নতুন পে স্কেল অনুমোদন

সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ল সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ

>> একযোগে নয়, তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন

>> মোবাইল ভাতা পাবেন সব গ্রেডের কর্মী

>> এখনই আসছে না ‘এক গ্রেড এক পেনশন’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

পে-স্কেল। প্রতীকী ছবি
পে-স্কেল। প্রতীকী ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬’ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই বেতনকাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন (২০তম গ্রেড) নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ (১ম গ্রেড) ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। নতুন স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের কর্মীদের মূল বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ।

আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বেতনকাঠামোর অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতনকাঠামো কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

নতুন পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধির হার।
নতুন পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধির হার।

মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫–এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সচিব কমিটি যে সুপারিশ করেছিল, তা পর্যালোচনা করেই নতুন পে স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক-বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মী উপকৃত হবেন।

বাস্তবায়ন হবে তিন ধাপে

জানা গেছে, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ এই দুই অর্থবছরে নতুন বেতনস্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বল্প আয়ের অর্থাৎ ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মূল বেতন ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর নতুন স্কেলের ভাতা কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে। জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতনকাঠামোও আলাদাভাবে একই নিয়মে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।

মোবাইল ভাতা, প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালু

নতুন বেতনস্কেলে বেশ কিছু সুবিধায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ডিজিটাল যোগাযোগের জন্য এখন থেকে সব গ্রেডের কর্মচারীরা মোবাইল ও ইন্টারনেট ভাতা পাবেন। এত দিন শুধু ১ম থেকে ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তারাই এ সুবিধা পেতেন।

এ ছাড়া প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) সন্তানের জন্য মাসিক তিন হাজার টাকা ভাতা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আপাতত আসছে না ‘এক গ্রেড এক পেনশন’

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সামরিক ও অসামরিক সব ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওআরওপি পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ এবং অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগের তথ্য না থাকায় সরকার এখনই এটি বাস্তবায়ন করছে না। ২০৩০ সালের মধ্যে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বর্তমান অবসরভোগীদের নিট পেনশন স্ল্যাবভিত্তিক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। যাঁদের মাসিক নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার নিচে, তাঁদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। একইভাবে ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের নিট পেনশন ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। নতুন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি উপকৃত হবেন।

বেতনবৈষম্য কমানোর উদ্যোগ

নতুন স্কেলে আগের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে ওপরের ও নিচের দিকের গ্রেডের মধ্যে বেতনের পার্থক্য বা বৈষম্য কমানো হয়েছে। ন্যায্যতার বিবেচনায় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন যেখানে ১০০ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন বেড়েছে ১৪২ শতাংশ।

সরকার মনে করছে, নতুন এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ফলে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে, যার সংস্থান ইতিমধ্যে বাজেটে রাখা হয়েছে। এই নতুন পে স্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি জনপ্রশাসনে গতিশীলতা আনবে বলে আশা করছে সরকার। শিগগিরই অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত