‘আ.লীগের’ পিপি সুমনকে ঠেকাতে কার্যালয়ে তালা
স্ট্রিম সংবাদদাতানারায়ণগঞ্জ
-9c37ac-480x270.webp)
নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সুমন মিয়া কার্যালয়ে ঢুকতে পারছেন না। তাঁর বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে আদালতপাড়ায় মিছিল করেছেন একদল আইনজীবী। পরে তাঁরা কার্যালয় তালা দিয়ে সামনে বেঞ্চ রেখে দিয়েছেন।
গত ২৫ আগস্ট আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের (জিপি-পিপি শাখা) আদেশে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি নিয়োগ দেওয়া হয় সুমন মিয়াকে। তিনি খোরশেদ আলম মোল্লার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা। জাতীয়তাবাদী দল সমর্থিত খোরশেদকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিয়োগ দেওয়া হয়।
আইনজীবীরা জানান, সুমন মিয়া ঢাকায় আইনজীবী হিসেবে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতেন। সম্প্রতি তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ নেন। তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে বিরোধিতা করছেন আইনজীবীদের একাংশ। সুমনের নিয়োগ বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
সরেজমিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপির কার্যালয়ের দরজায় তালা পাওয়া যায়। দরজার সামনে একটি কাঠের বেঞ্চ রেখে দেওয়া হয়েছে। আদালতপাড়ায় সেবা নিতে আসা অনেকে সেখানে বসে সময় কাটাচ্ছেন। প্রায় এক মাস নিয়োগ পেলেও পিপির নামের সাইনবোর্ডে খোরশেদ আলম মোল্লাই রয়েছে।
-5af4cb.jpeg)
জানতে চাইলে সুমন মিয়া বলেন, আইন মন্ত্রণালয় আমাকে পিপি হিসেবে যোগ্য মনে করে নিয়োগ দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জে যোগদানও করেছি। কিন্তু বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছি না। কতিপয় আইনজীবী আমার নিয়োগ মেনে নিতে পারছেন না। তাঁরা আমাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন। কোর্ট প্রাঙ্গণে ঢুকতে দিচ্ছেন না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। আমি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এই ব্যাপারে সদ্য সাবেক পিপি খোরশেদ আলম মোল্লার নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি। তবে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান বলেন, ‘আমরা পিপিকে বলেছি– আমাদের এই কোর্টে একজন দরকার। তিনি আপাতত একজনকে দিয়ে কোর্ট চালানোর ব্যবস্থা করেছেন। উনি (সুমন মিয়া) রাষ্ট্রের নিয়োগপ্রাপ্ত। রাষ্ট্র তাঁকে বসাবে। এর বাইরে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’
তিনি আরও বলেন, সুমন মিয়া আমাদের সদস্য নন। তিনি ঢাকা বারের সদস্য। নারায়ণগঞ্জে প্র্যাকটিস করার জন্য তাঁকে দেওয়া হয়েছিল।
সুমন মিয়ার অনুপস্থিতিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পিপির দায়িত্ব অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আজিজুল হক হান্টু পালন করছেন বলে জানা গেছে।
.png)






