leadT1ad

খুলনায় যৌথ অভিযানের মধ্যেই বিএনপি নেতা খুন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খুলনা

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ১৯: ১৪
রফিকুল ইসলাম গাজী। ছবি: সংগৃহীত

খুলনা নগরীতে রফিকুল ইসলাম গাজী (৪৫) নামে বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর লবণচরা থানার মাথাভাঙা এলাকার কাজীপাড়া বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

রফিকুল দক্ষিণ লবণচরার মাথাভাঙ্গার রতন গাজীর ছেলে। তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

খুলনা নগরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যেই শুক্রবার প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রফিকুল পাথর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘ঢাকাইয়া রফিক’ নামে পরিচিত। কারণ, বেশির ভাগ সময় ঢাকাতেই থাকতেন। মাঝেমধ্যে এলাকায় আসতেন।

বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আসাবুর রহমান হাওলাদার জানান, রফিকুল বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন।

স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার পর কাজীপাড়া বাজারে রফিকুল ইসলাম বসেছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট পরা এক ব্যক্তি তাঁর তলপেটে গুলি করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা রফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) রেজাউর রহমান জানান, এই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। দুর্বৃত্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের তথ্যে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত খুলনা নগরে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পরে সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে গোয়েন্দারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, খুলনায় অপরাধ জগতের অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে ঘুরেফিরে আটটি সন্ত্রাসী গ্রুপ জড়িত। এসব হত্যাকাণ্ডে আসামি গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিকভাবে পুলিশের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়– মাদক কারবার, সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে বিরোধ, আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে আসা, রাজনৈতিক পক্ষগুলোর দ্বন্দ্বের জেরে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে।

রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে অর্থ আয়, বাটোয়ারা, জমাজমির বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেও খুন হচ্ছে। এ ছাড়া আধিপত্য বিস্তার, দখল বাণিজ্য, অন্য দলের সঙ্গে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ছাড়াও দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বাড়ছে রেষারেষি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে গ্রেপ্তার ও মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানানো হলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধের নেপথ্য শক্তি থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। কেউ ধরা পড়লেও দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আবার পুরোনো কাজে জড়িত হচ্ছেন।

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, শহরের খুনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় খবর পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নিহতদের কারও কারও সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলেও জানান তিনি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত