এস আলম গ্রুপ নিয়ে হাসনাতের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী, সমঝোতার সুযোগ নেই

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ৫৪
সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংগৃহীত ছবি

সরকারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কারও সঙ্গে কোনো সমঝোতা করার কোনো সুযোগ নেই।

সংসদে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্ব করেন।

আওয়ামী লীগ আমলে ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে আলোচিত এস আলম গ্রুপের নাম আবার আলোচনায় আসে গতকাল সোমবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি সমাবেশে। একসময় এই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের।

সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংক ৯২ হাজার ১১৫ কোটি টাকা ঋণের ধারক। এর মধ্যে এস আলম গ্রুপ একাই ৮০ হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপি। তিনি জানতে চান, এস আলম গ্রুপের ঋণ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এই অর্থবছরে সরকারের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি না? এস আলম গ্রুপকে তাদের এই ঋণ পরিশোধ না করে কীভাবে আবার নতুন করে পুনর্বহাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে? এটা নিয়ে সরকারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের কোনো সমঝোতা হয়েছে কিনা?

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে কারও সঙ্গে সমঝোতা করার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি যতবারই সরকারে এসেছে, ‘ফিন্যান্সিয়াল ডিসিপ্লিন’ নিয়ে কোনো প্রশ্ন আসেনি, ‘ম্যাক্রো স্ট্র্যাটেজি’, ‘ম্যাক্রো ইকোনমিক স্টেবিলিটি’, শেয়ারবাজার লুটপাট নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠেনি।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন সংশোধনের পেছনে এস আলম গ্রুপকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্য রয়েছে বলে সোমবার ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের বিক্ষোভ থেকে অভিযোগ করা হয়। আমির খসরু বলেন, কেউ ফিরে আসার জন্য ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে সংশোধনী আনা হয়নি। এই সংশোধনীকে তিনি ‘নিউ অপরচুনিটি’ ও ‘নিউ উইন্ডো’ হিসেবে অবহিত করেন।

সংসদ অধিবেশনে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
সংসদ অধিবেশনে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আমলে ছয়টি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি এসব বাংকের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়। এসব ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা বের করার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

অর্থ উদ্ধারের আশা প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারাই ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে পালিয়েছে, সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলা ‘পারসু’ (ত্বরান্বিত) করা হচ্ছে। টাকা পুনরুদ্ধারের জন্য একদিকে ‘গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট’ কাজ চলছে। অন্যদিকে প্রাইভেট রিকভারি ফার্মগুলোও কাজ করছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এটিতে নতুন ধারা যুক্ত করে বিল পাস করে সংসদ। যেভাবে এ ধারা যুক্ত করা হয়েছে, তাতে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সংসদে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে বিষয়টি সামনে আনেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। যারা ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণে টাকা নিয়ে গেছে, তাদের খুব অল্প টাকা দিয়েই ফেরত আসার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে সম্ভবত ৮০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ ছিল। তারা সবাই ফেরত গেছে।

অর্থমন্ত্রীর কাছে সাইফুল ইসলাম জানতে চান, এ দুটি বিষয় সমন্বয় করবেন কীভাবে? জবাবে অর্থমন্ত্রী আবারও বলেন, বিএনপি কোনো ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে না। এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এবারও সে সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ব্যাংকের যে অ্যামেন্ডমেন্ট হয়েছে, আমরা এই উইন্ডোটা একটু ওপেন করেছি। এখানে কেউ ফিরে আসার জন্য না। আমরা টাকা ব্যাংকে জমা হোক– এটাই চাই। সুতরাং এটা একটা নিউ অপরচুনিটি, নিউ উইন্ডো। এক্সিস্টিং শেয়ার হোল্ডাররাও নিতে পারেন, যেকোনো বিনিয়োগকারীও নিতে পারেন।

সম্পর্কিত