‘তুরস্কের সঙ্গে অর্থহীন সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন নেতানিয়াহু’

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ২১: ৪৮
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চেয়েছে তুরস্ক। ছবি: রয়টার্স
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চেয়েছে তুরস্ক। ছবি: রয়টার্স

সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তুরস্কের সঙ্গে ইসরায়েলকে ‘অর্থহীন সংঘাতে’ জড়ানোর ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছে ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ।

রোববার (২৩ আগস্ট) এক সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে সংবাদপত্রটি।

হারেৎজ জানিয়েছে, ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগে গাজা ও লেবাননে যুদ্ধ শুরু করেছেন নেতানিয়াহু। নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে পশ্চিম তীরে। এমন কয়েকটি প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তের মধ্যেই উত্তর সিরিয়ায় নতুন একটি ফ্রন্ট খুলেছেন তিনি। এতে তুরস্কের সঙ্গে ইসরায়েলের উত্তেজনাও বাড়ছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলের তুরস্কবিরোধী বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইসরায়েল। বিমানঘাঁটিটির রানওয়েতে আটটি হামলায় সেখানকার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণ ঠেকাতেই ওই হামলা চালানো হয়েছে। তবে আঙ্কারা ও ওয়াশিংটন ইসরায়েলের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে চমক দেখানোর মতো কিছু করতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন নেতানিয়াহু।

হামলার পর তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, হামলার আগে বা হামলার সময় আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের কোনো সামরিক মিশন ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া-ইরাকবিষয়ক বিশেষ দূত থমাস বারাকের সতর্কতার কথাও তুলে ধরেছে হারেৎজ। বারাক বলেছেন, ইসরায়েলের ওই হামলা তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারত। এমনকি ইসরায়েল এমন কিছুই চেয়েছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বারাক বলেছেন, তুরস্কের ইসরায়েলে হামলা চালানোর বা দেশটির সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েল ‘অযৌক্তিকভাবে’ এমন কিছু করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

হারেৎজ বলেছে, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো সিরিয়াকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে ইসরায়েল এর বিপরীত পথে হাঁটছে। এতে শুধু সিরিয়া নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোকেও দূরে ঠেলে দিচ্ছে ইসরায়েল।

পত্রিকাটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া নতুন ও জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলকে নতুন নীতি নিতে হবে। শুধু বোমা হামলা চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বা হুমকি ঠেকানো সম্ভব নয়। এর বিকল্প হিসেবে কূটনীতি ও সুপরিকল্পিত নীতি প্রয়োজন।

হারেৎজ বলছে, নেতানিয়াহু যখন উত্তর সিরিয়ায় ‘নির্ভুল অভিযান’ নিয়ে গর্ব করছেন, তখন তাঁর চোখের সামনেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন জোট তৈরি হচ্ছে। অথচ ইসরায়েল সেই জোটের অংশ নয়।

পত্রিকাটি বারাকের দেওয়া সতর্কতা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার এবং তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো থেকে ইসরায়েলকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলার পর সিরিয়া জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদে দুটি অভিন্ন চিঠি পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা, বিমান হামলা, অনুপ্রবেশ ও অপহরণ সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে এসব পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে আরও উত্তেজনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়াজুড়ে হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েল।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত