পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির নেপথ্যে অবাঙালি পুঁজির নিয়ন্ত্রণ

শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ
শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ২১: ২৮
স্ট্রিম গ্রাফিক

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফল প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই নানা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ সামনে আসতে শুরু করেছে। নানারকম মতামত নানা শিবির থেকে উঠে আসছে। তার মধ্যে কতগুলো সাধারণ সূত্রও দেখা যাচ্ছে।

প্রথমত, তৃণমূল সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে শাসকবিরোধী মনোভাব সামনে আসে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্ষমতাসীনের ঔদ্ধত্য, জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, দলটিকে করপোরেট কাঠামোয় সাজানোর ফলে সাধারণ কর্মীদের থেকেও দূরত্ব ইত্যাদি।

দ্বিতীয়ত, এরই সঙ্গে অনেকে যুক্ত করছেন ভোটে হিন্দু-মুসলিম ভাগ হয়ে যাওয়াকে। সেই যে ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) শুরু হলো, বিপুলসংখ্যক সংখ্যালঘু, দলিত, আদিবাসী, নারী ও রূপান্তরকামী ইত্যাদি বাদ পড়লেন লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কোপে। তারপরে বিচারাধীন অবস্থাতেও, সেই সময়েই এই ভাগাভাগিটা হয়েছে বলে তাদের দাবি। তারই সঙ্গে যুক্ত করছেন মুর্শিদাবাদে বা মালদহের গোষ্ঠীগত অশান্তির প্রভাবকেও। এমনকি বাংলাদেশের রাষ্ট্রনৈতিক ক্ষেত্রে যে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে, সাম্প্রতিককালে তাকেও কারণ হিসেবে ধরছেন। এরই সঙ্গে, শুভেন্দু অধিকারীর সিপিআই(এম)-কে ভোট ট্রান্সফার করার জন্য ধন্যবাদ জানানো, আইএসএফ, হুমায়ুন কবীরের দল, কংগ্রেসের সংখ্যালঘু ভোট কাটা ইত্যাদিও কারণ।

মোট কথা তারা একটা হিসাব খাড়া করছেন, যেখানে তথাকথিত মৃত ও স্থানান্তরিত সমেত ৯১ লাখের কাছাকাছি নাম বাদ যাওয়া, সেই বিষয়ে মানুষের ক্ষোভ, ফরম-৭ এবং ফরম ৬-এর যথাক্রমে বাদ ও অন্তর্ভুক্তিকরণ, এসব হয় ধর্তব্যের মধ্যে নয় বা নেতিবাচক ভাবে উল্লিখিত। অর্থাৎ নাম বাদ যাওয়ার ক্ষোভটা গিয়ে পড়েছে তৃণমূল সরকারের ওপর।

১৯৪৭-এর পরে কংগ্রেস সরকার পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছিল। প্রথমে গান্ধীবাদী প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ, তারপরে এলেন বিধান রায়। এখানে একটি ঘটনার কথা বলাটা অপ্রাসঙ্গিক হবে না বোধহয়। প্রফুল্লবাবু, মজুতদারি রুখতে কড়া হয়েছিলেন।

এর বাইরে আরও একদল আছেন, যাঁরা দুটি ভাগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। একটি হলো, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির মাধ্যমে বিচারাধীন করে রাজ্যের শাসকদলের জোরালো ভোটার সংখ্যার অঞ্চলগুলিকে প্রবল দুর্বল করে দেওয়া। অন্যটি হলো, রাজনৈতিক দলগুলোর মোট ভোট প্রাপ্তির সঙ্গে প্রাপ্ত আসন সংখ্যার বড় অমিল।

২০২১ সালে বিজেপির মোট প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩৮ শতাংশ, তৃণমূলের ৪৮ শতাংশ। ২০২৬ সালে বিজেপি পেয়েছে ৪৫ শতাংশ এবং তৃণমূল ৪১ শতাংশ। ব্যবধান ৪ শতাংশ। অথচ আসনসংখ্যায় এক বিপুল পার্থক্য দেখা দিয়েছে প্রতি ১ শতাংশ ভোটে। ২০২১ সালে যেখানে প্রতি ১ শতাংশে আসনসংখ্যা ছিল ১৪টি, ২০২৬ সালে সেটি দ্বিগুণ পার হয়ে ৩০টিতে দাঁড়িয়েছে। মানে ১০ শতাংশ পার্থক্যে যা ছিল ১৩৭ টি আসন, মাত্র ৪ শতাংশেই তা হয়ে গিয়েছে ১২১টি আসন।

নির্বাচনী বিশ্লেষকেরা একে ব্যাখ্যা করতে পারছেন না। যদি সারা রাজ্যে জনবিন্যাসের হার সমান হয়, তাহলে সামান্য ভোট পার্থক্যই অনেক কিছু পাল্টে দিতে পারে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস তো তেমন সমান নয়। তাহলে এখানে এত পার্থক্য হয় কেমন করে? সঙ্গে যোগেন্দ্র যাদবের মতো বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসআইআর-এর শেষ পর্যায়ে ঠিক ৪ দশমিক ৩ শতাংশ নামই বাদ গিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন তাহলে এই বাদ যাওয়া অংশটি ভোট দিতে পারলে কী হতো? এই একই কথাকে অন্য তথ্য দিয়েও হাজির করা চলে। ৩০ লাখের মতো ভোটের ব্যবধান ছিল বাংলায় বিজেপি ও তৃণমূলের। ৯০ লাখ বাদ গেছে প্রথমে। পরে বিচারাধীন থেকে বাদ গিয়েছে ২৭ লাখ। ফরম-৭-এর দৌলতে বাদ সাড়ে পাঁচ লাখ। ফরম ৬-এর মাধ্যমে যুক্ত সাড়ে ছয় লাখ। অর্থাৎ আবারও এসআইআর, যার বৈধতা আজও ভারতের সর্বোচ্চ বিচারালয় নির্ধারণ করলেন না, তার মাধ্যমে বাদ যাওয়া ভোটাররা সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে এই ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সর্বৈব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেন।

কিন্তু এসব তথ্য এখন কম-বেশি অনেকেই জানেন। এও জানেন তৃণমূল প্রধান মমতা ব্যানার্জি থেকে শুরু করে তাঁদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন কাউন্টিং-এর সময় কাউন্টিং দখল করে নেওয়ার। সিআরপিএফ এবং ইলেকশন কমিশনের কর্মকর্তারা ছিলেন দর্শকমাত্র। এখন এই সব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হতে পারে শুধুমাত্র সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেলে। তা পাওয়া যাবেই, এমন বোধহয় হলফ করে কেউ বলতে পারবেন না। অতএব, রাহুল গান্ধীসহ বাকি বিরোধী দলনেতারা ভারতীয় গণতন্ত্রের কলঙ্কিত অধ্যায় বলে যে একে চিহ্নিত করছেন, তা আপাতত শুধু অভিযোগের আকারেই থেকে যাওয়ার অবস্থা।

এবারে এসব বাদ দিয়ে আমরা কী দেখিনি আর কী শিখিনি সেদিকে তাকাই একটু? পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পটপরিবর্তনে খানিক সময় লাগে এইটাই আমাদের পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা। সচরাচর সেই পরিবর্তনকে আমরা বিরোধীদের দিক থেকে যতটা দেখি, ততটা শাসকের দিক থেকে দেখি না। সেটা সামান্য দেখা যাক।

১৯৪৭-এর পরে কংগ্রেস সরকার পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছিল। প্রথমে গান্ধীবাদী প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ, তারপরে এলেন বিধান রায়। এখানে একটি ঘটনার কথা বলাটা অপ্রাসঙ্গিক হবে না বোধহয়। প্রফুল্লবাবু, মজুতদারি রুখতে কড়া হয়েছিলেন।

১৯৪৭-এর আগের বাংলায় এই মজুতদারির অভিযোগ উঠেছিল সোহরাওয়ার্দির বিরুদ্ধে। ইস্পাহানিকে দিয়ে চাল কেনানো দিয়ে তা শুরু। সেই সময়কার বাংলার ভদ্রবিত্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে সোহরাওয়ার্দি ঘৃণ্য নাম তখনই হতে শুরু করেছিলেন। পরে তো আরও কুখ্যাত হন ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র জন্য।

দ্বারকানাথ ব্যবসা করেছেন বিশাল, কিন্তু একা ভারতীয় হিসেবে করতে পারেননি। ইউরোপীয় পার্টনার নিয়েই করেছেন। কয়লা, রেল, ব্যাঙ্ক ইত্যাদি ক্ষেত্রে দ্বারকানাথ কিংবা জাহাজ ভাঙার রামদুলালরা যে উদ্যমে ব্যবসা করছিলেন তাতে ব্রিটিশ ব্যবসানীতি পাল্টায়।

যা-ই হোক, প্রফুল্লবাবু বড়বাজারে মজুতদারি বন্ধ করতে উদ্যত হলে রাতারাতি বিড়লাদের নেতৃত্বে তাঁকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এবং বিধান রায়, একই বিমানে গিয়েছিলেন। গান্ধীই সেখানে তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন। বিধানচন্দ্র, যিনি কংগ্রেসেরও বিরোধ করেছেন স্বাধীনতার আগে, তিনি হয়ে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর বড়বাজারের ওপর আক্রমণ বন্ধ হয়ে গেল।

এটা আমাদের মনে রাখার প্রয়োজন এই কারণে যে আমাদের বাঙালিদের অর্থনৈতিক শক্তি এবং তার বিকাশ আসলে স্বাধীনতার বহু আগে থেকেই কমতে থেকেছে। জমি সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া বেশিরভাগ ধনী হিন্দু ও মুসলিম ভদ্রলোকদেরও, ব্যবসার দিকে কম যাওয়া, বা গেলেও সে ক্ষেত্রে লড়াই করতে না পেরে সরে আসা, এগুলো ঐতিহাসিক সত্য।

দ্বারকানাথ ব্যবসা করেছেন বিশাল, কিন্তু একা ভারতীয় হিসেবে করতে পারেননি। ইউরোপীয় পার্টনার নিয়েই করেছেন। কয়লা, রেল, ব্যাঙ্ক ইত্যাদি ক্ষেত্রে দ্বারকানাথ কিংবা জাহাজ ভাঙার রামদুলালরা যে উদ্যমে ব্যবসা করছিলেন তাতে ব্রিটিশ ব্যবসানীতি পাল্টায়। বেনিয়ান বা মুৎসুদ্দি থেকে সব ধরনকেই তাদের সুবিধার্থে চালায়। ব্যবসার ক্ষেত্রে ১৮১০ সালের এক আইন অনুসারে সামান্য কেরানির ওপর ধনী মুৎসুদ্দি থেকে ব্যবসায়ীদের নির্ভরশীল থাকতে হতো। সম্পদশালী বাঙালি বাবু সমাজ কেরানির কথা অনুযায়ী চলবেন না বলে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য থেকেও সরে গেলেন জমিতে বিনিয়োগ করে।

সেই জায়গায় এসেছিলেন যোধপুর ও শেখাবতীর লোকেরা মুখ্যত। অমিয় কুমার বাগচী, কর্নেল ওয়েডের ১৮৩০ সালের বিবরণ থেকে দেখান সিন্ধু আর শতদ্রু তীরে তারাই ইউরোপীয় পণ্যের ব্যবসা করতেন। ব্রিটিশ শাসনের হাত ধরে পার্শি থেকে ক্ষেত্রি সবাইকে টেক্কা দিয়ে অধুনাতন ভারতের সব প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন। তাদের নিজেদের যোগাযোগ অত্যন্ত ভালো এবং কম লাভে ব্যবসা করতেন। তারাই দখল করে নিলেন বড়বাজার। এই বড়বাজার এবং কংগ্রেস নিয়ে রাজশেখর পরশুরাম ছদ্মনামে স্বভাবসিদ্ধ রসিকতা করতে ছাড়েননি। কারণ, একসময় বলাই হতো বাংলায় দুটি কংগ্রেস, একটি বড়বাজার, অন্যটি প্রদেশ।

বিধান চন্দ্র রায় ওই বড়বাজার কমিটির নির্দেশেই রাজত্ব চালাতেন। এমন একটা সময় যখন বাংলা বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। একদিকে বিপুল উদ্বাস্তু সমস্যা বাড়ছে, অন্যদিকে বাংলার অন্যতম লাভজনক শিল্পের পাট উৎপাদক পূর্ববঙ্গ আর কলকারখানা সমন্বিত পশ্চিমবঙ্গ আলাদা। অতএব পাট বা চটের সুদিনও আর নেই। তার মধ্যেই বড়বাজার এবং অবাঙালি পুঁজিপতিরা বেশ কিছুকাল ধরেই চট, ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি শিল্প থেকে পুঁজি সরাচ্ছিলেন নিজেদের জন্য আরও সুবিধাজনক রাজ্যে। ছোট ছোট উদাহরণ দিলে বোঝা সহজ হবে, কী ধরনের ভিত্তির ওপর তাঁদের শিল্প, বাণিজ্য ও অন্যান্য কাজকর্ম চলত।

১৯২১ সালের শেষার্ধ থেকে যখন টাকার দাম নামতে থাকে তখন তাদের উৎসাহের পরিবর্তে তীব্র বিরোধিতা দেখা দেয়। অসহযোগ আন্দোলনের কর্মীদের এক সম্মেলনে মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি পদ্মরাজ জৈন সাবধান করে দেন যে পিকেটিং হলে তারা বাধা দেবেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বড়বাজার জেলা কংগ্রেস কমিটি বাংলা কংগ্রেসের শাখা হলেও বাংলা কংগ্রেসকে তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকার করে এবং সরাসরি কেন্দ্রে জমা দিতেন।

অসহযোগ আন্দোলনের কথা বলি। তখন ১৯২০ সাল। বিড়লা ইত্যাদির সঙ্গে পরামর্শের পরে স্থির হয় এই আন্দোলনে বিদেশি পণ্য বর্জন করা হবে। ১৯২০ সালের ফেব্রুয়ারির পরে ব্রিটিশ পাউন্ডের নিরিখে ভারতীয় টাকার প্রবল ঊর্ধ্বগতি হয়। ১৯২১ সালের মার্চের মধ্যে তা দ্বিগুণেরও বেশি হয়। তার আগে ইংরেজ কোম্পানিদের সঙ্গে বিলাতি কাপড়ের জন্য মাড়োয়ারি-গুজরাটি মুৎসুদ্দিরা যেসব চুক্তি করেছিল, সেগুলি ছিল পাউন্ডে। বিরাট লোকসান এড়াবার জন্য এইসব চুক্তি ভঙ্গ করা এবং বিলাতি কাপড় বর্জন করাই ছিল তাদের স্বার্থ। মুৎসুদ্দিরা ব্রিটিশ কাপড় বর্জনের আন্দোলনকে অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে সমর্থন করেছিলেন।

কিন্তু ১৯২১ সালের শেষার্ধ থেকে যখন টাকার দাম নামতে থাকে তখন তাদের উৎসাহের পরিবর্তে তীব্র বিরোধিতা দেখা দেয়। অসহযোগ আন্দোলনের কর্মীদের এক সম্মেলনে মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি পদ্মরাজ জৈন সাবধান করে দেন যে পিকেটিং হলে তারা বাধা দেবেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বড়বাজার জেলা কংগ্রেস কমিটি বাংলা কংগ্রেসের শাখা হলেও বাংলা কংগ্রেসকে তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকার করে এবং সরাসরি কেন্দ্রে জমা দিতেন। তাই পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ও আচরণকে এই সম্পর্কের ভিত্তিতেই দেখতে হবে। তা না হলে রাজনীতির ওপর তাদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হবে না।

এই নিয়ন্ত্রণের ফলে যখন কংগ্রেসের রাজত্বে পশ্চিমবঙ্গের কলকারখানা থেকে মূলধন চলে যেতে থাকল তখন বিধান চন্দ্র কিছুই করতে পারেননি। উল্টে মাশুল সমীকরণ নীতির ফলে পশ্চিমবঙ্গ যে খনিজ পদার্থের সুবিধে পেত, তা-ও চলে গেল। উল্টোদিকে পূর্ব-পাকিস্তান থেকে আগত বিপুল অংশের স্রোত, ভারতের মুখ্যত গো-বলয় ও ওড়িশার মতো রাজ্য থেকে শ্রমজীবী স্রোত কিন্তু অবিশ্রান্ত থাকল। অর্থনীতির সঙ্কট, রাজনৈতিক সঙ্কটকে বাড়ায়, যেমন উল্টোটাও হয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সঙ্কট যেভাবে বাড়ল, তাতে পরবর্তী ১৯৬৭-৭৭ বারবার রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল থেকে জরুরি অবস্থায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি ইত্যাদি চলতে থাকল।

(চলবে)

সম্পর্কিত