জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

শঙ্খ নদ থেকে পাথর তুলে চলছে সরকারি উন্নয়ন কাজ, সৌন্দর্য হারাচ্ছে থানচির পর্যটন স্পট

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
থানচি (বান্দরবান)

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩: ১০
রাতের আঁধারে বারুদ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং বিভিন্ন ক্রাশার মেশিনের মাধ্যমে এসব পাথর ভেঙে কংক্রিটে পরিণত করা হয়। স্ট্রিম ছবি

বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু বাজার এলাকায় শঙ্খ নদ থেকে অবৈধভাবে পাথর তুলে তিনটি সরকারি ভবন নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে এলাকায় পরিবেশগত সংকট সৃষ্টির পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।

তিন্দু বাজার এলাকায় শঙ্খ নদের ধারের বিশালাকার পাথরগুলো পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, তিন্দু বাজারমুখী বিজিবি চেকপোস্ট ও এর আশপাশের দর্শনীয় স্থান থেকে গত ডিসেম্বর মাস থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে বারুদ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং বিভিন্ন ক্রাশার মেশিনের মাধ্যমে এসব পাথর ভেঙে কংক্রিটে পরিণত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এসব পাথর তিন্দু মাধ্যমিক উচ্চবিদ্যালয় ভবন, তিন্দু বৌদ্ধ বিহার ও তিন্দু বাজারের ‘বাজার সেট’ নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের ঠিকাদারি পায় ‘আগমা এন্টারপ্রাইজ’। এর মালিক রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মুইশৈথুই মারমা রনি। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় কাজ ফেলে রেখে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে পুনরায় কাজ শুরু করেছে।

পাথর ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় যুবলীগ নেতা শৈবাসিং মারমা বলেন, “আগমা এন্টারপ্রাইজের মালিক মুইশৈথুই মারমা রনির টাকা ও কথায় আমি শঙ্খ নদী থেকে পাথর ও বালি উত্তোলন এবং সরবরাহ করছি। আমার সঙ্গে রেমাক্রী বাজারের ছাত্রলীগ কর্মী হ্লাচিংমং মারমা ও সেয়ার রয়েছে।”

নদের পাড় ও পাথরময় দৃশ্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সেখান থেকে পাথর উত্তোলনের ফলে স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

তিন্দু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়ান বলেন, “ভবন না থাকায় ঠিকমতো ক্লাস করানো যাচ্ছিল না। ঠিকাদার দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রেখেছিলেন। সাইট তদারকি ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় পাথর ও বালি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কাজ শুরু হয়েছে।”

তিন্দু ইউপির সদস্য ক্রানিঅং মারমা বলেন, নদের পাড় ও পাথরময় দৃশ্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সেখান থেকে পাথর উত্তোলনের ফলে স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। জেলা পরিষদ সদস্য খামলাই ম্রো বলেন, অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলন চললে ভূমিক্ষয় ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি অবিলম্বে নদ থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান। তিন্দু ইউপি চেয়ারম্যান ভাগ্য চন্দ্র ত্রিপুরাও পরিবেশ ও পর্যটন সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইয়াছির আরফাত বলেন, “তিন্দু পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে ইটের কংক্রিট ব্যবহারের নিয়ম আছে। স্থানীয় পাথর ও বালি ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বান্দরবান জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, “পাথর ও বালি উত্তোলন খনিজ সম্পদের বিষয়। আমাদের অধিদপ্তর পরিবেশ নিয়ে কাজ করে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।”

এদিকে পাথর ও বালি উত্তোলন বন্ধ করে তিন্দুর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় বান্দরবানের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিন্দুবাসী।

বিষয়:

জেলার খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত