জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হচ্ছেন আইরিন খান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৬: ১৪
মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান। ছবি: সংগৃহীত

মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হবেন। এ ছাড়া উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর আগেই আইরিন খান নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন।

আইরিন খান ২০২০ সালের ১ আগস্ট থেকে জাতিসংঘে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার (দূত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৩ সালে পদটি চালুর পর নারী হিসেবে তিনিই প্রথম এ দায়িত্ব পান।

জেনেভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের এই শিক্ষক ‘দ্য আনহার্ড ট্রুথ: পভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ বইয়ের সহলেখকও। বইটি সাতটি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।

২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব ছিলেন আইরিন খান। সংস্থাটির নেতৃত্ব পাওয়া প্রথম নারীও তিনি। তাঁর অধীনে অ্যামনেস্টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ জোরদার করে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার বিষয়গুলোও তাদের কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়। নারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধে অ্যামনেস্টির প্রথম বৈশ্বিক প্রচারণাও শুরু হয়েছিল তাঁর হাত ধরে।

এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আইরিন খান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এটি একমাত্র আন্তঃসরকারি সংস্থা, যা শুধু আইনের শাসন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে।

এই পদে থাকাকালে তিনি ২০১৯ সালে জাতিসংঘের ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-১৬’ পর্যালোচনার প্রস্তুতি সম্মেলন, ২০১৮ সালে নারীদের ন্যায়বিচারবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের গ্রুপ এবং ২০১৬ সালে আফ্রিকায় আইনের শাসনবিষয়ক সম্মেলনের সহ-আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আইরিন খান। ছিলেন দলের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও পরিবেশবিষয়ক কার্যক্রমের নেতৃত্বে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্ট্রিমকে জানান, প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দুজন উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি থাকবেন। তাদের মধ্যে একজন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনে ড. খলিলুর রহমানকে সহায়তা করবেন। অন্যজন হবেন পেশাদার কূটনীতিক।

Ad 300x250

সম্পর্কিত