ইয়েমেন পরিস্থিতি

কাহবুবের পাহাড়ে তীব্র লড়াই, যুক্তরাষ্ট্রকে না জড়ানোর হুঁশিয়ারি হুতিদের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ০৯
ইয়েমেনের হোদেইদা প্রদেশের খাওখাহ এলাকায় পিকআপের ওপর হুতিদের যোদ্ধারা। ছবি: আল-মাসিরাহ টিভি
ইয়েমেনের হোদেইদা প্রদেশের খাওখাহ এলাকায় পিকআপের ওপর হুতিদের যোদ্ধারা। ছবি: আল-মাসিরাহ টিভি

ইয়েমেনের কাহবুব পাহাড় দখলকে কেন্দ্র করে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পাহাড়শ্রেণি বাব আল-মান্দেব প্রণালির খুব কাছে, তায়েজ ও লাহিজ প্রদেশের সীমান্তে অবস্থিত। এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূল ও দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকার ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারবে।

চলতি মাসে লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দ্রুত অগ্রসর হয়ে মোখা বন্দর ও মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর কাহবুব পাহাড়ের দিকে এগোচ্ছে হুতিরা।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাহবুবের উঁচু অবস্থান থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও মায়ুন দ্বীপের ওপর নজর রাখা যায়। ফলে পাহাড়শ্রেণিটির নিয়ন্ত্রণ হুতিদের উপকূলীয় অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করতে পারে।

সরকারপন্থী বাহিনী জানিয়েছে, কাহবুব এলাকায় হুতিদের হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। ন্যাশনাল শিল্ড ব্রিগেডসের দাবি, হুতিদের তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে তারা। দক্ষিণের জায়ান্টস ব্রিগেডসও হুতিদের অবস্থান ও সরবরাহপথ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে কাহবুবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি রয়েছে। সরকারি বাহিনী বলছে, পাহাড়শ্রেণির বড় অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় হুতিরা অবস্থান ধরে রেখেছে বলেও স্বীকার করেছে তারা। হুতিরা সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকা দখল করে পাহাড়ি অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে সরকারপন্থী বাহিনী।

ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার ফলে যুদ্ধের কৌশলগত চিত্রও বদলে যাচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গত দুই সপ্তাহের লড়াইয়ে অন্তত ১ লাখ ১২ হাজার মানুষ দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার মানুষ সমুদ্রপথে পালিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে মার্কিন স্বার্থে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুতিরা। বুধবার এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুতিদের সামরিক উপদেষ্টা আবেদ মোহাম্মদ আল-সাওর বলেন, সৌদি আরবকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেন যুদ্ধে জড়ালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন স্বার্থ তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে।

আবেদ মোহাম্মদ আল-সাওর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বহর নিয়ে ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করলে বা বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করবে হুতিরা। এমন পরিস্থিতিতে তারা পাল্টা লড়াই করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে হুতিদের নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি যুক্তরাষ্ট্রকে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেন। তাঁর বক্তব্যের পরই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, রোববার হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার প্রস্তুতি নিয়েও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে হুতিদের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ করেছে। এপি জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও হুতিদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। হুতিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে না। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও স্থাপনার ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান আলাদা।

এ অবস্থায় কাহবুব পাহাড়ের লড়াই শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ড দখলের সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে হুতিদের অগ্রযাত্রা এবং সেখানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের হুমকি ইয়েমেনের যুদ্ধকে আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত