ফারাক্কা লংমার্চ দিবস আজ
স্ট্রিম সংবাদদাতা

প্রমত্ত পদ্মার এখন ধু-ধু মরুভূমি। রাজশাহীতে নদীতে জেগে উঠেছে বিশাল বালুচর। কোথাও কোথাও হাঁটুপানিও মিলছে না। নদীর মূল প্রবাহ ভেঙে দুই তীরে ভাগ হয়ে সীমিত হয়ে পড়েছে। মাঝনদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে এখন শুধুই শুকনা বালুর স্তূপ।
পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন জেলে, মাঝি ও নদীকেন্দ্রিক জীবিকার সঙ্গে জড়িত মানুষ। একই সঙ্গে সেচ সংকটে ভুগছেন উত্তরাঞ্চলের কোটি কৃষক।
নদী গবেষকদের মতে, উজানে ভারতের নির্মিত ফারাক্কা ব্যারেজ থেকেই এ সংকটের সূত্রপাত। গঙ্গা নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের পদ্মা নদী ক্রমেই পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন চুক্তিতে পদ্মায় ন্যায্য পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তুলছেন এ অঞ্চলের মানুষ।
রাজশাহী শহরের ওপারে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা চর মাজারদিয়াড় এলাকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব ফুরকন আলী বলেন, দুই দশক আগেও কয়েক মাইল দূর থেকে পদ্মার গর্জন শোনা যেত। এখন সেই শব্দ বহু বছর ধরেই হারিয়ে গেছে। বছরের মাত্র কয়েক মাস নদীতে পানি থাকে, বাকি সময় নদী শুকিয়ে বালুচরে পরিণত হয়।

নদীপারের বাসিন্দারা জানান, সাধারণত জুন মাসের দিকে পদ্মায় পানি বাড়তে শুরু করে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নদী কিছুটা ভরা থাকে। এরপর শীত নামতেই নদীতে চর জেগে ওঠে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার খইবুর রহমান জানান, গত বছরের ১৩ আগস্ট ভরা মৌসুমে রাজশাহীর টি-গ্রোয়েন এলাকায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৪৯ মিটার। অথচ শুক্রবার (১৫ মে) একই স্থানে পানির উচ্চতা নেমে এসেছে মাত্র ৮ দশমিক ১১ মিটারে।
ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উদযাপন কমিটির তথ্যমতে, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির পর বাংলাদেশ শুষ্ক মৌসুমে গড়ে ২০ হাজার কিউসেকেরও কম পানি পাচ্ছে। অথচ ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর আগে শুষ্ক সময়েও বাংলাদেশে ৭০ হাজার কিউসেকের কম পানি প্রবাহিত হতো না। নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষ সেচ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
একই কারণে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় চার কোটি মানুষ এবং দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা কৃষি উৎপাদনে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার নৌপথ। পাশাপাশি পদ্মা অববাহিকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় অকার্যকর হয়ে পড়ছে অনেক অগভীর নলকূপ।
গঙ্গা নদীর ওপর ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিবাদে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান থেকে শুরু হওয়া সেই লংমার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গিয়ে শেষ হয়েছিল বিশাল জনসমাবেশের মাধ্যমে। সে সময় মওলানা ভাসানী ফারাক্কা বাঁধকে বাংলাদেশের জন্য ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

পরে আন্দোলনের চাপের মুখে ভারত ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি করতে বাধ্য হয়। ওই চুক্তির ফলে শুষ্ক মৌসুমেও বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে বেশি পানি পেত। পরে ১৯৯৬ সালে নতুন ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি হলেও তাতে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পায়নি বলে দাবি করছেন নদী গবেষকেরা।
রাজশাহীর নদীগবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ১৯৭৭ সালের চুক্তির সময় বাংলাদেশ শুষ্ক মৌসুমেও পর্যাপ্ত পানি পেত। কিন্তু পরবর্তী চুক্তিতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং দেশে নতুন সরকার এসেছে। তাই ১৯৭৭ সালের আদলে একটি কার্যকর ও ন্যায্য চুক্তি প্রয়োজন, যাতে গঙ্গার পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়। অন্যথায় সরকারের পরিকল্পিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আজ বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ‘১১ দলীয় ঐক্য’। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ডা. শফিকুর রহমান। উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে নাহিদ ইসলামেরও।
অন্যদিকে বিকেলে নগরের বড়কুঠি পদ্মাপাড়ে গণজমায়েত করবে ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উদযাপন কমিটি। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন এম রফিকুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য রাখবেন মোস্তফা কামাল মজুমদার, আজাদ খান ভাসানী, নদীগবেষক মাহবুব সিদ্দিকীসহ অন্যরা।

প্রমত্ত পদ্মার এখন ধু-ধু মরুভূমি। রাজশাহীতে নদীতে জেগে উঠেছে বিশাল বালুচর। কোথাও কোথাও হাঁটুপানিও মিলছে না। নদীর মূল প্রবাহ ভেঙে দুই তীরে ভাগ হয়ে সীমিত হয়ে পড়েছে। মাঝনদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে এখন শুধুই শুকনা বালুর স্তূপ।
পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন জেলে, মাঝি ও নদীকেন্দ্রিক জীবিকার সঙ্গে জড়িত মানুষ। একই সঙ্গে সেচ সংকটে ভুগছেন উত্তরাঞ্চলের কোটি কৃষক।
নদী গবেষকদের মতে, উজানে ভারতের নির্মিত ফারাক্কা ব্যারেজ থেকেই এ সংকটের সূত্রপাত। গঙ্গা নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের পদ্মা নদী ক্রমেই পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন চুক্তিতে পদ্মায় ন্যায্য পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তুলছেন এ অঞ্চলের মানুষ।
রাজশাহী শহরের ওপারে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা চর মাজারদিয়াড় এলাকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব ফুরকন আলী বলেন, দুই দশক আগেও কয়েক মাইল দূর থেকে পদ্মার গর্জন শোনা যেত। এখন সেই শব্দ বহু বছর ধরেই হারিয়ে গেছে। বছরের মাত্র কয়েক মাস নদীতে পানি থাকে, বাকি সময় নদী শুকিয়ে বালুচরে পরিণত হয়।

নদীপারের বাসিন্দারা জানান, সাধারণত জুন মাসের দিকে পদ্মায় পানি বাড়তে শুরু করে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নদী কিছুটা ভরা থাকে। এরপর শীত নামতেই নদীতে চর জেগে ওঠে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার খইবুর রহমান জানান, গত বছরের ১৩ আগস্ট ভরা মৌসুমে রাজশাহীর টি-গ্রোয়েন এলাকায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৪৯ মিটার। অথচ শুক্রবার (১৫ মে) একই স্থানে পানির উচ্চতা নেমে এসেছে মাত্র ৮ দশমিক ১১ মিটারে।
ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উদযাপন কমিটির তথ্যমতে, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির পর বাংলাদেশ শুষ্ক মৌসুমে গড়ে ২০ হাজার কিউসেকেরও কম পানি পাচ্ছে। অথচ ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর আগে শুষ্ক সময়েও বাংলাদেশে ৭০ হাজার কিউসেকের কম পানি প্রবাহিত হতো না। নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষ সেচ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
একই কারণে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় চার কোটি মানুষ এবং দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা কৃষি উৎপাদনে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার নৌপথ। পাশাপাশি পদ্মা অববাহিকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় অকার্যকর হয়ে পড়ছে অনেক অগভীর নলকূপ।
গঙ্গা নদীর ওপর ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিবাদে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান থেকে শুরু হওয়া সেই লংমার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গিয়ে শেষ হয়েছিল বিশাল জনসমাবেশের মাধ্যমে। সে সময় মওলানা ভাসানী ফারাক্কা বাঁধকে বাংলাদেশের জন্য ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

পরে আন্দোলনের চাপের মুখে ভারত ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি করতে বাধ্য হয়। ওই চুক্তির ফলে শুষ্ক মৌসুমেও বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে বেশি পানি পেত। পরে ১৯৯৬ সালে নতুন ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি হলেও তাতে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পায়নি বলে দাবি করছেন নদী গবেষকেরা।
রাজশাহীর নদীগবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ১৯৭৭ সালের চুক্তির সময় বাংলাদেশ শুষ্ক মৌসুমেও পর্যাপ্ত পানি পেত। কিন্তু পরবর্তী চুক্তিতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং দেশে নতুন সরকার এসেছে। তাই ১৯৭৭ সালের আদলে একটি কার্যকর ও ন্যায্য চুক্তি প্রয়োজন, যাতে গঙ্গার পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়। অন্যথায় সরকারের পরিকল্পিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আজ বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ‘১১ দলীয় ঐক্য’। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ডা. শফিকুর রহমান। উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে নাহিদ ইসলামেরও।
অন্যদিকে বিকেলে নগরের বড়কুঠি পদ্মাপাড়ে গণজমায়েত করবে ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উদযাপন কমিটি। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন এম রফিকুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য রাখবেন মোস্তফা কামাল মজুমদার, আজাদ খান ভাসানী, নদীগবেষক মাহবুব সিদ্দিকীসহ অন্যরা।

রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) সহকারী পরিচালকের কক্ষে ঢুকে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিয়েছে স্থানীয় একদল যুবক। হাসপাতালের আউটসোর্সিং নিয়োগে নিজেদের লোক নিতে এই হুমকি দেওয়া হয়।
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশকে অশান্ত করতে ভারত নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিডি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের। তিনি বলেন, বিদেশি দালালদের কারণে গত ১৯ বছর অনেক কষ্ট পেয়েছি। এই দালালদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের হাত-পা ভেঙে পুলিশে দিতে হবে।
১ ঘণ্টা আগে
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার খোর্দ্দ খালের মাটি কেটে ১৯৭৮ সালে খনন কাজ উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। প্রায় ৪৮ বছর সেই খালে পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করেছেন তাঁর ছেলে ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
২ ঘণ্টা আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে