স্ট্রিম সংবাদদাতা

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোনের’ বালিয়াড়িতে চার লেনের সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই এই প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।
নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জাইকার অর্থায়নে গত বছরের ১৭ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত ২৮ মিটার প্রশস্ত ও ১.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ করছে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই)।
কক্সবাজার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রুমেল বড়ুয়া জানান, সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যবর্ধন, ভাঙনকবলিত এলাকা সুরক্ষা ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে পৌরসভার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন পরিবেশবাদীরা। ক্লাইমেট জাস্টিস বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী জাবেদ নূর শান্ত বলেছেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত বিশ্বে পরিচিত তার বালিয়াড়ির জন্য। সেই বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ হলে সৈকতের আকর্ষণ নষ্ট হবে এবং পর্যটকেরা কক্সবাজারের প্রতি আগ্রহ হারাবেন।
তিনি বলেন, সৈকতের বালিয়াড়ি শুধু বালুর স্তূপ নয়। ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাত ঠেকানো, উপকূলীয় ক্ষয় কমানো এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় এগুলো প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা দেয়ালের কাজ করে। আবার বালিয়াড়িতে সাগরলতাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় উদ্ভিদ বালু আটকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করে। সেই বালিয়াড়ি গুঁড়িয়ে সড়ক নির্মাণ উদ্বেগের।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান, সৈকতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করা এবং সেখানে থাকা স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ২০১৩ সালের মহাপরিকল্পনায় পৌরসভা এলাকার জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী রেখা থেকে সৈকতসংলগ্ন প্রথম ৩০০ মিটার এলাকা ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকায় স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। এই কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কক্সবাজারের আইনজীবী ইউসুফ আরমান জানান, সৈকতে সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণে সর্বোচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা কাজ বন্ধ না করলে জনস্বার্থে তিনি কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠাবেন।
সরেজমিন পুরোনো সড়কের পশ্চিম পাশে বিস্তীর্ণ এলাকায় বালু ফেলে উঁচু ও সমতল করা হয়েছে। ভরাট এই অংশের ওপর দিয়ে সড়কের কাজ চলছে। কোথাও কোথাও সড়কের জায়গা তৈরি করতে বালিয়াড়ি কেটে ফেলা হয়েছে। উপড়ে ফেলা হয়েছে সাগরলতার ঝোপ।
কক্সবাজারের পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) চেয়ারম্যান মুজিবুল হক জানান, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে সমুদ্রসৈকতের ভাঙন প্রতিরোধ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ডেইল তৈরি করা হয়। পাশে বিকল্প জায়গা থাকার পরও সড়ক নির্মাণে সেই ডেইল ধ্বংস করা হচ্ছে। এই নির্মাণকাজ দ্রুত বন্ধ হওয়া দরকার।
সড়ক নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিইর প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাহীন মিয়া বলেন, পরিবেশের ছাড়পত্র নেওয়ার বিষয়টি কক্সবাজার পৌরসভা বলতে পারবে।
পৌরসভার সচিব রাসেল চৌধুরী বলেন, ‘এটি বিদেশি সংস্থার অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে। এখানে কারও অনুমোদনের দরকার নেই। এটি টেকনিক্যাল ইস্যু, এটি আমরা বুঝব।’
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, সৈকতের বালিয়াড়ি ভরাট করে সড়ক নির্মাণের এলাকা অধিদপ্তরের একটি দল পরিদর্শন করেছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তবে জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, সড়কটি মাস্টারপ্ল্যানের অংশ। শহর সুরক্ষা বাঁধ হিসেবে পৌরসভার তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ চলছে। এরপরও কোনো ব্যতয় ঘটলে খতিয়ে দেখা হবে।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোনের’ বালিয়াড়িতে চার লেনের সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই এই প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।
নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জাইকার অর্থায়নে গত বছরের ১৭ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত ২৮ মিটার প্রশস্ত ও ১.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ করছে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই)।
কক্সবাজার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রুমেল বড়ুয়া জানান, সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যবর্ধন, ভাঙনকবলিত এলাকা সুরক্ষা ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে পৌরসভার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন পরিবেশবাদীরা। ক্লাইমেট জাস্টিস বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী জাবেদ নূর শান্ত বলেছেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত বিশ্বে পরিচিত তার বালিয়াড়ির জন্য। সেই বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ হলে সৈকতের আকর্ষণ নষ্ট হবে এবং পর্যটকেরা কক্সবাজারের প্রতি আগ্রহ হারাবেন।
তিনি বলেন, সৈকতের বালিয়াড়ি শুধু বালুর স্তূপ নয়। ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাত ঠেকানো, উপকূলীয় ক্ষয় কমানো এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় এগুলো প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা দেয়ালের কাজ করে। আবার বালিয়াড়িতে সাগরলতাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় উদ্ভিদ বালু আটকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করে। সেই বালিয়াড়ি গুঁড়িয়ে সড়ক নির্মাণ উদ্বেগের।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান, সৈকতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করা এবং সেখানে থাকা স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ২০১৩ সালের মহাপরিকল্পনায় পৌরসভা এলাকার জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী রেখা থেকে সৈকতসংলগ্ন প্রথম ৩০০ মিটার এলাকা ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকায় স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। এই কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কক্সবাজারের আইনজীবী ইউসুফ আরমান জানান, সৈকতে সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণে সর্বোচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা কাজ বন্ধ না করলে জনস্বার্থে তিনি কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠাবেন।
সরেজমিন পুরোনো সড়কের পশ্চিম পাশে বিস্তীর্ণ এলাকায় বালু ফেলে উঁচু ও সমতল করা হয়েছে। ভরাট এই অংশের ওপর দিয়ে সড়কের কাজ চলছে। কোথাও কোথাও সড়কের জায়গা তৈরি করতে বালিয়াড়ি কেটে ফেলা হয়েছে। উপড়ে ফেলা হয়েছে সাগরলতার ঝোপ।
কক্সবাজারের পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) চেয়ারম্যান মুজিবুল হক জানান, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে সমুদ্রসৈকতের ভাঙন প্রতিরোধ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ডেইল তৈরি করা হয়। পাশে বিকল্প জায়গা থাকার পরও সড়ক নির্মাণে সেই ডেইল ধ্বংস করা হচ্ছে। এই নির্মাণকাজ দ্রুত বন্ধ হওয়া দরকার।
সড়ক নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিইর প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাহীন মিয়া বলেন, পরিবেশের ছাড়পত্র নেওয়ার বিষয়টি কক্সবাজার পৌরসভা বলতে পারবে।
পৌরসভার সচিব রাসেল চৌধুরী বলেন, ‘এটি বিদেশি সংস্থার অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে। এখানে কারও অনুমোদনের দরকার নেই। এটি টেকনিক্যাল ইস্যু, এটি আমরা বুঝব।’
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, সৈকতের বালিয়াড়ি ভরাট করে সড়ক নির্মাণের এলাকা অধিদপ্তরের একটি দল পরিদর্শন করেছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তবে জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, সড়কটি মাস্টারপ্ল্যানের অংশ। শহর সুরক্ষা বাঁধ হিসেবে পৌরসভার তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ চলছে। এরপরও কোনো ব্যতয় ঘটলে খতিয়ে দেখা হবে।
.png)

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে স্বস্তির চেয়ে উদ্বেগই বেশি বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
২৯ মিনিট আগে
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে দুজনের ফাঁসি রায় বহাল ও ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নুসরাতের পরিবার। তবে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছেন তার মা শিরিন আকতার।
১ ঘণ্টা আগে
বগুড়ায় সাইফুল ইসলাম (৫০) নামের সাবেক এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার আশোকোলা পূর্বপাড়া (বাঘোপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সাইফুল ওই গ্রামের আবেদ আলী মণ্ডলের ছেলে। তিনি নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের সদস্য ছিলেন। পুলিশ ও স
২ ঘণ্টা আগে-e50a98-256x144.webp)
কাগজে প্রায় ৩ হাজার ৬৫৯ একরে শাল-গজারির প্রাকৃতিক বন। বাস্তবে এখন তা ঠেকেছে মাত্র ৫০ একরে। প্রাকৃতিক বন দখলের মাধ্যমে করা হয়েছে সামাজিক বনায়ন। বনের বড় অংশে রাবার ও আগর বাগান। কোথাও হচ্ছে আনারস, হলুদ, কলা ও লেবুর চাষ। বুনো শূকর, মেছোবাঘ ও হনুমানের নিরাপদ আবাসে এখন শিয়াল-বানর ছাড়া কোনো কিছুর দেখা মে
৩ ঘণ্টা আগে