আরিফ রহমান

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে প্রবীণতান্ত্রিকতার আধিপত্য লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনীতিকে এমন এক বৃত্তে বন্দী করেছিল, যেখানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের প্রবেশাধিকার ছিল খুব সীমিত। এর বিপরীতে গত ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও নবীনদের উদ্দীপনার সমন্বয় বা ‘সিনার্জি’তৈরি করেছে। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, তাবিথ আউয়াল বা ইশরাক হোসেনের মতো নেতাকে ফ্রন্টলাইনে নিয়ে আসা এবং ওল্ড গার্ডদের সম্মানজনক অবস্থানে রেখে দলকে আধুনিকায়নের এ কৌশলই বিএনপিকে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতির প্রাসঙ্গিক শক্তিতে পরিণত করেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ বুঝতে হলে আগে এর জনমিতি বুঝতে হবে। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বাংলাদেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই এখন তরুণ (১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী)। এ বিশাল জনগোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাস দেখেনি; তারা দেখছে গ্লোবালাইজেশন, ইন্টারনেট এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। এই প্রজন্মের ভাষা, চাহিদা ও ক্ষোভ প্রকাশের ভঙ্গি পঞ্চাশ বা ষাটের দশকের রাজনীতিকদের চেয়ে আলাদা। এরা ইতিহাসের একঘেয়ে বয়ানের চেয়ে কর্মসংস্থান, বাকস্বাধীনতা, ইন্টারনেট স্পিড, ব্যাক্তিগত পছন্দ কিংবা মর্যাদার মতো বিষয় নিয়ে বেশি সচেতন।
আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এর স্লোগান দিলেও তাদের দলের নীতিনির্ধারণী কাঠামো ছিল সনাতনী। দলের প্রেসিডিয়ামের দিকে তাকালে দেখা যেতো ৭০ কিংবা ৮০ ঊর্ধ্ব নেতাদের আধিপত্য। ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনার বাইরে তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু বা মতিয়া চৌধুরীর মতো প্রবীণ নেতাই ছিলেন শেষ কথা। ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় যখন শিশু-কিশোররা রাস্তায় নেমেছিল, তখন তৎকালীন নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর সেই বিখ্যাত হাসি ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য প্রমাণ করেছিল, শাসকদল তরুণদের আবেগ বুঝতে কতটা অক্ষম। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনেও শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ট্যাগ দেওয়া ছিল সেই জেনারেশন গ্যাপের চরম বহিঃপ্রকাশ। তারা জেন-জিদের মনস্তত্ত্ব পড়তে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল।
তারেক রহমান এ সংকট অনুধাবন করেছিলেন অনেক আগে। তিনি বুঝেছিলেন, বিএনপিকে আগামী দিনের দল করতে হলে ওল্ড গার্ডদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে; তবে দলের ইঞ্জিন হতে হবে তরুণদের।
বিএনপিতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বা নজরুল ইসলাম খানের মতো হেভিওয়েট নেতারা আছেন। তারেক রহমান কিন্তু তাদের কাউকেই অবসরে পাঠাননি। বরং তিনি তাদেরকে দলের ‘উপদেষ্টা’বা ‘কৌশল প্রণেতা’ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনি তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেন। এতে প্রবীণরা সম্মানিত বোধ করেন।
বিপরীতে তারেক রহমানের বড় সাফল্য হলো, তিনি ৯০-এর দশকের তুখোড় ছাত্রনেতাদের দলের চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছেন। যেমন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিএনপির প্রচার সম্পাদক। এ্যানি হলেন সেই প্রতীক, যিনি প্রবীণ নেতৃত্ব ও নবীন কর্মীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেন। তারেক রহমান তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন, কারণ এ্যানি একইসাথে রাজপথে লড়াকু এবং মিডিয়ায় কথা বলাতে পারঙ্গম। আবার রুহুল কবির রিজভী মধ্যবয়সী হলেও তারেক রহমান তাঁকে দলের মুখপাত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন সংকটে অবিচল থাকার কারণে।
তারেক রহমান গত দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে (ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ) যে বাজি ধরেছিলেন, তাকে বলা যায় গেম চেঞ্জার। প্রথাগত রাজনীতিকদের বদলে তিনি বেছে নিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষিত, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্য দুই তরুণকে–তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন। তাবিথ আউয়ালের করপোরেট ব্যাকগ্রাউন্ড এবং ইশরাকের লড়াকু ইমেজ–এ দুইয়ের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, বিএনপি আরবান ইয়ুথদেরও দল।
বিএনপির রাজনীতিতে গবেষণার ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে। তারেক রহমান নিয়মিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নাল, সার্ভে ও ডাটা বিশ্লেষণ করেন বলে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন। দলের ভেতরে তিনি ‘রিসার্চ সেল’ তৈরি করেছেন, যেখানে কাজ করছেন দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা। এর ফলে বিএনপির বক্তব্য এখন তথ্যনির্ভর ও যুক্তিযুক্ত।
বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির কারখানা বলা হয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে। একসময় ছাত্রদলও ভাই-লবি ও বয়স্ক ছাত্রদের দখলে ছিল। তারেক রহমান এখানে বলা যায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছেন। ২০১৯ সালে তিনি ছাত্রদলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনেন। সরাসরি কাউন্সিলরদের ভোটে নেতা নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। স্কাইপের মাধ্যমে তিনি নিজে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন। এক্ষেত্রে বিবাহিতদের ছাত্রদলের নেতৃত্বে না রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন। এর ফলেই ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল থেকে রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছিরের মতো যে নতুন নেতৃত্ব ছাত্রদলে উঠে এসেছে, তারা সবাই ক্যাম্পাসে সক্রিয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল তারেক রহমানের ‘জেনারেশন গ্যাপ’ ঘোচানোর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তিনি নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিএনপির পতাকা না নিয়ে বরং বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে। অভ্যুত্থানে প্রাণ গেছে সবচেয়ে বেশি বিএনপির নেতাকর্মীদের। তা সত্ত্বেও তারেক রহমান নিজের কিংবা নিজ দলের ক্রেডিট নেননি। এই যে নিজেদের আড়ালে রেখে তরুণদের এগিয়ে দেওয়া, এটি ‘ওল্ড স্কুল’ পলিটিশিয়ানরা ভাবতেই পারেন না।
বিশ্বজুড়ে এখন তরুণ নেতৃত্বের জয়জয়কার। কানাডার জাস্টিন ট্রুডো, ফ্রান্সের ইমানুয়েল মাখো কিংবা যুক্তরাজ্যের ঋষি সুনাক, সবাই অপেক্ষাকৃত কম বয়সে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় তারেক রহমান সেই শূন্যতা পূরণের বিষয়টি মাথায় রেখেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। বহুদিন লন্ডনে থাকার কারণে তিনি পশ্চিমা গণতন্ত্রের চর্চা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি জানেন, পরিবর্তিত বাংলাদেশে মানবাধিকার, শ্রম আইন ও পরিবেশ রক্ষার মতো বিষয়ে কাজ করতে হবে; যেসব বিষয়ে ‘ওল্ড স্কুল’ পলিটিশিয়ানরা এতদিন পর্যন্ত ছিলেন উদাসীন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের মডেল কেবল বিএনপির জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্যই শিক্ষণীয়। ‘ওল্ড গার্ড’-এর অভিজ্ঞতা এবং ‘ইয়াং ব্লাড’-এর উদ্দীপনার মধ্যে যে ‘সিনার্জি’ তিনি তৈরি করেছেন, তা রাজনীতিতে প্রজন্মগত বিভাজন দূর করার এক কার্যকর পথ। এ মডেল সফল হলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে সব প্রজন্মের কণ্ঠস্বরই যথাযথ গুরুত্ব পাবে।

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে প্রবীণতান্ত্রিকতার আধিপত্য লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনীতিকে এমন এক বৃত্তে বন্দী করেছিল, যেখানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের প্রবেশাধিকার ছিল খুব সীমিত। এর বিপরীতে গত ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও নবীনদের উদ্দীপনার সমন্বয় বা ‘সিনার্জি’তৈরি করেছে। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, তাবিথ আউয়াল বা ইশরাক হোসেনের মতো নেতাকে ফ্রন্টলাইনে নিয়ে আসা এবং ওল্ড গার্ডদের সম্মানজনক অবস্থানে রেখে দলকে আধুনিকায়নের এ কৌশলই বিএনপিকে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতির প্রাসঙ্গিক শক্তিতে পরিণত করেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ বুঝতে হলে আগে এর জনমিতি বুঝতে হবে। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বাংলাদেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই এখন তরুণ (১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী)। এ বিশাল জনগোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাস দেখেনি; তারা দেখছে গ্লোবালাইজেশন, ইন্টারনেট এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। এই প্রজন্মের ভাষা, চাহিদা ও ক্ষোভ প্রকাশের ভঙ্গি পঞ্চাশ বা ষাটের দশকের রাজনীতিকদের চেয়ে আলাদা। এরা ইতিহাসের একঘেয়ে বয়ানের চেয়ে কর্মসংস্থান, বাকস্বাধীনতা, ইন্টারনেট স্পিড, ব্যাক্তিগত পছন্দ কিংবা মর্যাদার মতো বিষয় নিয়ে বেশি সচেতন।
আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এর স্লোগান দিলেও তাদের দলের নীতিনির্ধারণী কাঠামো ছিল সনাতনী। দলের প্রেসিডিয়ামের দিকে তাকালে দেখা যেতো ৭০ কিংবা ৮০ ঊর্ধ্ব নেতাদের আধিপত্য। ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনার বাইরে তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু বা মতিয়া চৌধুরীর মতো প্রবীণ নেতাই ছিলেন শেষ কথা। ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় যখন শিশু-কিশোররা রাস্তায় নেমেছিল, তখন তৎকালীন নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর সেই বিখ্যাত হাসি ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য প্রমাণ করেছিল, শাসকদল তরুণদের আবেগ বুঝতে কতটা অক্ষম। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনেও শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ট্যাগ দেওয়া ছিল সেই জেনারেশন গ্যাপের চরম বহিঃপ্রকাশ। তারা জেন-জিদের মনস্তত্ত্ব পড়তে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল।
তারেক রহমান এ সংকট অনুধাবন করেছিলেন অনেক আগে। তিনি বুঝেছিলেন, বিএনপিকে আগামী দিনের দল করতে হলে ওল্ড গার্ডদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে; তবে দলের ইঞ্জিন হতে হবে তরুণদের।
বিএনপিতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বা নজরুল ইসলাম খানের মতো হেভিওয়েট নেতারা আছেন। তারেক রহমান কিন্তু তাদের কাউকেই অবসরে পাঠাননি। বরং তিনি তাদেরকে দলের ‘উপদেষ্টা’বা ‘কৌশল প্রণেতা’ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনি তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেন। এতে প্রবীণরা সম্মানিত বোধ করেন।
বিপরীতে তারেক রহমানের বড় সাফল্য হলো, তিনি ৯০-এর দশকের তুখোড় ছাত্রনেতাদের দলের চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছেন। যেমন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিএনপির প্রচার সম্পাদক। এ্যানি হলেন সেই প্রতীক, যিনি প্রবীণ নেতৃত্ব ও নবীন কর্মীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেন। তারেক রহমান তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন, কারণ এ্যানি একইসাথে রাজপথে লড়াকু এবং মিডিয়ায় কথা বলাতে পারঙ্গম। আবার রুহুল কবির রিজভী মধ্যবয়সী হলেও তারেক রহমান তাঁকে দলের মুখপাত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন সংকটে অবিচল থাকার কারণে।
তারেক রহমান গত দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে (ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ) যে বাজি ধরেছিলেন, তাকে বলা যায় গেম চেঞ্জার। প্রথাগত রাজনীতিকদের বদলে তিনি বেছে নিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষিত, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্য দুই তরুণকে–তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন। তাবিথ আউয়ালের করপোরেট ব্যাকগ্রাউন্ড এবং ইশরাকের লড়াকু ইমেজ–এ দুইয়ের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, বিএনপি আরবান ইয়ুথদেরও দল।
বিএনপির রাজনীতিতে গবেষণার ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে। তারেক রহমান নিয়মিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নাল, সার্ভে ও ডাটা বিশ্লেষণ করেন বলে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন। দলের ভেতরে তিনি ‘রিসার্চ সেল’ তৈরি করেছেন, যেখানে কাজ করছেন দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা। এর ফলে বিএনপির বক্তব্য এখন তথ্যনির্ভর ও যুক্তিযুক্ত।
বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির কারখানা বলা হয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে। একসময় ছাত্রদলও ভাই-লবি ও বয়স্ক ছাত্রদের দখলে ছিল। তারেক রহমান এখানে বলা যায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছেন। ২০১৯ সালে তিনি ছাত্রদলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনেন। সরাসরি কাউন্সিলরদের ভোটে নেতা নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। স্কাইপের মাধ্যমে তিনি নিজে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন। এক্ষেত্রে বিবাহিতদের ছাত্রদলের নেতৃত্বে না রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন। এর ফলেই ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল থেকে রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছিরের মতো যে নতুন নেতৃত্ব ছাত্রদলে উঠে এসেছে, তারা সবাই ক্যাম্পাসে সক্রিয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল তারেক রহমানের ‘জেনারেশন গ্যাপ’ ঘোচানোর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তিনি নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিএনপির পতাকা না নিয়ে বরং বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে। অভ্যুত্থানে প্রাণ গেছে সবচেয়ে বেশি বিএনপির নেতাকর্মীদের। তা সত্ত্বেও তারেক রহমান নিজের কিংবা নিজ দলের ক্রেডিট নেননি। এই যে নিজেদের আড়ালে রেখে তরুণদের এগিয়ে দেওয়া, এটি ‘ওল্ড স্কুল’ পলিটিশিয়ানরা ভাবতেই পারেন না।
বিশ্বজুড়ে এখন তরুণ নেতৃত্বের জয়জয়কার। কানাডার জাস্টিন ট্রুডো, ফ্রান্সের ইমানুয়েল মাখো কিংবা যুক্তরাজ্যের ঋষি সুনাক, সবাই অপেক্ষাকৃত কম বয়সে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় তারেক রহমান সেই শূন্যতা পূরণের বিষয়টি মাথায় রেখেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। বহুদিন লন্ডনে থাকার কারণে তিনি পশ্চিমা গণতন্ত্রের চর্চা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি জানেন, পরিবর্তিত বাংলাদেশে মানবাধিকার, শ্রম আইন ও পরিবেশ রক্ষার মতো বিষয়ে কাজ করতে হবে; যেসব বিষয়ে ‘ওল্ড স্কুল’ পলিটিশিয়ানরা এতদিন পর্যন্ত ছিলেন উদাসীন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের মডেল কেবল বিএনপির জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্যই শিক্ষণীয়। ‘ওল্ড গার্ড’-এর অভিজ্ঞতা এবং ‘ইয়াং ব্লাড’-এর উদ্দীপনার মধ্যে যে ‘সিনার্জি’ তিনি তৈরি করেছেন, তা রাজনীতিতে প্রজন্মগত বিভাজন দূর করার এক কার্যকর পথ। এ মডেল সফল হলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে সব প্রজন্মের কণ্ঠস্বরই যথাযথ গুরুত্ব পাবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আছেন সাতজন। তাঁরা মূলত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এককভাবে প্রার্থী হওয়ার কারণে তাদেরকে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ বলা হয়। যদিও সংবিধান বা নির্বাচনি আইনে ‘বিদ্রোহী প্রার
১৫ ঘণ্টা আগে
প্রতি বছর বাংলাদেশে গড়ে প্রায় ২৫ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় জীবন ও সম্পদের প্রাণহানিও ব্যাপক। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে অগ্নিকাণ্ডে মোট ৬৫০ জনের মৃত্যু ও ২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
এই মহাবিপদ থেকে বাঁচতে পাকিস্তানের সামনে এখন ‘বিচক্ষণ কূটনীতি’ এবং একমুখী আমেরিকা-নির্ভরতা কাটিয়ে চীন-রাশিয়া-তুরস্ক বলয়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে তুরস্কের সঙ্গে প্রস্তাবিত ‘মুসলিম ন্যাটো’ গঠন এবং নিজস্ব ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করাই হবে তাদের টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।
২ দিন আগে
বোরো মৌসুম মানে বাংলাদেশের কৃষির সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে এই একটি মৌসুম থেকে। ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত কৃষকের পুরো জীবন আবর্তিত হয় এই ফসলকে ঘিরে। হাল চাষ থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কৃষকের শরীরে ঘাম, চোখে স্বপ্ন। কিন্তু এবার সেই স্বপ্নের গায়ে
২ দিন আগে