লোডশেডিংয়ে নীলফামারীর হিমাগারের আলু নষ্ট হওয়ার শঙ্কা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নীলফামারী

আলু নিয়ে বিপাকে নীলফামারীর হিমাগারমালিকেরা। সংগৃহীত ছবি
আলু নিয়ে বিপাকে নীলফামারীর হিমাগারমালিকেরা। সংগৃহীত ছবি

লোডশেডিংয়ে নীলফামারীর ১১টি হিমাগারে সংরক্ষিত প্রায় ৭৭ হাজার মেট্রিক টন আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে জেনারেটর চালিয়ে হিমাগারের কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সৈয়দপুরের নর্দান কোল্ড স্টোরেজের মালিক আবু তালেব জানান, আলু ভালো রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে হিমাগারের শীতলীকরণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরের মাধ্যমে ফ্যান চালু করা হলেও তীব্র গরমের কারণে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নীলফামারীর শাওন হিমাগার ম্যানেজার নাহিদ হাসান জনি বলেন, হিমাগারের মেশিনগুলো নির্দিষ্ট সময় ধরে চালাতে হয়। মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। পরে আবার শুরু থেকে মেশিন চালু করতে হয়। এতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে এই ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

হিমাগারে বীজ-আলু সংরক্ষণ করা কৃষকরাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। সংরক্ষিত প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন বীজ আলু ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী আলু মৌসুমে কৃষকদের চাষাবাদে বড় ধরনের বীজসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আগামী মৌসুমে জমিতে আলু বীজ বপন জন্য হিমাগারে বীজ আলু রেখেছি। কিন্তু বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তায় আছি। বীজ আলু নষ্ট হয়ে গেলে পরের বছর ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হবে।

উত্তরা হিমাগার নীলফামারীর ব্যবস্থাপক দীপু রায় বলেন, গরমের কারণে এমনিতেই হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেশিন বেশি সময় চালাতে হয়। এর মধ্যে লোডশেডিং হলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। একটি কক্ষ ঠান্ডা করতে এক ঘণ্টা সময় লাগলে ৩০ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে গেলে আবার শুরু থেকে কাজ করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, জেনারেটর ব্যবহার করলে পরিচালন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। হিমাগারে ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে আমাদের ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে জেলায় লোডশেডিং বেড়েছে।

নর্দার্ন ইলেকট্রিক সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘সৈয়দপুরে ৬১ হাজার গ্রাহকের ৪৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে এখন বিদ্যুৎ মিলছে ৩৬ মেগাওয়াট। চাহিদার চেয়ে আমরা পাচ্ছি কম। তাই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত