ইনবক্সের বাইরে-৭
মারুফ ইসলাম

ঘড়ির কাঁটা বলছে বিকেল, কিন্তু রোদের উত্তাপ বলছে খাঁ খাঁ দুপুর। গুমোট গরমে বাতাসের ভেতরে তপ্ত বারুদের ঘ্রাণ। একটু হাঁটব বলে এসেছিলাম ধানমন্ডি লেকে। এখন মনে হচ্ছে, বসতে হবে। রোদে-গরমে কুকুরের জিহ্বা বের হয়ে যাওয়ার মতো হাঁপাচ্ছি।
অদূরে একটি বেঞ্চে চোখ গেল। এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক খুব মনোযোগ দিয়ে পত্রিকা পড়ছিলেন। চিনতে অসুবিধা হলো না। ইমতিয়াজ সাহেব। এখানে নিয়মিত হাঁটতে এসেই পরিচয় হয়েছিল তাঁর সঙ্গে।
কাছে গিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম—‘স্লামালিকুম আংকেল!’
ইমতিয়াজ সাহেব চশমার ওপর দিয়ে তাকিয়ে পরিচিত মানুষের মতো হাসি দিলেন।
বললাম, ‘কী পড়ছেন এত মনোযোগ দিয়ে?’
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বললেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটা কী বললেন? ভেবে বললেন নাকি যা মনে আসে তাই বললেন? অ্যাবসার্ড!’
আমি বুঝলাম তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে ইশারা করছেন। সীমান্ত হত্যা নিয়ে মন্ত্রীর যুক্তিটা বেশ বিচিত্র—অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অপরাধের দায়ে যদি বিএসএফ আইনি পদক্ষেপ নেয়, তবে তাকে নাকি ‘সীমান্ত হত্যা’ বা ‘বর্ডার কিলিং’ বলা যাবে না।
ইমতিয়াজ সাহেবের বিষণ্ণ চোখের দিকে তাকিয়ে আমার ইতালীয় দার্শনিক জর্জিও আগামবেনের কথা মনে পড়ল। আগামবেন তাঁর ‘হোমো সাকার’ তত্ত্বে এক ধরনের অভিশপ্ত মানুষের কথা বলেছেন। ওই মানুষদের যে কেউ হত্যা করতে পারে। তাতে কাউকে হত্যাকারী বা খুনি বলে গণ্য করা হয় না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি তবে সীমান্তে হত্যার শিকার হওয়া মানুষদের ‘অভিশপ্ত মানুষ’ বলে অভিহিত করলেন, যাকে আগামবেন বলেছেন ‘বেয়ার লাইফ’?
আমার চিন্তায় ছেদ পড়ল ইমতিয়াজ সাহেবের কথায়। তিনি বলে চলেছেন, ইন্ডিয়ার কারবারটা দেখেছেন? অবৈধ বাংলাদেশী’ বলে একদল মানুষকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আমি গলায় গাম্ভীর্য এনে বললাম, ভূরাজনীতি ভাই, ভূরাজনীতি।
ইমতিয়াজ সাহেব ক্ষেপে গিয়ে বললেন, রাখেন আপনার ভূরাজনীতি। ওসব শক্ত শক্ত কথা বুঝি না। ভারত যে রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের মতো আরেকটা ক্রাইসিস বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিতে চায়, সেটা ভালোমতোই বুঝি।
এসব ধারণামূলক কথার পিঠে কথা বললে শুধু অর্থহীন কথাই বাড়ে। চুপচাপ লেকের পানির দিকে তাকিয়ে থাকলাম।
লেকের পাড়ে জটলা বাড়ছে। পাশের বেঞ্চে বসে থাকা দুই তরুণের আলাপ কানে এল। তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন ‘দিল্লি না ঢাকা’। খবর রটেছে, শেখ হাসিনা নাকি শিগগিরই দেশে ফিরছেন। আওয়ামী লীগ আবার সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ছিঁচকে কর্মীরা এখানে সেখানে ঝটিকা মিছিল করছে, গ্রেপ্তার হচ্ছে। অন্যদিকে বড় বড় নেতারা জামিনে মুক্তি পাচ্ছে।
ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর শিক্ষক। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এলবা দ্বীপ থেকে ফিরে এসে ইউরোপের রাজনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। পরে তাঁর ভাতিজা লুই-নেপোলিয়ন বোনাপার্ট যখন ক্ষমতা দখল করেন, তখন সেই ঘটনাকে স্মরণ করে কার্ল মার্ক্স তাঁর দ্য এইটিনথ ব্রুমেয়ার অব লুই নেপোলিয়ন বইয়ে লিখেছিলেন, ‘ইতিহাসের মহৎ ঘটনা যেন দুবার আবির্ভূত হয়—প্রথমবার ট্র্যাজেডি হিসেবে, দ্বিতীয়বার প্রহসন হিসেবে।’
বাংলাদেশের রাজনীতি কি তবে সেই প্রহসনের দিকেই হাঁটছে? মাত্র দুবছর আগের জুলাইয়ের তপ্ত দুপুরে নগরের দেয়ালগুলোতে যে নতুন বাংলাদেশের গ্রাফিতি লেখা হয়েছিল, সেই দেয়ালগুলো কি এখন স্মৃতির ভার সইতে পারছে না? রাজনীতির এই ‘রিটার্ন অফ দ্য রিপ্রেসড’ বা অবদমিতের ফিরে আসা কি সমাজকে এক নতুন রক্তক্ষয়ী দ্বৈরথের দিকে ঠেলে দেবে?
অনেক প্রশ্ন। উত্তর নেই।
ভাবতে ভাবতে মোবাইলফোনটা বের করলাম। ফেসবুকের নিউজফিডজুড়ে তখন অন্য এক উন্মাদনা। উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী তাঁর চেয়ে বয়সে প্রায় দুই যুগ বড় বয়সী একজনকে বিয়ে করেছেন। এই একটি খবর যেন দেশের যাবতীয় সীমান্ত হত্যা আর রাজনৈতিক সংকটকে এক নিমেষে আড়ালে ঠেলে দিয়েছে। ডিজিটাল গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকরা এখন উল্লাসে মেতেছে। কে কাকে কত বেশি কদর্য ভাষায় আক্রমণ করতে পারে, কার ট্রল কত বেশি শেয়ার হয়, তারই আদিম উগ্র প্রতিযোগিতা। এ যেন আধুনিক ‘পলিটিক্যাল সার্কাস’।
প্লেটো তাঁর রিপাবলিক-এ বলেছিলেন, রাষ্ট্র যখন আত্মার শাসন হারায়, তখন তা ‘অ্যাপেটিটিভ’ বা পাশবিক প্রবৃত্তির হাতে চলে যায়। দীপ্তি চৌধুরীর ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের এই যে সম্মিলিত ভয়েরিজম বা পরসুখভোগী কৌতূহল, এটিই সম্ভবত আমাদের ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর আসল চরিত্র। এই নতুন বাংলাদেশে আমরা সীমান্তে গুলি খেয়ে মরব, কিন্তু সেটিকে হত্যা বলতে পারব না, অথচ এক নারীর বিয়ের বয়সের ব্যবধান নিয়ে জাতীয় ট্র্যাজেডির মতো হাহাকার করব। মাত্র দুই বছর আগে শত শত তরুণ বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে একটা গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছিলাম কি সেই পুরোনো পচা পুতিগন্ধময় বাংলাদেশটাই দেখার জন্য? এদেশের কি কিছুই বদলাবে না?
মিশেল ফুকো তাঁর ‘প্যানোপটিকন’ তত্ত্বে দেখিয়েছিলেন, রাষ্ট্র কীভাবে নজরদারি করে। কিন্তু আজকের ডিজিটাল যুগে আমরা নিজেরাই একেকজন নজরদারি যন্ত্র হয়ে উঠেছি। আমরা পাশের মানুষের বেডরুম থেকে শুরু করে তার জীবনদর্শন পর্যন্ত সবকিছুকে আমাদের বিচারিক ছুরির নিচে রাখতে চাই। তাই সেই ছুরি থেকে রেহাই পায় না দীপ্তি চৌধুরীও।
হঠাৎ বিকেল গড়িয়ে আকাশে ঘন মেঘ জমে উঠেছে। মাতাল হাওয়া বইতে শুরু করেছে লেকের জলে। ইমতিয়াজ সাহেব বললেন, চলুন চলুন, ঘরে ফেরা যাক।
আমি দাঁড়িয়ে ভাবলাম, আমাদের এই ভূখণ্ডের মানুষের চাওয়াগুলো বড় বিচিত্র। আমরা সীমান্তে লাশের বিচার চাই না, কিন্তু কার স্ত্রী তার স্বামীর চেয়ে কত ছোট, সেই হিসাব আমরা মিলিমিটার মেপে করি। আমরা সিস্টেম পরিবর্তনের বিপ্লব করি, আবার সেই পুরনো সিস্টেমের কারিগরদের ফিরে আসার আশঙ্কায় তটস্থ থাকি।
ঢাকায় সন্ধ্যা নামছে ধুলো আর ধোঁয়ার কুয়াশা মেখে। রিকশায় বসে যখন নিয়ন আলোর দিকে তাকালাম, তখন মনে হলো, আমরা আসলে এক অদৃশ্য কাঁটাতারের ভেতরেই বাস করছি। সেই কাঁটাতার যতটা না সীমান্তে, তার চেয়েও বেশি আমাদের মগজে। মন্ত্রীর দেওয়া সংজ্ঞার মতো আমরাও আমাদের ঘৃণা আর কুসংস্কারকে প্রতিদিন নতুন নতুন নামে জায়েজ করছি।
বৃষ্টি নামতে শুরু করেছে। বৃষ্টির ঝাপটায় দেয়ালের গ্রাফিতিগুলো একটু ঝাপসা দেখাচ্ছে। যে তরুণেরা নতুন দিনের ডাক দিয়েছিল, তাদের স্বপ্নের ওপর কি তবে ঝেঁপে আসা অন্ধকার আর সম্মিলিত ট্রল সংস্কৃতির ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছে?
উত্তরটা বৃষ্টির শব্দের ভেতর কোথাও হারিয়ে গেল। আমি শুধু দেখলাম, শহরটা দ্রুত ভিজে যাচ্ছে এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তায়।

ঘড়ির কাঁটা বলছে বিকেল, কিন্তু রোদের উত্তাপ বলছে খাঁ খাঁ দুপুর। গুমোট গরমে বাতাসের ভেতরে তপ্ত বারুদের ঘ্রাণ। একটু হাঁটব বলে এসেছিলাম ধানমন্ডি লেকে। এখন মনে হচ্ছে, বসতে হবে। রোদে-গরমে কুকুরের জিহ্বা বের হয়ে যাওয়ার মতো হাঁপাচ্ছি।
অদূরে একটি বেঞ্চে চোখ গেল। এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক খুব মনোযোগ দিয়ে পত্রিকা পড়ছিলেন। চিনতে অসুবিধা হলো না। ইমতিয়াজ সাহেব। এখানে নিয়মিত হাঁটতে এসেই পরিচয় হয়েছিল তাঁর সঙ্গে।
কাছে গিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম—‘স্লামালিকুম আংকেল!’
ইমতিয়াজ সাহেব চশমার ওপর দিয়ে তাকিয়ে পরিচিত মানুষের মতো হাসি দিলেন।
বললাম, ‘কী পড়ছেন এত মনোযোগ দিয়ে?’
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বললেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটা কী বললেন? ভেবে বললেন নাকি যা মনে আসে তাই বললেন? অ্যাবসার্ড!’
আমি বুঝলাম তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে ইশারা করছেন। সীমান্ত হত্যা নিয়ে মন্ত্রীর যুক্তিটা বেশ বিচিত্র—অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অপরাধের দায়ে যদি বিএসএফ আইনি পদক্ষেপ নেয়, তবে তাকে নাকি ‘সীমান্ত হত্যা’ বা ‘বর্ডার কিলিং’ বলা যাবে না।
ইমতিয়াজ সাহেবের বিষণ্ণ চোখের দিকে তাকিয়ে আমার ইতালীয় দার্শনিক জর্জিও আগামবেনের কথা মনে পড়ল। আগামবেন তাঁর ‘হোমো সাকার’ তত্ত্বে এক ধরনের অভিশপ্ত মানুষের কথা বলেছেন। ওই মানুষদের যে কেউ হত্যা করতে পারে। তাতে কাউকে হত্যাকারী বা খুনি বলে গণ্য করা হয় না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি তবে সীমান্তে হত্যার শিকার হওয়া মানুষদের ‘অভিশপ্ত মানুষ’ বলে অভিহিত করলেন, যাকে আগামবেন বলেছেন ‘বেয়ার লাইফ’?
আমার চিন্তায় ছেদ পড়ল ইমতিয়াজ সাহেবের কথায়। তিনি বলে চলেছেন, ইন্ডিয়ার কারবারটা দেখেছেন? অবৈধ বাংলাদেশী’ বলে একদল মানুষকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আমি গলায় গাম্ভীর্য এনে বললাম, ভূরাজনীতি ভাই, ভূরাজনীতি।
ইমতিয়াজ সাহেব ক্ষেপে গিয়ে বললেন, রাখেন আপনার ভূরাজনীতি। ওসব শক্ত শক্ত কথা বুঝি না। ভারত যে রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের মতো আরেকটা ক্রাইসিস বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিতে চায়, সেটা ভালোমতোই বুঝি।
এসব ধারণামূলক কথার পিঠে কথা বললে শুধু অর্থহীন কথাই বাড়ে। চুপচাপ লেকের পানির দিকে তাকিয়ে থাকলাম।
লেকের পাড়ে জটলা বাড়ছে। পাশের বেঞ্চে বসে থাকা দুই তরুণের আলাপ কানে এল। তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন ‘দিল্লি না ঢাকা’। খবর রটেছে, শেখ হাসিনা নাকি শিগগিরই দেশে ফিরছেন। আওয়ামী লীগ আবার সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ছিঁচকে কর্মীরা এখানে সেখানে ঝটিকা মিছিল করছে, গ্রেপ্তার হচ্ছে। অন্যদিকে বড় বড় নেতারা জামিনে মুক্তি পাচ্ছে।
ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর শিক্ষক। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এলবা দ্বীপ থেকে ফিরে এসে ইউরোপের রাজনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। পরে তাঁর ভাতিজা লুই-নেপোলিয়ন বোনাপার্ট যখন ক্ষমতা দখল করেন, তখন সেই ঘটনাকে স্মরণ করে কার্ল মার্ক্স তাঁর দ্য এইটিনথ ব্রুমেয়ার অব লুই নেপোলিয়ন বইয়ে লিখেছিলেন, ‘ইতিহাসের মহৎ ঘটনা যেন দুবার আবির্ভূত হয়—প্রথমবার ট্র্যাজেডি হিসেবে, দ্বিতীয়বার প্রহসন হিসেবে।’
বাংলাদেশের রাজনীতি কি তবে সেই প্রহসনের দিকেই হাঁটছে? মাত্র দুবছর আগের জুলাইয়ের তপ্ত দুপুরে নগরের দেয়ালগুলোতে যে নতুন বাংলাদেশের গ্রাফিতি লেখা হয়েছিল, সেই দেয়ালগুলো কি এখন স্মৃতির ভার সইতে পারছে না? রাজনীতির এই ‘রিটার্ন অফ দ্য রিপ্রেসড’ বা অবদমিতের ফিরে আসা কি সমাজকে এক নতুন রক্তক্ষয়ী দ্বৈরথের দিকে ঠেলে দেবে?
অনেক প্রশ্ন। উত্তর নেই।
ভাবতে ভাবতে মোবাইলফোনটা বের করলাম। ফেসবুকের নিউজফিডজুড়ে তখন অন্য এক উন্মাদনা। উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী তাঁর চেয়ে বয়সে প্রায় দুই যুগ বড় বয়সী একজনকে বিয়ে করেছেন। এই একটি খবর যেন দেশের যাবতীয় সীমান্ত হত্যা আর রাজনৈতিক সংকটকে এক নিমেষে আড়ালে ঠেলে দিয়েছে। ডিজিটাল গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকরা এখন উল্লাসে মেতেছে। কে কাকে কত বেশি কদর্য ভাষায় আক্রমণ করতে পারে, কার ট্রল কত বেশি শেয়ার হয়, তারই আদিম উগ্র প্রতিযোগিতা। এ যেন আধুনিক ‘পলিটিক্যাল সার্কাস’।
প্লেটো তাঁর রিপাবলিক-এ বলেছিলেন, রাষ্ট্র যখন আত্মার শাসন হারায়, তখন তা ‘অ্যাপেটিটিভ’ বা পাশবিক প্রবৃত্তির হাতে চলে যায়। দীপ্তি চৌধুরীর ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের এই যে সম্মিলিত ভয়েরিজম বা পরসুখভোগী কৌতূহল, এটিই সম্ভবত আমাদের ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর আসল চরিত্র। এই নতুন বাংলাদেশে আমরা সীমান্তে গুলি খেয়ে মরব, কিন্তু সেটিকে হত্যা বলতে পারব না, অথচ এক নারীর বিয়ের বয়সের ব্যবধান নিয়ে জাতীয় ট্র্যাজেডির মতো হাহাকার করব। মাত্র দুই বছর আগে শত শত তরুণ বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে একটা গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছিলাম কি সেই পুরোনো পচা পুতিগন্ধময় বাংলাদেশটাই দেখার জন্য? এদেশের কি কিছুই বদলাবে না?
মিশেল ফুকো তাঁর ‘প্যানোপটিকন’ তত্ত্বে দেখিয়েছিলেন, রাষ্ট্র কীভাবে নজরদারি করে। কিন্তু আজকের ডিজিটাল যুগে আমরা নিজেরাই একেকজন নজরদারি যন্ত্র হয়ে উঠেছি। আমরা পাশের মানুষের বেডরুম থেকে শুরু করে তার জীবনদর্শন পর্যন্ত সবকিছুকে আমাদের বিচারিক ছুরির নিচে রাখতে চাই। তাই সেই ছুরি থেকে রেহাই পায় না দীপ্তি চৌধুরীও।
হঠাৎ বিকেল গড়িয়ে আকাশে ঘন মেঘ জমে উঠেছে। মাতাল হাওয়া বইতে শুরু করেছে লেকের জলে। ইমতিয়াজ সাহেব বললেন, চলুন চলুন, ঘরে ফেরা যাক।
আমি দাঁড়িয়ে ভাবলাম, আমাদের এই ভূখণ্ডের মানুষের চাওয়াগুলো বড় বিচিত্র। আমরা সীমান্তে লাশের বিচার চাই না, কিন্তু কার স্ত্রী তার স্বামীর চেয়ে কত ছোট, সেই হিসাব আমরা মিলিমিটার মেপে করি। আমরা সিস্টেম পরিবর্তনের বিপ্লব করি, আবার সেই পুরনো সিস্টেমের কারিগরদের ফিরে আসার আশঙ্কায় তটস্থ থাকি।
ঢাকায় সন্ধ্যা নামছে ধুলো আর ধোঁয়ার কুয়াশা মেখে। রিকশায় বসে যখন নিয়ন আলোর দিকে তাকালাম, তখন মনে হলো, আমরা আসলে এক অদৃশ্য কাঁটাতারের ভেতরেই বাস করছি। সেই কাঁটাতার যতটা না সীমান্তে, তার চেয়েও বেশি আমাদের মগজে। মন্ত্রীর দেওয়া সংজ্ঞার মতো আমরাও আমাদের ঘৃণা আর কুসংস্কারকে প্রতিদিন নতুন নতুন নামে জায়েজ করছি।
বৃষ্টি নামতে শুরু করেছে। বৃষ্টির ঝাপটায় দেয়ালের গ্রাফিতিগুলো একটু ঝাপসা দেখাচ্ছে। যে তরুণেরা নতুন দিনের ডাক দিয়েছিল, তাদের স্বপ্নের ওপর কি তবে ঝেঁপে আসা অন্ধকার আর সম্মিলিত ট্রল সংস্কৃতির ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছে?
উত্তরটা বৃষ্টির শব্দের ভেতর কোথাও হারিয়ে গেল। আমি শুধু দেখলাম, শহরটা দ্রুত ভিজে যাচ্ছে এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তায়।

যেসব প্রাণী নির্দিষ্ট ধরনের আবাসস্থলের ওপর নির্ভরশীল কিংবা যাদের আবাসস্থল বিশেষায়িত, তারাই সবচেয়ে দ্রুত হারে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে। কারণ এসব প্রাণীকে পরিবেশের সামান্য পরিবর্তনও তার জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে।
২ ঘণ্টা আগে
আজ আমাদের সামনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন দাঁড়িয়ে আছে—পৃথিবীর অন্যতম উর্বর কৃষিভূমির অধিকারী হয়েও কেন বাংলাদেশ তার নিজস্ব দেশীয় ধানের জাতগুলো নিয়ে বিশ্ববাজারে সুপরিচিত একটি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারেনি?
২ ঘণ্টা আগে
কোনো দেশে অন্য দেশের নাগরিক বেআইনিভাবে প্রবেশ বা অননুমোদিতভাবে অবস্থান করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে বৈকি। এটা ভারতের মতো বাংলাদেশের বেলায়ও সত্য। বাংলাদেশও কারও অনুপ্রবেশ কিংবা অননুমোদিত অবস্থান মেনে নেওয়ার কথা নয়।
৬ ঘণ্টা আগে
বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের কথা জানিয়েছিল। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ২০ হাজার কোটি টাকার ‘বিশেষ প্রাক-অর্থায়ন তহবিল’ গঠনের যে খবর মিলল, সেটা এমন সহায়তা নিতে আগ্রহীদের মনে স্বস্তি জোগাবে।
১ দিন আগে