বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শেষবার শিক্ষক রনজিলা, চোখের জলে বিদায় দিল সহকর্মী-শিক্ষার্থীরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ২০: ২৭
বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীনের নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীনের নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকার সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে নিহত বগুড়ার প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীনকে চোখের পানিতে শেষ বিদায় জানিয়েছেন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। রোববার (৩০ আগস্ট) তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শেষবারের মতো প্রিয় প্রধান শিক্ষককে দেখতে বিদ্যালয়ে এসেছেন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেনা প্রাঙ্গণটি আজ যেন নীরব শোকে আচ্ছন্ন। যে বিদ্যালয়ে তিন দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা করেছেন, সেখানেই আজ তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রনজিলা পারভীনের স্বামী আব্দুল মতিন জানান, চোখের চিকিৎসা করাতে শুক্রবার রাতে বাসে করে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রনজিলা। শনিবার ভোরে রিকশায় করে ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবন এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেন। এতে রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি।

পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল রনজিলার, কিন্তু ফিরলেন নিথর দেহে।

বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকায় স্বামী আব্দুল মতিন ও একমাত্র মেয়ে রাইসা আক্তারকে নিয়ে থাকতেন তিনি। হঠাৎ তার এমন মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে পরিবার, স্বজন, প্রতিবেশী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে। মাকে হারিয়ে একমাত্র সন্তান রাইসাও যেন নির্বাক।

শনিবার দিবাগত রাতে রনজিলার লাশ বগুড়ায় পৌঁছায়। রোববার (৩০ আগস্ট) বাদ জোহর বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ আসর তরফসরতাজ গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সহকারী শিক্ষক মেহেনাজ আফরীন ও মাছুমা খাতুন বলেন, ‘আমরা আজ থেকে অভিভাবকহারা হয়ে গেলাম।’ তারা জানান, রনজিলা পারভীন প্রতিদিন সবার আগে বিদ্যালয়ে আসতেন। নিয়মিত ক্লাস নিতেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়ে সবসময় খোঁজ রাখতেন। তার এমন চলে যাওয়া তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

শিক্ষার্থী ইকবাল ও রাকিব জানায়, রনজিলা ম্যাডাম তাদের খুব আদর করতেন। কঠিন বিষয়গুলোও সুন্দর করে বুঝিয়ে দিতেন। প্রিয় শিক্ষককে এভাবে হারিয়ে তারা কষ্ট পেয়েছে।

রনজিলার স্বামী আব্দুল মতিন এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। রনজিলার একমাত্র সন্তান ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমার মতো আর যেন কেউ এভাবে মা হারা না হয়। আমি মায়ের মৃত্যুর ঘটনার বিচার চাই।’

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রনজিলা পারভীন ১৯৮৮ সালের জানুয়ারিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে পরে পদোন্নতি পেয়ে বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হন। তিন দশকের বেশি সময় শিক্ষকতা শেষে শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা নিয়েই বিদায় নিলেন তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত