দেশে নদী ও জলাশয়ে ৬৬৯টি মাছের অভয়াশ্রম: মন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: সংগৃহীত

দেশের নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মোট ৬৬৯টি মাছের অভয়াশ্রম করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সরকার অভয়াশ্রম স্থাপন, উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করেছে। দেশীয় মাছের প্রজাতির ওপর বিদ্যমান বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলা ও দীর্ঘমেয়াদে এগুলোর সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

দেশের নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মোট ৬৬৯টি মাছের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসব অভয়াশ্রমের আওতায় এক হাজার ১৯৫ দশমিক ৯১ হেক্টর এলাকা রয়েছে। স্থানীয় উপকারভোগী দল এগুলো পরিচালনা করছে। মূল্যবান জলজ সম্পদ রক্ষায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নাজিরহাট সেতু থেকে হালদা-কর্ণফুলী মোহনা ও কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত হালদা নদীর ৪০ কিলোমিটার এলাকাকে মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলার তিনটি উপজেলায় ১০টি স্থায়ী মাছের অভয়াশ্রম সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

আমিন উর রশিদ বলেন, সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে সরকার অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে। মৎস্য অধিদপ্তরের নিয়মিত কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়াতে বিল নার্সারি স্থাপন করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব ও উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মোট ৯৪৭টি বিল নার্সারি স্থাপন করা হয়েছে। দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সরকার দেশীয় মাছ ও শামুক সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সাতটি হাওর জেলায় ৩০ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে।

প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে কারেন্ট জালের মতো ধ্বংসাত্মক অবৈধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দেশীয় মাছের বিলুপ্তি রোধে গবেষণার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)। এখন পর্যন্ত বিএফআরআই পাবদা, গুলশা, শিং, মাগুর, ভেদা, বাটা, সরপুঁটি, ভাঙ্গনা, কালিবাউশ, মহাশোল, আইড়, চিতল, ফলি, কুচিয়া, টেংরা ও খলিশাসহ ৪১টি দেশীয় মাছের প্রজনন ও চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে দেশীয় মাছের প্রজাতির সংখ্যা ২৬১টি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত