বিয়ানিবাজারে আগামী বছর থেকে বন্ধের শর্তে এবারের নৌকাবাইচের অনুমোদন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সিলেট

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৫৪
সিলেটের সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ। সংগৃহীত ছবি
সিলেটের সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ। সংগৃহীত ছবি

আগামী বছর থেকে আর নৌকাবাইচ অনুষ্ঠান করা যাবে না শর্তে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সুনাই নদীতে এবারের আয়োজনের অনুমতি মিলেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুরব্বি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বছর নির্ধারিত সময়েই প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আগামী ২৮ আগস্ট সময়সূচি অনুযায়ী বাহাদুর গাংপার যুব সমাজের উদ্যোগে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

শনিবার রাতে বারইগ্রাম বাজারে পূবালী ব্যাংক পিএলসির নিচতলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন গ্রামের যুবক, মুরব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। দীর্ঘ আলোচনায় নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধ, স্থানীয়দের মতামত এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন। উপস্থিত ছিলেন মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান, লাউতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন, ইউপি সদস্য আবদুল লতিফসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, নৌকাবাইচ এ অঞ্চলের পুরোনো লোকজ ঐতিহ্যের অংশ। কোনো আয়োজনকে কেন্দ্র করে যেন স্থানীয়দের মধ্যে বিভেদ বা উত্তেজনা তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তবে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে অবস্থান নেওয়া মাওলানা নুরুর রহমান মাসুক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হক কাসেমী এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হোসেন আহমদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।

চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনের ভাষ্য, স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে ওই ব্যক্তিরা সম্মতি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে প্রতিবাদ করার বিষয়টিও তারা অস্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।

দেলওয়ার হোসেন বলেন, এ বছর নৌকাবাইচ আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২৮ আগস্ট প্রতিযোগিতা হবে। তবে আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে এ ধরনের আয়োজন না করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

এদিকে নৌকাবাইচ আয়োজন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্ধারিত ২৮ আগস্টই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজন নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে। এখন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

তবে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম বলেন, নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা তিনি জেনেছেন।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদারের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত