ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার তথ্য দিয়ে আবার ইরানে হামলা করিয়েছে ইসরায়েল!

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে ইরানে পুনরায় হামলার উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন হামলার সিদ্ধান্ত নিতেই ট্রাম্পকে ওই তথ্য সরবরাহ করা হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মতে, সম্প্রতি ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যে দাবি করা হয়, ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে ইরান। এই ‘হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্র’ সংক্রান্ত তথ্যই ওয়াশিংটন-তেহরানের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে চাপের মুখে ফেলে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

এক সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে কথিত হত্যা ষড়যন্ত্রের এই তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আসে। তবে অন্য আরেকটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এ ধরনের পরিকল্পনার গুঞ্জন পাচ্ছিল।

কিছু মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান চালাবেন নাকি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখবেন তা নিয়ে ভাবছিলেন, ঠিক সেই সময়ে তাঁর সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করতেই হয়তো ইসরায়েল এই গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে।

সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করেনি এবং ইসরায়েলি সতর্কবার্তা পাওয়ার আগে ওয়াশিংটন এ সংক্রান্ত কোনো ইরানি পরিকল্পনার ওপর নজর রাখছিল না।

ইরান অবশ্য গত কয়েক বছরে একাধিকবার ট্রাম্পের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে যুক্তরাষ্ট্র হত্যার করার পর থেকে এমন হুমকি দিয়ে আসছে দেশটি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের জানাজার নামাজে অংশ নেওয়া শোকসন্তপ্তরাও ট্রাম্পকে হত্যার দাবিতে স্লোগান দিয়েছেন। দেখিয়েছে, ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’ লেখা ব্যানার।

চলতি সপ্তাহে আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) মার্কিন নেতাকে—অর্থাৎ আমাকে সরিয়ে দিতে চায়। আমি তাদের প্রত্যেক তালিকায় আছি।’

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ফের হামলা চালানোর পর ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ভিন্ন স্বার্থের কারণে দুই নেতার সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।

নেতানিয়াহু সামরিক লক্ষ্য অর্জনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কায় সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছিলেন।

গত ২ জুন ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে এ নিয়ে উত্তপ্ত ফোনালাপ হয় বলে দাবি করেছে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম। যদিও ট্রাম্প জনসমক্ষে একে ‘খুব ভালো ফোনালাপ’ দাবি করেছিলেন। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ (ক্রেজি) বলে গালি দিয়েছিলেন।

আর যুক্তরাজ্যের দ্য টেলিগ্রাফ দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতি মামলার দিকে ইঙ্গিত করে ওই ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, ‘তুমি আস্ত পাগল। আমি না থাকলে তুমি এখন কারাগারে থাকতে। আমি তোমার পিঠ বাঁচাচ্ছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। সবাই এখন ইসরায়েলকেও ঘৃণা করছে।’

জুন মাসেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, ইসরায়েলের উচিত মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনাকে সম্মান করা। বর্তমানে বিশ্বে তারাই ইসরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র হিসেবে অবশিষ্ট রয়েছে।

গত রোববার (৫ জুলাই) নেতানিয়াহু উপহাস করে বলেন, ‘আমাদের আরও কিছু বন্ধু রয়েছে, যেমন ভারত নামের একটি ছোট দেশ। আপনারা তো জানেনই, তাদের ১৪০ কোটি মানুষ রয়েছে এবং সেখানে আমাদের বিশাল সমর্থন রয়েছে।’

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটলের প্রতিচ্ছবি হিসেবেই এসব বাক্যবিনিময় হচ্ছে।

তবে গতকাল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু পুনরায় ফোনে কথা বলেছেন। তাঁরা দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ‘সমন্বয় বজায় রাখতে’ একমত হয়েছেন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত