ট্রিলিয়র ডলার অর্থনীতির জন্য উচ্চাভিলাষী হতেই হবে: অর্থমন্ত্রী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ৫০
দেশের প্রথম গ্রিনফিল্ড টার্মিনাল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
দেশের প্রথম গ্রিনফিল্ড টার্মিনাল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চাভিলাষী হতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিশ্বের জন্য আমরা দ্বার উন্মুক্ত করতে চাই। এটি শুধু লজিস্টিক হাব নয়, সব রকমের বিনিয়োগের জন্য।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় লালদিয়ার চরে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের উদ্যোগে দেশের প্রথম গ্রিনফিল্ড টার্মিনাল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বন্দরকেন্দ্রিক সার্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য একটি লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কারণ, বন্দর হলো চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়। এখানকার সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্দর ঘিরেই পরিচালিত হয়। আমাদের একটি নির্বাচিত সরকার রয়েছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য কাজ করছে।

অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পরিচালিত হয় উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, সরকারের মূল কাজ হলো বেসরকারি খাতকে সহযোগিতা করা। লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আমাদের সেরা ব্যবসা নীতি, বিনিয়োগ নীতি ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে রূপ দিতে কাজ চলছে। বাণিজ্যিক রাজধানী কেউ ঘোষণা দিয়ে করে না, কাজের মধ্য দিয়েই তা গড়ে ওঠে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। চট্টগ্রামে আরও কয়েকটি পোর্ট ও ইকোনমিক জোন স্থাপন করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, লালদিয়া টার্মিনালে পিপিপি পদ্ধতিতে ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও টার্মিনাল হ্যান্ডলিংয়ের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান জানান, তিন বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হলে লালদিয়া টার্মিনালে বছরে ৮ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা যাবে। চব্বিশ ঘণ্টা সচল এই টার্মিনালে বর্তমানে ব্যবহৃত জাহাজের চেয়ে দ্বিগুণ কনটেইনার ধারণক্ষমতার সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, এপিএম টার্মিনালসের সিইও রমেশ ডেভিড, গ্লোবাল হেড অব অপারেশনস জ্যাক ক্রেগ, নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া প্রমুখ।

লালদিয়া টার্মিনাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত
লালদিয়া টার্মিনাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত

৪৯.১৫ একর জমিতে এই টার্মিনালের মূল অংশ থাকবে ৩২ একরে, কন্টেইনার ইয়ার্ড ৭.১৫ একর এবং ট্রাক পার্কিং ও প্রি-গেট সুবিধার জন্য রয়েছে ১০ একর। ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটিসমৃদ্ধ টার্মিনালে বার্ষিক ৮ লাখ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে লালদিয়া চরে চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন এই টার্মিনাল নির্মাণে ২০২১ সালের জুনে বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে সমঝোতাস্মারক সই হয়। পরে ২০২৩ সালে মেয়ার্স্ক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটি প্রস্তাব করে। একই বছরের ২৯ নভেম্বর এটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। পরে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি দুই দেশের জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম সভায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়।

টার্মিনালটি নির্মিত হলে সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানিতে থাকা অংশের গভীরতা) এবং ৬ হাজার টিইইউএস (কুড়ি ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনারকে একক ধরে) ধারণক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারবে সেখানে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত