বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে বিপাকে নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি শিল্প

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ

লোডশেডিংয়ে থেমে থেমে চলছে নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি কারখানা। সংগৃহীত ছবি
লোডশেডিংয়ে থেমে থেমে চলছে নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি কারখানা। সংগৃহীত ছবি

ঘন ঘন লোডশেডিং ও গ্যাসসংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জের প্রায় ৩ হাজার ছোট-বড় হোসিয়ারি কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে কাজ বন্ধ থাকায় দৈনিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না কারখানাগুলো।

নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ, নয়ামাটি, উকিলপাড়া, পাইকপাড়া, শহীদনগর, বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকার কারখানায় সারি সারি মেশিনের শব্দে কর্মচাঞ্চল্য থাকার কথা। লোডশেডিংয়ের কারণে দিনের বড় অংশজুড়েই এসব কারখানার মেশিন বন্ধ থাকছে। কারখানায় উৎপাদিত পোশাক বিদেশে রপ্তানি না হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর বিপুল চাহিদা রয়েছে।

কারখানার মালিক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান জানান, ‘আমার ছোট কারখানা, পুঁজি কম। ধারদেনা কইরা চালাইতাছি। কিন্তু কারেন্ট যা শুরু করসে! আগে শহরে কম যাইত, অহন গ্রামের চাইতে বেশি যায়। কারেন্ট যতক্ষণ থাকে না, ততক্ষণ বসে থাকি। এতবার কারেন্ট যায় যে প্রতিদিনের টার্গেট পূরণ হয় না।’

লোডশেডিংয়ে থেমে থেমে চলছে নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি কারখানা। সংগৃহীত ছবি
লোডশেডিংয়ে থেমে থেমে চলছে নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি কারখানা। সংগৃহীত ছবি

নয়ামাটির রহমান হোসিয়ারির মালিক বাদশা মিয়া বলেন, ‘কারেন্ট না থাকলে কারিগর বসে থাকে, উৎপাদন বন্ধ থাকে। কারখানা চালাইতে প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকা খরচ। কিশোরগঞ্জ, ভোলা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পাইকাররা নিয়মিত মাল চায়, কিন্তু বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে দিতে পারি না।’

বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালাতে গিয়েও জ্বালানি তেলের সংকটে পড়তে হচ্ছে বলে জানান নয়ামাটির আরেক ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে গ্যাসসংকটের কারণে ডাইং ও ওয়াশিং কারখানায় কাজের গতি কমায় সময়মতো কাপড় ধুয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তাঁরা।

বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাঈদ আহম্মেদ স্বপন জানান, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কারখানা থেকে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার পোশাক দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়।

তিনি বলেন, ‘উৎপাদন কমে যাওয়ায় মালিকরা কারখানার ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও শ্রমিকদের বেতন নিয়ে চিন্তিত। এখনো পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়নি, তবে সরকার বিদ্যুৎসহ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে না পারলে সংকট আরও বৃদ্ধি পাবে।’

লোডশেডিংয়ে থেমে থেমে চলছে নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি কারখানা। সংগৃহীত ছবি
লোডশেডিংয়ে থেমে থেমে চলছে নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি কারখানা। সংগৃহীত ছবি

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) নেইবারহুড অপারেটিং অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসের (এনওসিএস) এক কর্মকর্তা জানান, ‘নারায়ণগঞ্জে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট। আমরা চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারছি। নিয়মিত প্রায় ১০ শতাংশের মতো ঘাটতি থাকছে।’

তিনি দাবি করেন, সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং এই ঘাটতির কারণে কোনো শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি হয়নি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত