রয়টার্সের প্রতিবেদন/সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

সেপ্টেম্বরে বড় ধরনের ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্ট্রিম গ্রাফিক
সেপ্টেম্বরে বড় ধরনের ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্ট্রিম গ্রাফিক

দেশজুড়ে দ্রুত বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরে এ রোগে ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছেন ১১৭ জন। সেপ্টেম্বরে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে রোগীর চাপ। আগামী কয়েক সপ্তাহে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে রয়টার্সের এক প্রতিবেদন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৮টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৫৮, যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, আগস্টে চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার জানান, তাঁর নজরদারি ও পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী, এখনো ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু সংক্রমণের দিক থেকে বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ মাসে পরিণত হতে পারে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু ছড়ানোর অনুকূল থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালে শয্যার সংকট

৩২ বছর বয়সী জাহিদ হাসানের কাছে ডেঙ্গুর এই প্রাদুর্ভাব ব্যক্তিগত দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসান তাকে সরকারি তিনটি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু কোনো হাসপাতালেই শয্যা খালি পাননি বলে জানান তিনি।

হাসান বলেন, ‘আমি ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। একজন বাবা হিসেবে নিজের সন্তানকে শারীরিকভাবে আরও খারাপ হতে দেখা, অথচ কোথায় তাকে ভর্তি করা যাবে তা না জানা—এটা অসহনীয় ছিল।’

পরে এক আত্মীয়ের সহায়তায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শয্যা পান তিনি। সেখানে তাঁর ছেলেকে সাত ব্যাগ রক্ত ও প্লাজমা দেওয়া হয়। পরে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

হাসান বলেন, ‘ওই দিনগুলো আমাদের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো ছিল। সব সময় ভয়ে ছিলাম, ছেলের কিছু একটা হয়ে যেতে পারে।’ তাঁর ছেলে এখনো দুর্বল এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে জানান তিনি।

ডেঙ্গু রোগীর জ্বর কমে যাওয়ার পরও দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। এ সময় রক্তনালি থেকে প্লাজমা বেরিয়ে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, শক ও গুরুতর রক্তক্ষরণের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর কমার পরে রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।

চিকিৎসক অধ্যাপক তারেক আলম জানান, হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। পেটব্যথা, মাথা ঘোরা ও অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো সতর্কসংকেতগুলো উপেক্ষা করা উচিত নয়।

কবিরুল বাশার জানান, ঢাকার পাশাপাশি অন্যান্য বড় শহরের বাইরেও এডিস মশার বিস্তার জেলা ও গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এখন দেশের ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে রাজধানীতে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে শুধু ধোঁয়া দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশা যেখানে প্রজনন করছে, নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সেসব জায়গাকে লক্ষ্য করেই পরিচালনা করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক কার্যক্রমের ঘাটতিকে দায়ী করেন তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত