সে বিষয়েও তারা অস্পষ্ট অবস্থান বজায় রেখেছে।

২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন সংবাদ অনুষ্ঠান সিক্সটি মিনিটস-এ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যদি সত্যিই নজিরবিহীন কোনো হামলা হয়। তাইওয়ানকে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে বাইডেন প্রশাসন পরে সেই বক্তব্য থেকে সরে এসে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

১৯৭৯ সালের একটি আইনের আওতায় ওয়াশিংটন নিয়মিতভাবে তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহ করে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্কও রয়েছে।

শনিবারের বিবৃতিতে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মার্কিন কর্মকর্তারা ও ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, ওয়াশিংটনের নীতি আগের মতোই রয়েছে। তারা আরও জানায়, তাইপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে কাজ চালিয়ে যাবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চীনের সামরিক হুমকি এই অঞ্চলের একমাত্র প্রকৃত অনিরাপত্তা। তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি শুধু তাইওয়ানের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিই নয় বরং আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধও।

সম্পর্কিত