রাজশাহীতে হাটে হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ১৩: ১৪
রাজশাহীর অধিকাংশ পশুর হাটে ইজারাদাররা নির্ধারিত হাসিলের চেয়ে বেশি আদায় করছেন। স্ট্রিম কোলাজ

গোলাম মোর্তজা ৯০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন। রাজশাহীর সিটি হাটে এজন্য তাঁকে হাসিল দিতে হয়েছে এক হাজার টাকা। ইজারাদারের লোকজন তাঁকে রশিদ দিয়েছেন। কিন্তু তাতে টাকার অঙ্ক নেই। কোরবানির আগে এভাবে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই পশুর হাটে ক্রেতাদের গলা কাটছেন ইজারাদার।

শুধু সিটি হাট নয়। একই অবস্থা রাজশাহীর অধিকাংশ পশুর হাটে। সবখানেই ইজারাদাররা আদায় করছেন নির্ধারিত হাসিলের চেয়েও বেশি। সিটি হাটের মতো পবা উপজেলার নওহাটা পশুর হাটেও হাসিলের রশিদে টাকার অঙ্ক লেখা হচ্ছে না। এই হাটে গরুর ক্ষেত্রে নেওয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা; ছাগল-ভেড়া ৬০০।

অথচ নওহাটা পৌর কর্তৃপক্ষ গরুর ক্ষেত্রে ৫০০ এবং ছাগল-ভেড়ার জন্য ৩০০ টাকা হাসিল নির্ধারণ করেছে। অতিরিক্ত টাকা আদায় করায় সোমবার ইজারাদারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন পবার ইউএনও ইবনুল আবেদীন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) পরিচালিত সিটি হাটে কোরবানির আগে এখন প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার গবাদি পশু কেনাবেচা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন এই হাটের জন্য হাসিলের ধার্য করে দিয়েছে। গরু-মহিষ ৭০০ ও ছাগলে নেওয়া যাবে ৫০০ টাকা। কিন্তু এখানে গরুর ক্ষেত্রে এক হাজার এবং ছাগলের জন্য ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। সরেজমিন হাটে দেখা যায়, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতাকে দেওয়া হাসিলে টাকার অঙ্ক রিখছেন না ইজারাদারের কর্মীরা।

সিটি হাটে সোমবার গরু কেনা গোলাম মোর্তজা বলেন, ‘সব হাটেই অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত নিলেও তা হাসিলে লেখা থাকছে। এরা (সিটি হাট) হাসিলে টাকার পরিমাণই লিখছে না।’

সিটি হাটের অন্যতম ইজারাদার শওকত আলী বলেন, সিটি করপোরেশন যে হাসিল নির্ধারণ করেছে, তার চেয়ে আমরা ১০০ টাকা বেশি নিচ্ছি। এখানে গত দুদিনে ২০০ গাড়ি মাটি ফেলতে হয়েছে। দুই ট্রাক বাঁশের খুঁটি পুঁতেছি। করপোরেশনকে বারবার বললেও এসব করেনি। আমরা খরচ করেছি। সেটি পোষাতে একটু বেশি নিচ্ছি।

অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রাসিকের সচিব সোহেল রানার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ বিষয়ে সোহেল রানাকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি।

এদিকে, নওহাটা পশুর হাটেও রশিদে টাকার অঙ্ক না লিখে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে। রাজশাহীর পাখিপ্রেমী হাসনাত রনিকে এই হাট থেকে দেওয়া রশিদের ছবি তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। হাসনাত রনি লিখেছেন, ‘খাজনা বা হাসিলের রশিদ পাবেন। রশিদে সব কিছু লেখা থাকবে। শুধু কত টাকা আদায় করা হলো সেটা লেখা থাকবে না! এই টাকার ভাগ কোথায় কোথায় যায়? এদেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে বলে আশা করেন।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সন্ধ্যায় হাটের ইজারাদার আফজাল হোসেনকে ফোন করা হলে ধরেন আকবর আলী। তিনি জানান, ইজারাদার কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।

পবার ইউএনও এবং নওহাটা পৌরসভার প্রশাসক ইবনুল আবেদীন বলেন, নওহাটা পশুর হাটে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয় আমার নজরে এসেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এজন্য ইজারাদারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান আরও জোরদার হবে। পবার কোনো হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের সুযোগ নেই।

সম্পর্কিত