খাগড়াছড়িতে নদী-ছড়ায় বাড়ছে পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খাগড়াছড়ি

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ২১: ০৩
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-লংগদু সড়কের কাউন্সিল বেইলিসেতু এলাকা। স্ট্রিম ছবি

টানা তিন দিনের বৃষ্টিপাতে খাগড়াছড়িতে চেঙ্গী, মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল ও ছড়ার পানি বাড়তে শুরু করেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরের পর থেকে জেলা সদর, মহালছড়ি, পানছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে দেখা গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এসব এলাকায় বন্যার আশঙ্কা আছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ দুপুর থেকেই জেলায় ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে জেলার মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি সড়কের কয়েকটি অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে দীঘিনালা-লংগদু সড়কের বিভিন্ন স্থানেও পানি উঠে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চেঙ্গী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা সদরের নিচের বাজার, মুসলিমপাড়াসহ আশপাশের নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। অন্যদিকে মাইনী নদীর পানিও বাড়ছে। এতে দীঘিনালার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দীঘিনালায় অবস্থিত জেলার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত আগের ১৮ ঘণ্টায় উপজেলায় ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, দুপুর থেকেই জেলায় ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্ঘটত এলাকার যে কেউ তাদের দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারবে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায়ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সক্রিয় রয়েছে।

এর আগে সোমবার রাত থেকে জেলা সদর, মাটিরাঙা, পানছড়ি ও রামগড়সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কোথাও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেনি। তবে জেলা শহরের কলাবাগান, নুনছড়ি বাজার, মোল্লাপাড়া, কৈবল্যপীঠ, আঠার পরিবার, শালবন ও মোহাম্মদপুরসহ পাহাড় ঘেঁষা বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে বলে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। টানা বৃষ্টিতে এসব এলাকায় পাহাড় ধসেরও আশঙ্কা আছে।

বন্যার আশঙ্কায় থাকা দীঘিনালার মেরুং বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল (৫৬) মঙ্গলবার সন্ধ্যা বলেন, বৃষ্টি একটু বেশি হলেই আমাদের বাজার তলিয়ে যায়। রাতে ভারী বৃষ্টি হলে বাজারের পাশাপাশি আশপাশের আবাসিক এলাকাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টিতে একই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। তখন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জেলা দুর্য়োগ ব্যবস্থা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, বর্তমানে জেলা সদরের দুটি স্থান ও রামগড় উপজেলার মাতিরাঙ্গা এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকা ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিয়মিত মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, জেলায় সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত