লেখা:

উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল ঐতিহাসিক নয়, এর শেকড় ধর্ম, শ্রম অভিবাসন এবং গভীর অর্থনৈতিক মেলবন্ধনের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমি সৌদি আরব প্রতিটি বাংলাদেশি মুসলমানের কাছে এক বিশেষ আবেগের জায়গা। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ হজ ও উমরাহ করতে সেখানে যান। কিন্তু এই সম্পর্ক শুধু তীর্থযাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, যা এই অঞ্চলে অন্যতম বৃহত্তম প্রবাসী জনগোষ্ঠী তৈরি করেছে।
আনুমানিক ৩০ লক্ষ বাংলাদেশি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোতে, বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং ওমানে বসবাস করেন। নির্মাণ, সেবা, পরিবহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে তাদের শ্রম ও ঘাম জড়িয়ে আছে। এই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে এক বিশাল প্রভাব ফেলে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে, যার একটি বড় অংশই এসেছে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। এই অর্থ কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি লক্ষ লক্ষ পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের শিক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি। সর্বোপরি, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য স্থিতিশীল রাখতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কিন্তু দীর্ঘদিনের এই স্থিতিশীল সম্পর্ক এখন এক নতুন ও উদ্বেগজনক বাস্তবতার মুখোমুখি। ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার এক বিপজ্জনক আবহের মধ্যে নিজেদের আবিষ্কার করেছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশিসহ অন্যান্য অভিবাসী শ্রমিকের নিরাপত্তা এক জরুরি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদ থেকে জানা যায়, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে যা বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশের সার্বভৌম আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। যদিও বেশিরভাগ হামলা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। তবে এর পরিণতি শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বেসামরিক স্থাপনা, যেমন হোটেল আর তেল শোধনাগারও হামলার শিকার হয়েছে। এই সহিংসতার শিকার হচ্ছেন সাধারণ অভিবাসী শ্রমিকেরা, যাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশিরাও, যারা শুধু অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার আশায় হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছেন।
এ ধরনের হামলায় নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের মৃত্যু একটি গভীর ট্র্যাজেডি, যার প্রতিধ্বনি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বাংলাদেশের জন্য এই ক্ষতি আরও বেশি বেদনাদায়ক। কারণ ভুক্তভোগীরা প্রায়শই দেশের অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল নাগরিক। তারা নিজেদের পরিবারকে সহযোগিতা করতে এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে বিদেশে পাড়ি জমান। আঞ্চলিক সংঘাতে তাদের জীবন বিপন্ন হওয়া এটাই মনে করিয়ে দেয় যে ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের পরিণতি কতটা মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ইরানের সামরিক কৌশল অনুযায়ী, তাদের ভূখণ্ডে কোনো হামলা হলে তারা সেই সংঘাতকে নিজ সীমান্তের বাইরে প্রসারিত করতে চায়। প্রতিপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত আঞ্চলিক স্থাপনায় হামলা বা হামলার হুমকি দিয়ে তেহরান সামরিক সংঘাতের চড়া মূল্য দিতে তাদের বাধ্য করতে চায়। এই কৌশল থেকেই বোঝা যায় কেন প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আওতায় চলে আসছে।
তবে এই কৌশলগত যুক্তি কোনোভাবেই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বা বেসামরিক মানুষকে বিপদে ফেলার মতো হামলাকে ন্যায্যতা দেয় না। উপসাগরীয় দেশগুলো কেবল ভূ-রাজনৈতিক মঞ্চের খেলোয়াড় নয়। তারা বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের লক্ষ লক্ষ অভিবাসী শ্রমিকের আশ্রয়স্থল। যেকোনো হামলা, যা এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, তা গুরুতর মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্বেগ তৈরি করে।
ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ এই ধরনের সংকটে সতর্ক কূটনীতি এবং উদ্বেগ প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এসেছে। যদিও এই নীতি আন্তর্জাতিক সংঘাতে নিরপেক্ষ থাকার মানসিকতার প্রতিফলন। বর্তমান পরিস্থিতি হয়তো আরও সক্রিয় ভূমিকা দাবি করে। উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের মানবিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা এতটাই বেশি যে কেবল কূটনৈতিক বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা যথেষ্ট নয়।
সরাসরি সামরিক সংঘাতে না জড়িয়েও এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখার মতো বাস্তবসম্মত উপায় বাংলাদেশের রয়েছে। একটি সম্ভাবনা হতে পারে প্রতিরক্ষামূলক ও মানবিক ভূমিকায় পারদর্শী বিশেষায়িত দল পাঠানো। বাংলাদেশের বিমান বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার অভিযান এবং সংকট ব্যবস্থাপনায় মূল্যবান অভিজ্ঞতা রয়েছে। সংকটের সময় এই দলগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোতে গেলে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারবে। জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা করতে পারবে এবং হামলার পর ভেঙে পড়া অবকাঠামো পুনর্গঠনেও তারা সহায়ক হতে পারে।
এই ধরনের সাহায্য পাঠানো মানে কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়া নয়। বরং এটা হবে সেই দেশগুলোর প্রতি এক ধরনের কৌশলগত সংহতি, যারা লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি নাগরিককে আশ্রয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রমাণ করবে যে, সে তার প্রবাসীদের সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। যারা আমাদের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে, তাদের বিপদে আমরা পাশে আছি।
বলতে গেলে, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এই সংকট আমাদের একটি নতুন সুযোগও দিয়েছে। আমরা উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে নতুন করে সাজাতে পারি। এখন পর্যন্ত এই সম্পর্ক শুধু শ্রমিক পাঠানো আর টাকা আনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন সময় এসেছে আরও গভীর সম্পর্ক তৈরির। নিরাপত্তা, সংকট মোকাবিলা এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ এবং লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য তীর্থের দ্বার উন্মুক্ত রেখেছে। তাই এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও কৌশলগত দায়িত্ব। শুধু কথার কথা না বলে, কাজে সাহায্য করলে সবাই বুঝবে এই সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক বা ধর্মীয় নয়। বরং এই সম্পর্ক পারস্পরিক দায়িত্ব ও যৌথ নিরাপত্তার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
আহমেদ হোসেন: বাংলাদেশি লেখক ও সাংবাদিক
(দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে লেখাটি ভাষান্তর করেছেন মুজাহিদুল ইসলাম)

উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল ঐতিহাসিক নয়, এর শেকড় ধর্ম, শ্রম অভিবাসন এবং গভীর অর্থনৈতিক মেলবন্ধনের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমি সৌদি আরব প্রতিটি বাংলাদেশি মুসলমানের কাছে এক বিশেষ আবেগের জায়গা। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ হজ ও উমরাহ করতে সেখানে যান। কিন্তু এই সম্পর্ক শুধু তীর্থযাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, যা এই অঞ্চলে অন্যতম বৃহত্তম প্রবাসী জনগোষ্ঠী তৈরি করেছে।
আনুমানিক ৩০ লক্ষ বাংলাদেশি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোতে, বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং ওমানে বসবাস করেন। নির্মাণ, সেবা, পরিবহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে তাদের শ্রম ও ঘাম জড়িয়ে আছে। এই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে এক বিশাল প্রভাব ফেলে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে, যার একটি বড় অংশই এসেছে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। এই অর্থ কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি লক্ষ লক্ষ পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের শিক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি। সর্বোপরি, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য স্থিতিশীল রাখতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কিন্তু দীর্ঘদিনের এই স্থিতিশীল সম্পর্ক এখন এক নতুন ও উদ্বেগজনক বাস্তবতার মুখোমুখি। ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার এক বিপজ্জনক আবহের মধ্যে নিজেদের আবিষ্কার করেছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশিসহ অন্যান্য অভিবাসী শ্রমিকের নিরাপত্তা এক জরুরি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদ থেকে জানা যায়, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে যা বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশের সার্বভৌম আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। যদিও বেশিরভাগ হামলা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। তবে এর পরিণতি শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বেসামরিক স্থাপনা, যেমন হোটেল আর তেল শোধনাগারও হামলার শিকার হয়েছে। এই সহিংসতার শিকার হচ্ছেন সাধারণ অভিবাসী শ্রমিকেরা, যাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশিরাও, যারা শুধু অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার আশায় হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছেন।
এ ধরনের হামলায় নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের মৃত্যু একটি গভীর ট্র্যাজেডি, যার প্রতিধ্বনি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বাংলাদেশের জন্য এই ক্ষতি আরও বেশি বেদনাদায়ক। কারণ ভুক্তভোগীরা প্রায়শই দেশের অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল নাগরিক। তারা নিজেদের পরিবারকে সহযোগিতা করতে এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে বিদেশে পাড়ি জমান। আঞ্চলিক সংঘাতে তাদের জীবন বিপন্ন হওয়া এটাই মনে করিয়ে দেয় যে ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের পরিণতি কতটা মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ইরানের সামরিক কৌশল অনুযায়ী, তাদের ভূখণ্ডে কোনো হামলা হলে তারা সেই সংঘাতকে নিজ সীমান্তের বাইরে প্রসারিত করতে চায়। প্রতিপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত আঞ্চলিক স্থাপনায় হামলা বা হামলার হুমকি দিয়ে তেহরান সামরিক সংঘাতের চড়া মূল্য দিতে তাদের বাধ্য করতে চায়। এই কৌশল থেকেই বোঝা যায় কেন প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আওতায় চলে আসছে।
তবে এই কৌশলগত যুক্তি কোনোভাবেই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বা বেসামরিক মানুষকে বিপদে ফেলার মতো হামলাকে ন্যায্যতা দেয় না। উপসাগরীয় দেশগুলো কেবল ভূ-রাজনৈতিক মঞ্চের খেলোয়াড় নয়। তারা বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের লক্ষ লক্ষ অভিবাসী শ্রমিকের আশ্রয়স্থল। যেকোনো হামলা, যা এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, তা গুরুতর মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্বেগ তৈরি করে।
ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ এই ধরনের সংকটে সতর্ক কূটনীতি এবং উদ্বেগ প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এসেছে। যদিও এই নীতি আন্তর্জাতিক সংঘাতে নিরপেক্ষ থাকার মানসিকতার প্রতিফলন। বর্তমান পরিস্থিতি হয়তো আরও সক্রিয় ভূমিকা দাবি করে। উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের মানবিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা এতটাই বেশি যে কেবল কূটনৈতিক বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা যথেষ্ট নয়।
সরাসরি সামরিক সংঘাতে না জড়িয়েও এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখার মতো বাস্তবসম্মত উপায় বাংলাদেশের রয়েছে। একটি সম্ভাবনা হতে পারে প্রতিরক্ষামূলক ও মানবিক ভূমিকায় পারদর্শী বিশেষায়িত দল পাঠানো। বাংলাদেশের বিমান বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার অভিযান এবং সংকট ব্যবস্থাপনায় মূল্যবান অভিজ্ঞতা রয়েছে। সংকটের সময় এই দলগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোতে গেলে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারবে। জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা করতে পারবে এবং হামলার পর ভেঙে পড়া অবকাঠামো পুনর্গঠনেও তারা সহায়ক হতে পারে।
এই ধরনের সাহায্য পাঠানো মানে কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়া নয়। বরং এটা হবে সেই দেশগুলোর প্রতি এক ধরনের কৌশলগত সংহতি, যারা লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি নাগরিককে আশ্রয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রমাণ করবে যে, সে তার প্রবাসীদের সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। যারা আমাদের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে, তাদের বিপদে আমরা পাশে আছি।
বলতে গেলে, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এই সংকট আমাদের একটি নতুন সুযোগও দিয়েছে। আমরা উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে নতুন করে সাজাতে পারি। এখন পর্যন্ত এই সম্পর্ক শুধু শ্রমিক পাঠানো আর টাকা আনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন সময় এসেছে আরও গভীর সম্পর্ক তৈরির। নিরাপত্তা, সংকট মোকাবিলা এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ এবং লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য তীর্থের দ্বার উন্মুক্ত রেখেছে। তাই এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও কৌশলগত দায়িত্ব। শুধু কথার কথা না বলে, কাজে সাহায্য করলে সবাই বুঝবে এই সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক বা ধর্মীয় নয়। বরং এই সম্পর্ক পারস্পরিক দায়িত্ব ও যৌথ নিরাপত্তার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
আহমেদ হোসেন: বাংলাদেশি লেখক ও সাংবাদিক
(দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে লেখাটি ভাষান্তর করেছেন মুজাহিদুল ইসলাম)
.png)

একজন নেতার মৃত্যু একটি দলের জন্য শোকের ঘটনা। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক পরীক্ষাও। নেতা চলে যাওয়ার পর দলটি কী করে, সেটিই প্রমাণ করে সেই নেতার উত্তরাধিকার কতটা গভীর ছিল। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপিও এমন এক পরীক্ষার সামনে। জন্মদিনে দলটি তাঁকে স্মরণ করবে। শ্রদ্ধা জানাবে।
৯ ঘণ্টা আগে
দেশে গত দুই মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অথচ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব বলছে, এ সময়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। বাজার বাস্তবতা ও সরকারি পরিসংখ্যানের এই ব্যবধান বিবিএসের তথ্যের মান, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে পুরনো বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
১৪ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতা কৃষির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। গত কয়েক দশকে আমাদের কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। উন্নত জাতের ফসল, সেচ, সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও প্রযুক্তির ব্যবহার এই সাফল্যের পেছনের মূল কারণ।
১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ নয়, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও পেয়েছেন তিনি।
১২ আগস্ট ২০২৬