কুষ্টিয়ায় পীর শামীমের দেহাবশেষ সরানোর ঘটনায় মামলা, পুলিশ মোতায়েন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ১৭
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পীর শামীমের দরবার প্রাঙ্গণের কবর থেকে দেহাবশেষ তুলে গোরস্তানে নেওয়া হয়। স্ট্রিম ছবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পীর শামীমের দরবার প্রাঙ্গণের কবর থেকে দেহাবশেষ তুলে গোরস্তানে নেওয়া হয়। স্ট্রিম ছবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিহত পীর শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান দেহাবশেষ কবরস্থান থেকে তুলে দরবার প্রাঙ্গণে নেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করেন তাঁর ভাই ফজলুর রহমান।

এদিকে ওই ঘটনার পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবরটি পাকা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে শুক্রবার (৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার ফিলিপনগর কবরস্থান থেকে পীর শামীমের দেহাবশেষ তুলে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘শামীমি বাবার দরবার শরিফে’ দাফন করা হয়। গতকাল সকালে বিষয়টি জানতে পারেন তাঁর স্বজনেরা। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দরবার প্রাঙ্গণের কবর থেকে দেহাবশেষ তুলে বিকেল ৪টার দিকে ‘৫০০ বিঘা মাঠ’ নামে পরিচিত কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, রাতের আঁধারে কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছে, তা শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সংখ্যা উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেহাবশেষ পুনরায় দাফনের পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কবরস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছিল, তা তদন্ত করে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে দেহাবশেষ স্থানান্তরের ঘটনা যাতে না ঘটে, এ জন্য পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবরটি পাকা করে দেওয়া হবে। দু-একদিনের মধ্যে পরিবার সেটা বাস্তবায়ন করবে।

এর আগে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় মারধর করে তাঁকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এজাহারভুক্ত চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত