ড. মো. শহিদুল ইসলাম

বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের ইতিহাসে কিছু অঞ্চল বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্র যেমন দেশের খাদ্য উৎপাদনের নতুন শক্তিকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তেমনি মধ্যাঞ্চলের মধুপুর গড় ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ফল উৎপাদন, পুষ্টি নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের অন্যতম জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ধারণ করে। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এখনই একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। সময় এসেছে ‘মধুপুর গড় ২০৪০’ নামে একটি জাতীয় রূপান্তর কর্মসূচি গ্রহণের।
মধুপুর গড় বাংলাদেশের বৃহত্তম প্লাইস্টোসিন সোপানভূমি। টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর এবং ঢাকা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত এই ভূখণ্ড দেশের অন্যান্য নদীবাহিত সমভূমি থেকে ভিন্ন। এর লালচে-বাদামি মাটি, উঁচু ভূমি, বিশেষ জলবায়ু এবং ঐতিহাসিক শালবন একে অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। একসময় এ অঞ্চল ছিল ঘন শালবনের রাজ্য। আজও মধুপুর জাতীয় উদ্যান ও আশপাশের বনাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ।
কিন্তু গত কয়েক দশকে মধুপুর গড়ের চেহারায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বনভূমির উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষি, বসতি ও অন্যান্য ব্যবহারে রূপান্তরিত হয়েছে। একই সঙ্গে এ অঞ্চল দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফল উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে আনারস, কলা, পেঁপে, কাঁঠাল, লেবুজাতীয় ফল, আদা, হলুদ ও বিভিন্ন সবজির উৎপাদনে মধুপুর অঞ্চল এখন সুপরিচিত।
বাংলাদেশ ইতিমধ্যে খাদ্যশস্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ কেবল পেট ভরানোর খাদ্য নয়; বরং নিরাপদ, পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় খাদ্য নিশ্চিত করা। শিশু, নারী ও প্রবীণদের মধ্যে অপুষ্টি এবং ভিটামিন ও খনিজ ঘাটতি এখনও একটি বড় সমস্যা। তাই আগামী দশকে ফল, সবজি ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে মধুপুর গড় বাংলাদেশের ‘পুষ্টি ভাণ্ডার’ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে দেশের জনপ্রতি ফল গ্রহণ আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় এখনও কম। অথচ মধুপুর গড়ে এমন পরিবেশ রয়েছে যেখানে সারা বছর বিভিন্ন ধরনের ফল উৎপাদন সম্ভব। প্রচলিত আনারস, কলা ও পেঁপের পাশাপাশি উন্নত জাতের আম, মাল্টা, কমলা, লেবু, ড্রাগন ফল, অ্যাভোকাডো, সফেদা, রাম্বুটান এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের ফল সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও গবেষণার মাধ্যমে মধুপুর গড়কে দেশের ‘ফল রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
তবে উন্নয়নের পথে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো শালবনের ক্রমাগত সংকোচন। বনভূমি হারালে শুধু গাছ নয়, হারিয়ে যাবে জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং প্রাকৃতিক জলাধারণ ক্ষমতা। তাই বন সংরক্ষণ ও কৃষি উন্নয়নকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে দেখতে হবে।
এ ক্ষেত্রে কৃষি-বনায়ন বা এগ্রোফরেস্ট্রি হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। শাল, ফলগাছ এবং কৃষি ফসলের সমন্বিত উৎপাদন ব্যবস্থা কৃষকের আয় বৃদ্ধি করবে, একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণেও সহায়ক হবে। বিশ্বের বহু দেশে এই মডেল সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। মধুপুর গড়েও এটি বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাটির স্বাস্থ্য অবনতি। দীর্ঘদিন ধরে একমুখী চাষাবাদ, জৈব পদার্থের ঘাটতি এবং অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে অনেক স্থানে মাটির উর্বরতা কমছে। তাই ‘মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার কর্মসূচি’ গ্রহণ করা জরুরি। জৈব সার, কম্পোস্ট, সবুজ সার, বায়োচার এবং অণুজীবভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
পানি ব্যবস্থাপনাও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মধুপুর গড় উঁচু ভূমি হওয়ায় বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যায়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। এ সমস্যা সমাধানে খাল পুনঃখনন, ক্ষুদ্র জলাধার নির্মাণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির দক্ষ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এ অঞ্চলে ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘ খরা এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদনে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই খরা-সহনশীল ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ অপরিহার্য।
মধুপুর গড়ের কৃষি উন্নয়নের আরেকটি বড় সুযোগ হলো কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আনারস, কলা ও পেঁপে উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান না। সরকার সম্প্রতি সারাদেশে ক্ষুদ্র কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, মধুপুর অঞ্চলকে সেখানে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। পাশাপাশি ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, জুস কারখানা, শুকনো ফল উৎপাদন কেন্দ্র এবং রপ্তানিমুখী কৃষি ব্যবসা গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন কাঁঠালের ওপর। কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল এবং মধুপুর গড়ের অন্যতম প্রধান সম্পদ। পুষ্টিগুণ, জলবায়ু সহনশীলতা এবং বৈশ্বিক বাজার সম্ভাবনার কারণে কাঁঠালকে কেন্দ্র করে একটি জাতীয় মূল্যশৃঙ্খল গড়ে তোলা যেতে পারে। ‘জ্যাকফ্রুট ভ্যালি অব বাংলাদেশ’ হিসেবে মধুপুর অঞ্চলকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করার সুযোগও রয়েছে।
এখন সময় এসেছে ‘মধুপুর গড় ২০৪০’ নামে একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের। এই কর্মসূচির আওতায় ছয়টি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেতে পারে—
প্রথমত, শালবন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং অন্তত ৫০ হাজার হেক্টর অবক্ষয়িত বন পুনরুদ্ধার। শালবন মধুপুর গড়ের পরিবেশগত পরিচয়ের মূল ভিত্তি। বন উজাড়, অবৈধ দখল এবং প্রাকৃতিক অবক্ষয়ের ফলে হারিয়ে যাওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। দেশীয় বৃক্ষপ্রজাতির পুনরোপণ, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ, বনভিত্তিক গবেষণা জোরদার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি টেকসই বন ব্যবস্থাপনা মডেল গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে কার্বন শোষণ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয়ত, মধুপুর গড়কে দেশের প্রধান ফল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন অঞ্চলে রূপান্তর। আনারস, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, লেবুজাতীয় ফল, আম এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের ফলের উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ অঞ্চলকে দেশের ‘ফল ও পুষ্টি ভাণ্ডার’ হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। একই সঙ্গে পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি, মসলা ও ঔষধি ফসলের চাষ বৃদ্ধি করে জাতীয় পুষ্টি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। আধুনিক জাত, উন্নত চারা উৎপাদন এবং বাজারমুখী কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
তৃতীয়ত, কৃষি-বনায়ন, নিরাপদ কৃষি ও জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তির সম্প্রসারণ। কৃষি ও বনকে সমন্বিত করে এগ্রোফরেস্ট্রি মডেলের ব্যাপক সম্প্রসারণ প্রয়োজন। পাশাপাশি জৈব সার, বায়োচার, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং খরা-সহনশীল ফসলের ব্যবহার বাড়াতে হবে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য রাসায়নিকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণাভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
চতুর্থত, কোল্ড চেইন, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি অবকাঠামো গড়ে তোলা। মধুপুর অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ ফল ও সবজি সংরক্ষণ, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, মিনি কোল্ড স্টোরেজ, সংগ্রহ কেন্দ্র এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, জুস ও পাল্প উৎপাদন কেন্দ্র, শুকনো ফল শিল্প এবং রপ্তানিমুখী কৃষি ব্যবসার উন্নয়ন প্রয়োজন। এর ফলে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে, অপচয় কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
পঞ্চমত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে গারো ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। মধুপুর গড়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগণের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। গারোসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমি, সংস্কৃতি ও জীবিকার স্বার্থ সংরক্ষণ করে তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশীদার করতে হবে। কৃষি, বন, পর্যটন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করলে উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছাবে। এতে মধুপুর গড় একটি পরিবেশগতভাবে টেকসই, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মডেলে পরিণত হবে।
ষষ্ঠত, মধুপুর গড় গবেষণা, উদ্ভাবন ও ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। মধুপুরের বিশেষ ভূপ্রকৃতি, বনজ সম্পদ ও কৃষি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে একটি সমন্বিত গবেষণা ও উদ্ভাবন কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজম, প্রকৃতি শিক্ষা ও কৃষি-পর্যটনের বিকাশ স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে। গবেষণা, সংরক্ষণ ও পর্যটনের সমন্বয়ে মধুপুর গড় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি অনন্য উন্নয়ন মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি ‘মধুপুর গড় গবেষণা ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বন বিভাগের সমন্বয়ে একটি বিশেষ গবেষণা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের কৃষির ভবিষ্যৎ শুধু ধানের মাঠে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতের কৃষি হবে পুষ্টিকেন্দ্রিক, পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু সহনশীল এবং বাজারমুখী। সেই নতুন কৃষি অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হতে পারে মধুপুর গড়।
সঠিক পরিকল্পনা, গবেষণা, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে মধুপুর গড় বাংলাদেশের ফল উৎপাদন, পুষ্টি নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির এক অনন্য মডেলে পরিণত হতে পারে। একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে মধুপুর গড় শুধু একটি ভূখণ্ড নয়; এটি হতে পারে টেকসই উন্নয়ন, সবুজ প্রবৃদ্ধি এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতি গঠনের এক নতুন জাতীয় স্বপ্ন।

বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের ইতিহাসে কিছু অঞ্চল বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্র যেমন দেশের খাদ্য উৎপাদনের নতুন শক্তিকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তেমনি মধ্যাঞ্চলের মধুপুর গড় ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ফল উৎপাদন, পুষ্টি নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের অন্যতম জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ধারণ করে। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এখনই একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। সময় এসেছে ‘মধুপুর গড় ২০৪০’ নামে একটি জাতীয় রূপান্তর কর্মসূচি গ্রহণের।
মধুপুর গড় বাংলাদেশের বৃহত্তম প্লাইস্টোসিন সোপানভূমি। টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর এবং ঢাকা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত এই ভূখণ্ড দেশের অন্যান্য নদীবাহিত সমভূমি থেকে ভিন্ন। এর লালচে-বাদামি মাটি, উঁচু ভূমি, বিশেষ জলবায়ু এবং ঐতিহাসিক শালবন একে অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। একসময় এ অঞ্চল ছিল ঘন শালবনের রাজ্য। আজও মধুপুর জাতীয় উদ্যান ও আশপাশের বনাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ।
কিন্তু গত কয়েক দশকে মধুপুর গড়ের চেহারায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বনভূমির উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষি, বসতি ও অন্যান্য ব্যবহারে রূপান্তরিত হয়েছে। একই সঙ্গে এ অঞ্চল দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফল উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে আনারস, কলা, পেঁপে, কাঁঠাল, লেবুজাতীয় ফল, আদা, হলুদ ও বিভিন্ন সবজির উৎপাদনে মধুপুর অঞ্চল এখন সুপরিচিত।
বাংলাদেশ ইতিমধ্যে খাদ্যশস্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ কেবল পেট ভরানোর খাদ্য নয়; বরং নিরাপদ, পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় খাদ্য নিশ্চিত করা। শিশু, নারী ও প্রবীণদের মধ্যে অপুষ্টি এবং ভিটামিন ও খনিজ ঘাটতি এখনও একটি বড় সমস্যা। তাই আগামী দশকে ফল, সবজি ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে মধুপুর গড় বাংলাদেশের ‘পুষ্টি ভাণ্ডার’ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে দেশের জনপ্রতি ফল গ্রহণ আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় এখনও কম। অথচ মধুপুর গড়ে এমন পরিবেশ রয়েছে যেখানে সারা বছর বিভিন্ন ধরনের ফল উৎপাদন সম্ভব। প্রচলিত আনারস, কলা ও পেঁপের পাশাপাশি উন্নত জাতের আম, মাল্টা, কমলা, লেবু, ড্রাগন ফল, অ্যাভোকাডো, সফেদা, রাম্বুটান এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের ফল সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও গবেষণার মাধ্যমে মধুপুর গড়কে দেশের ‘ফল রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
তবে উন্নয়নের পথে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো শালবনের ক্রমাগত সংকোচন। বনভূমি হারালে শুধু গাছ নয়, হারিয়ে যাবে জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং প্রাকৃতিক জলাধারণ ক্ষমতা। তাই বন সংরক্ষণ ও কৃষি উন্নয়নকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে দেখতে হবে।
এ ক্ষেত্রে কৃষি-বনায়ন বা এগ্রোফরেস্ট্রি হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। শাল, ফলগাছ এবং কৃষি ফসলের সমন্বিত উৎপাদন ব্যবস্থা কৃষকের আয় বৃদ্ধি করবে, একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণেও সহায়ক হবে। বিশ্বের বহু দেশে এই মডেল সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। মধুপুর গড়েও এটি বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাটির স্বাস্থ্য অবনতি। দীর্ঘদিন ধরে একমুখী চাষাবাদ, জৈব পদার্থের ঘাটতি এবং অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে অনেক স্থানে মাটির উর্বরতা কমছে। তাই ‘মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার কর্মসূচি’ গ্রহণ করা জরুরি। জৈব সার, কম্পোস্ট, সবুজ সার, বায়োচার এবং অণুজীবভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
পানি ব্যবস্থাপনাও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মধুপুর গড় উঁচু ভূমি হওয়ায় বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যায়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। এ সমস্যা সমাধানে খাল পুনঃখনন, ক্ষুদ্র জলাধার নির্মাণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির দক্ষ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এ অঞ্চলে ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘ খরা এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদনে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই খরা-সহনশীল ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ অপরিহার্য।
মধুপুর গড়ের কৃষি উন্নয়নের আরেকটি বড় সুযোগ হলো কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আনারস, কলা ও পেঁপে উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান না। সরকার সম্প্রতি সারাদেশে ক্ষুদ্র কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, মধুপুর অঞ্চলকে সেখানে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। পাশাপাশি ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, জুস কারখানা, শুকনো ফল উৎপাদন কেন্দ্র এবং রপ্তানিমুখী কৃষি ব্যবসা গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন কাঁঠালের ওপর। কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল এবং মধুপুর গড়ের অন্যতম প্রধান সম্পদ। পুষ্টিগুণ, জলবায়ু সহনশীলতা এবং বৈশ্বিক বাজার সম্ভাবনার কারণে কাঁঠালকে কেন্দ্র করে একটি জাতীয় মূল্যশৃঙ্খল গড়ে তোলা যেতে পারে। ‘জ্যাকফ্রুট ভ্যালি অব বাংলাদেশ’ হিসেবে মধুপুর অঞ্চলকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করার সুযোগও রয়েছে।
এখন সময় এসেছে ‘মধুপুর গড় ২০৪০’ নামে একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের। এই কর্মসূচির আওতায় ছয়টি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেতে পারে—
প্রথমত, শালবন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং অন্তত ৫০ হাজার হেক্টর অবক্ষয়িত বন পুনরুদ্ধার। শালবন মধুপুর গড়ের পরিবেশগত পরিচয়ের মূল ভিত্তি। বন উজাড়, অবৈধ দখল এবং প্রাকৃতিক অবক্ষয়ের ফলে হারিয়ে যাওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। দেশীয় বৃক্ষপ্রজাতির পুনরোপণ, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ, বনভিত্তিক গবেষণা জোরদার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি টেকসই বন ব্যবস্থাপনা মডেল গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে কার্বন শোষণ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয়ত, মধুপুর গড়কে দেশের প্রধান ফল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন অঞ্চলে রূপান্তর। আনারস, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, লেবুজাতীয় ফল, আম এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের ফলের উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ অঞ্চলকে দেশের ‘ফল ও পুষ্টি ভাণ্ডার’ হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। একই সঙ্গে পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি, মসলা ও ঔষধি ফসলের চাষ বৃদ্ধি করে জাতীয় পুষ্টি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। আধুনিক জাত, উন্নত চারা উৎপাদন এবং বাজারমুখী কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
তৃতীয়ত, কৃষি-বনায়ন, নিরাপদ কৃষি ও জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তির সম্প্রসারণ। কৃষি ও বনকে সমন্বিত করে এগ্রোফরেস্ট্রি মডেলের ব্যাপক সম্প্রসারণ প্রয়োজন। পাশাপাশি জৈব সার, বায়োচার, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং খরা-সহনশীল ফসলের ব্যবহার বাড়াতে হবে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য রাসায়নিকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণাভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
চতুর্থত, কোল্ড চেইন, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি অবকাঠামো গড়ে তোলা। মধুপুর অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ ফল ও সবজি সংরক্ষণ, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, মিনি কোল্ড স্টোরেজ, সংগ্রহ কেন্দ্র এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, জুস ও পাল্প উৎপাদন কেন্দ্র, শুকনো ফল শিল্প এবং রপ্তানিমুখী কৃষি ব্যবসার উন্নয়ন প্রয়োজন। এর ফলে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে, অপচয় কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
পঞ্চমত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে গারো ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। মধুপুর গড়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগণের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। গারোসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমি, সংস্কৃতি ও জীবিকার স্বার্থ সংরক্ষণ করে তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশীদার করতে হবে। কৃষি, বন, পর্যটন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করলে উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছাবে। এতে মধুপুর গড় একটি পরিবেশগতভাবে টেকসই, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মডেলে পরিণত হবে।
ষষ্ঠত, মধুপুর গড় গবেষণা, উদ্ভাবন ও ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। মধুপুরের বিশেষ ভূপ্রকৃতি, বনজ সম্পদ ও কৃষি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে একটি সমন্বিত গবেষণা ও উদ্ভাবন কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজম, প্রকৃতি শিক্ষা ও কৃষি-পর্যটনের বিকাশ স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে। গবেষণা, সংরক্ষণ ও পর্যটনের সমন্বয়ে মধুপুর গড় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি অনন্য উন্নয়ন মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি ‘মধুপুর গড় গবেষণা ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বন বিভাগের সমন্বয়ে একটি বিশেষ গবেষণা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের কৃষির ভবিষ্যৎ শুধু ধানের মাঠে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতের কৃষি হবে পুষ্টিকেন্দ্রিক, পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু সহনশীল এবং বাজারমুখী। সেই নতুন কৃষি অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হতে পারে মধুপুর গড়।
সঠিক পরিকল্পনা, গবেষণা, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে মধুপুর গড় বাংলাদেশের ফল উৎপাদন, পুষ্টি নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির এক অনন্য মডেলে পরিণত হতে পারে। একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে মধুপুর গড় শুধু একটি ভূখণ্ড নয়; এটি হতে পারে টেকসই উন্নয়ন, সবুজ প্রবৃদ্ধি এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতি গঠনের এক নতুন জাতীয় স্বপ্ন।
.png)

একজন নেতার মৃত্যু একটি দলের জন্য শোকের ঘটনা। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক পরীক্ষাও। নেতা চলে যাওয়ার পর দলটি কী করে, সেটিই প্রমাণ করে সেই নেতার উত্তরাধিকার কতটা গভীর ছিল। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপিও এমন এক পরীক্ষার সামনে। জন্মদিনে দলটি তাঁকে স্মরণ করবে। শ্রদ্ধা জানাবে।
১১ ঘণ্টা আগে
দেশে গত দুই মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অথচ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব বলছে, এ সময়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। বাজার বাস্তবতা ও সরকারি পরিসংখ্যানের এই ব্যবধান বিবিএসের তথ্যের মান, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে পুরনো বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
১৪ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতা কৃষির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। গত কয়েক দশকে আমাদের কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। উন্নত জাতের ফসল, সেচ, সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও প্রযুক্তির ব্যবহার এই সাফল্যের পেছনের মূল কারণ।
১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ নয়, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও পেয়েছেন তিনি।