সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলের খুনের বাদীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, যুবক আটক

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১৮: ১৪
মারধরের প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক্স

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলের হত্যা মামলার বাদী মো. ফজলুল হককে (৬০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দুদিন পর রোববার (১৯ জুলাই) চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজের ভাড়া বাসায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিন (৩০) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকার মিয়া বাড়ির সামনে ফজলুল হককে মারধর করা হয়। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানান সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল হক।

নিহত ফজলুল হকের বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ থানার দেউলাবাড়ি গ্রামে। তিনি গোদনাইল এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ফতুল্লার একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন তিনি।

নিহতের মেয়ে ফারজানা হক বলেন, প্রায় এক বছর আগে তাঁর ছোট ভাই ফারুক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওই মামলার বাদী ছিলেন তাঁর বাবা ফজলুল হক। মামলাটি আপোশ বা তুলে নেওয়ার জন্য আসামিরা বিভিন্ন সময় তাঁর বাবাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ কারণে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে সন্দেহ তাঁর।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে নোবেল শেখ নামে একজন এক নারীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান। এ সময় উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে একটি থাপ্পড় দিয়ে ঝগড়া থামাতে বলেন। একই সময় সেখান উপস্থিত ফজলুল হকও তাঁদের ঝগড়া না করার পরামর্শ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নোবেল ফোন-কলে কয়েকজনকে সেখানে ডেকে আনেন। পরে তারা ফজলুল হককে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

মারধর আহত ফজলুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয় লোকজন। চিকিৎসা শেষে গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) তিনি বাড়ি ফিরে যান। আজ সকালে ভাড়াবাসায় হঠাৎ রক্তবমি করে তিনি মারা যান। সকালে তার বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এ সব তথ্য জানিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, ফজলুল হককে মারধরের ঘটনায় মো. রবিন নামে একজনকে আকট করেছে পুলিশ। অন্য অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত