পাঠ্যবইয়ের একপেশে ইতিহাস ‌‌‘নিরপেক্ষভাবে’ সংশোধন করা হচ্ছে: এনসিটিবি চেয়ারম্যান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
ঢাকা

এনসিটিবি চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম পাটোয়ারী। সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই পরিমার্জন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, পাঠ্যপুস্তকে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বিচ্যুতি ও একপেশে ইতিহাস নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এনসিটিবি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে এসব পরিবর্তন আসবে বলে জানান তিনি। মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, পাঠ্যবইয়ে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পাঠ্যবই পরিমার্জন এবং একটি যুগোপযোগী নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘অতীতে পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসের যে বিচ্যুতি ঘটেছিল, এবার তা বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বীর নায়কদের কার কী অবদান, তা সঠিকভাবে পাঠ্যবইয়ে স্থান পাবে। ইতিহাসের একপেশে স্বীকৃতি সংশোধন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের সঠিক ও বিস্তারিত ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মাহবুবুল হক পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘২০২৭ সালের জন্য আমরা পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ করছি। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন কারিকুলামও হতে পারে।’

এনসিটিবি চেয়ারম্যান জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭টি এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ৩৬টি বই পরিমার্জনে দেশের প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) গবেষক এবং অভিজ্ঞ স্কুলশিক্ষক রয়েছেন। মাধ্যমিকের বই পরিমার্জনের কাজ শেষ করে এখন প্রাথমিকের বই নিয়ে কাজ চলছে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করে মুদ্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি ভার্সনসহ সব স্তরের মোট ৬০১টি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে ২০২৭ সালের শুরুতেই পরিমার্জিত ও নির্ভুল বই হাতে পায়, সেই লক্ষ্যেই দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনটি নতুন বৈচিত্র্যময় বই যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক একটি বই প্রণয়ন করা হচ্ছে। শিশুদের শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে এবং ডিজিটাল আসক্তি কমাতে সাতটি গেমসের ভিত্তিতে বইগুলো সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বই প্রণয়ন করা হচ্ছে, যাতে তারা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে। পর্যায়ক্রমে এটি অন্য শ্রেণিতেও যুক্ত করা হবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা (টিভিই) বিষয়ে একটি উদ্দীপনামূলক বইও আগামী বছর যুক্ত করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত