নজরুলের মতোই বিপ্লবী-সাংবাদিক ছিলেন আবদুস সালাম: রিজভী

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৫৮
 সম্পাদক ও ভাষাসৈনিক আবদুস  সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকীতে আয়োজিত আলোচনা সভায় কথা বলছেন রুহুল কবির রিজভী। সংগৃহীত ছবি
সম্পাদক ও ভাষাসৈনিক আবদুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকীতে আয়োজিত আলোচনা সভায় কথা বলছেন রুহুল কবির রিজভী। সংগৃহীত ছবি

প্রখ্যাত সম্পাদক ও ভাষাসৈনিক আবদুস সালামকে কাজী নজরুল ইসলামের মতোই বিপ্লবী সাংবাদিক আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার (৩০ আগস্ট) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক আবদুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকীতে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রিজভী বলেন, ‘আবদুস সালামের জীবন আলোচনা করলে জাতীয় কবি কাজী নজরুলের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। নজরুল যেমন কবি ও সাংবাদিক ছিলেন, আবদুস সালামও ছিলেন নজরুলের মতো বিপ্লবী ও সাংবাদিক। দুজনই জেল খেটেছেন এবং ১৯৭৬ সালে একুশে পদক পেয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, আবদুস সালাম কোনো হুমকি, অর্থ বা ক্ষমতার কাছে মাথা বিক্রি না করে বস্তুনিষ্ঠ সত্য প্রকাশ করতেন। আজকের যুদ্ধবিগ্রহ ও বিপন্ন পৃথিবীতে তাঁর মতো নীতিবান মানুষের প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি জাতির প্রয়োজনে সমাজকর্মীও হতে হয়। প্রতিকূল সময়েও সাংবাদিকতা ও সাংবাদিক গড়ার প্রতিষ্ঠান তৈরি করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন আবদুস সালাম।

তিনি আরও বলেন, সরকার নিজের ভুলত্রুটির যৌক্তিক সমালোচনা ইতিবাচকভাবেই দেখে। সাংবাদিকেরা নির্ভয়ে সঠিক তথ্য ও মতামত প্রকাশ করতে পারবেন এমন রাষ্ট্রই বানাতে চায় সরকার।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম জানান, তোপখানা রোডের নাম পরিবর্তন করে ‘সাংবাদিক আবদুস সালাম সড়ক’ করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা সরকারের শক্তি বাড়ায়। অ্যাক্টিভিস্ট-জার্নালিস্ট আবদুস সালামের জীবনী থেকে আমাদের তা শিখতে হবে।

দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বলেন, গণমাধ্যম কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আবদুস সালামের শক্তিশালী সংবাদপত্রের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।

বাসসের প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, মানিক মিয়া ও জহুর হোসেন চৌধুরীর মতোই আজীবন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন আবদুস সালাম।

টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক বলেন, নানা ঝড়-ঝঞ্ঝার মাঝেও তিনি সাংবাদিকতাকে আঁকড়ে ধরেছিলেন।

আবদুস সালামের স্বপ্ন পূরণে বিএনপির ৩১ দফার মিডিয়া কমিশন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের সদস্যসচিব সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু।

সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সভাপতি রেহানা সালাম পিতার স্মৃতিচারণ করে ঢাকার একটি সড়ক তাঁর নামে করার অনুরোধ জানান।

সমাপনী বক্তব্যে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ জানান, সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আবদুস সালামের নামে পদক চালুর প্রস্তাব পিআইবি বোর্ডে তুলবেন তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত