নাটক মঞ্চায়নে তাড়ুয়াকে নিয়ে শিল্পকলার ‘নাটক’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা। ছবি: সংগৃহীত

নাটক মঞ্চায়নে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ২২, ২৩ ও ২৪ এপ্রিল হল বরাদ্দ পায় নাট্যদল ‘তাড়ুয়া’। সেভাবে প্রস্তুতি সারে তারা। তবে তিন দিন আগে গত রোববার (১৯ এপ্রিল) দেখা দেয় বিপত্তি।

ওইদিন তাড়ুয়ার প্রধান ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর বাকার বকুলকে শিল্পকলা থেকে শুধু ২৩ এপ্রিলের বরাদ্দ বাতিলের কথা জানানো হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে শিল্পকলার মহাপরিচালককে চিঠি দেন বকুল। এরপর মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শিল্পকলা তাড়ুয়ার আগের হল বরাদ্দ ঠিক আছে বলে জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে শিল্পকলার নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী স্ট্রিমকে বলেন, ‘মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি তাড়ুয়াকে আগের বরাদ্দ ঠিক রাখতে বলেছেন। বিষয়টি তাড়ুয়াকে জানানো হয়েছে।’ তাড়ুয়ার প্রধান বাকার বকুলও বিষয়টির সুরাহা হয়েছে বলে স্ট্রিমকে জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) অনুষ্ঠান ঘিরে বিপত্তি দেখা দেয়। আগামী ২৩ এপ্রিল সরকারের একাধিক মন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাসাস সংগীতজ্ঞ লোকমান হোসেন ফকিরকে নিয়ে অনুষ্ঠানের জন্য হল চাইলে না করতে পারেনি শিল্পকলা একাডেমি। ফলে তারা তাড়ুয়ার আগের বরাদ্দ বাতিল করে।

জাসাসের কারণে বরাদ্দ বাতিলের বিষয়ে শিল্পকলা একাডেমির কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাসাসের এক সদস্য জানিয়েছেন, ২২ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের কোনো কর্মসূচি নেই। ২৩ এপ্রিল লোকমান হোসেন ফকিরকে নিয়ে শিল্পকলাই অনুষ্ঠান করতে চেয়েছে। শেষ পর্যন্ত এটি হবে কিনা, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

গত ২ ফেব্রুয়ারি আবেদন করে ১৬ মার্চ তিন দিনের জন্য শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তন বরাদ্দ পায় তাড়ুয়া। ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’ নামে যুদ্ধবিরোধী নাটক মঞ্চায়নের জন্য এই বরাদ্দ পায় তারা। এরপর নাটকের মহড়া, এমনকি টিকিট বিক্রিও শুরু করে।

শিল্পকলা একাডেমির আচরণে হতাশা ব্যক্ত করে বাকার বকুল বলেন, আমাদের নাটকটি অনেক বড় ক্যানভাসের। টানা কয়েক দিনের জন্য হল প্রয়োজন ছিল। প্রায় ৬-৭ মাস অপেক্ষা করে শিডিউল পেয়েছি। তিন দিন আগে শো ক্যানসেল করতে হলে অনেক বড় ক্ষতি হতো।

তিনি আরও বলেন, হল বাতিলের চিঠি পাওয়ার পর দীপক গোস্বামীর সঙ্গে কথা বললে তিনিই জানান– প্রশাসনের জরুরি নির্দেশে বরাদ্দ বাতিল করতে হয়েছে। যাই হোক, শেষপর্যন্ত সুরাহা হয়েছে। এতেই আমরা খুশি।

সম্পর্কিত