বাংলাদেশকে অশান্ত করতে ভারত নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে: অলি আহমেদ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ১৭: ২৪
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১-দলীয় ঐক্যের সমাবেশে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশকে অশান্ত করতে ভারত নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিডি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের। তিনি বলেন, বিদেশি দালালদের কারণে গত ১৯ বছর অনেক কষ্ট পেয়েছি। এই দালালদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের হাত-পা ভেঙে পুলিশে দিতে হবে।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১-দলীয় ঐক্যের সমাবেশে এসব কথা বলেন অলি আহমেদ। তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় কাদের সিদ্দিকীসহ আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী ভারতে আশ্রয় নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত বর্ডার অস্থিতিশীল করেছিল। এটাকে ঠিক করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী খুব ভালো লোক ছিলেন; ভদ্রলোক ছিলেন। উনি এ সমস্যা নিজেই সমাধান করেছিলেন। কিন্তু এখন ভালো লোক, ভদ্রলোক ভারতের ক্ষমতায় নেই।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে অলি আহমেদ বলেন, এখানে দেখতে হবে শুভেন্দু অধিকারীর (পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী) কোনো ফলোয়ার আছে কিনা। তিনি ক্ষমতায় আসার পরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হুমকি দিচ্ছে– ‘যুদ্ধ ঘোষণা করব, বাংলাদেশ দখল করে নেব’। এটা কি তোমার বাপের দেশ, দখল করে নিবা?

তিনি বলেন, আমরা যদি বলি– আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, সেভেন সিস্টার্স সব দখল করে নেব, তখন কী বলবা? আমরা তো সেটা বলছি না। আমরা বলি আমাদের শান্তিতে থাকতে দাও। তুমি তোমার ঘরে শান্তিতে থাকো। তোমার ব্যাপারে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করব না, এটা তোমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু তোমরা প্রতিনিয়ত আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছ।’

এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশে এখন বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ। যে সব বড় বড় প্রতিষ্ঠান আছে, তাঁরাও নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে। তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা কোথায় যাবে? দেশে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা। জনগণ দুঃসহ জীবনযাপন করছে। পত্রিকা খুললেই দেখবেন প্রতিনিয়ত হত্যাকাণ্ড ঘটছে। মানুষের মনে যখন অশান্তি হয়, মানুষ যখন সমস্যায় জর্জরিত হয়, সে তখন আর ডান-বাম দেখে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে– তিনি বেকার সমস্যা কীভাবে সমাধান করবেন? প্রতিবেশী ভারতকে কীভাবে সামাল দেবেন? উনার দলের লোকজন যে চাঁদাবাজি করছে, তাঁর কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। এদের তালিকা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। উনাকে চিন্তা করতে হবে। আমরা কোনো সমস্যা করছি না। গত ৫০ বছরে আমরা যে সব ভুলভ্রান্তি সংবিধানে, প্রশাসনে দেখেছি, সেগুলো ঠিক করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সম্পর্কিত