স্ট্রিম সম্পাদকীয়

রাজধানীসহ দেশে গৃহস্থালি পর্যায়ে রান্নার গ্যাসের সংকট এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি এখন একটি ধারাবাহিক ও স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। নতুন আবাসিক সংযোগ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও যারা পুরাতন গ্রাহক হিসেবে সেবা নিচ্ছেন, তাদের অবস্থাও শোচনীয়। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির পর্যালোচনায় দুই ধরনের সংকটের চিত্র স্পষ্ট। প্রথমত, এলএনজি টার্মিনাল বা গ্যাস ক্ষেত্রের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সৃষ্ট ৩ থেকে ১০ দিনের সাময়িক সংকট। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদী বা কাঠামোগত সংকট। বিশেষ করে শীতকালে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। শীতের সময় পাইপলাইনে কনডেনসেট জমে প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং একই সময়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়া এই সংকটকে ঘনীভূত করে। শীতকালে ইউরোপের দেশগুলোতে গ্যাসের চাহিদা বাড়লেও তারা মজুত ব্যবস্থার মাধ্যমে সংকট এড়ায়। বাংলাদেশে শীতের সময় গ্যাসের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ রান্নার জ্বালানি পায় না। আমদানি নির্ভরতার কারণে এখন বর্ষাকালসহ অন্য সময়েও প্রতিকূল আবহাওয়া সমায়িক গ্যাস সংকটের একটি কারণ হয়ে উঠেছে।
এই সংকটের মূলে রয়েছে জ্বালানি খাতে আমাদের চরম আমদানিনির্ভরতা। ২০২৫ সালে এ খাতে সামগ্রিক আমদানিনির্ভরতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২.৫ শতাংশে। এলএনজি আমদানির পেছনে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। শুধু গত অর্থবছরেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের আমদানিনির্ভরতায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। উৎপাদন ও আমদানির এই ভারসাম্যহীনতা এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সঠিক হারে উত্তোলন করতে না পারার খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদদের মতে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সক্ষমতা বাড়ানোই এ সমস্যার একমাত্র দীর্ঘমেয়াদী সমাধান। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ভোগান্তি কমানোর কোনো উপায় কি নেই? ইউরোপের দেশগুলো যদি আমদানির ওপর নির্ভর করেও শীতের আগে মজুত নিশ্চিত করতে পারে, তবে বাংলাদেশ কেন পারবে না? গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় পাইপলাইনের চাপের ঘাটতি পূরণে বিকল্প কোনো মজুত ব্যবস্থা বা ‘বাফার স্টোরেজ’ তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা জরুরি। গ্যাসের অভাবে গৃহস্থালি পর্যায়ে বৈদ্যুতিক ওভেন বা এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে মানুষের ব্যয়ভার আরও বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
গ্যাস বিলের বিপরীতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাওয়া গ্রাহকের অধিকার। সেই আধিকার যে ক্রমাগত বিঘ্নিত হচ্ছে তা সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন সংবাদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট। সরকার একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে আমদানিতে কাটছাঁট করছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বিশাল অংশ জ্বালানি খাতের আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে। এই স্ববিরোধিতা দূর করতে হবে। আমদানিনির্ভরতার এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে সমুদ্র ও স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গতি আনা এবং বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।
আমাদের নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে, শিল্প ও বাণিজ্যের পাশাপাশি গৃহস্থালি পর্যায়ে গ্যাসের সংকট সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি শীতকাল ও রক্ষণাবেক্ষণকালীন সংকট মোকাবিলায় মজুত সক্ষমতা তৈরির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন আশু বিবেচনার দাবি রাখে।

রাজধানীসহ দেশে গৃহস্থালি পর্যায়ে রান্নার গ্যাসের সংকট এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি এখন একটি ধারাবাহিক ও স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। নতুন আবাসিক সংযোগ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও যারা পুরাতন গ্রাহক হিসেবে সেবা নিচ্ছেন, তাদের অবস্থাও শোচনীয়। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির পর্যালোচনায় দুই ধরনের সংকটের চিত্র স্পষ্ট। প্রথমত, এলএনজি টার্মিনাল বা গ্যাস ক্ষেত্রের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সৃষ্ট ৩ থেকে ১০ দিনের সাময়িক সংকট। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদী বা কাঠামোগত সংকট। বিশেষ করে শীতকালে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। শীতের সময় পাইপলাইনে কনডেনসেট জমে প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং একই সময়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়া এই সংকটকে ঘনীভূত করে। শীতকালে ইউরোপের দেশগুলোতে গ্যাসের চাহিদা বাড়লেও তারা মজুত ব্যবস্থার মাধ্যমে সংকট এড়ায়। বাংলাদেশে শীতের সময় গ্যাসের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ রান্নার জ্বালানি পায় না। আমদানি নির্ভরতার কারণে এখন বর্ষাকালসহ অন্য সময়েও প্রতিকূল আবহাওয়া সমায়িক গ্যাস সংকটের একটি কারণ হয়ে উঠেছে।
এই সংকটের মূলে রয়েছে জ্বালানি খাতে আমাদের চরম আমদানিনির্ভরতা। ২০২৫ সালে এ খাতে সামগ্রিক আমদানিনির্ভরতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২.৫ শতাংশে। এলএনজি আমদানির পেছনে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। শুধু গত অর্থবছরেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের আমদানিনির্ভরতায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। উৎপাদন ও আমদানির এই ভারসাম্যহীনতা এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সঠিক হারে উত্তোলন করতে না পারার খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদদের মতে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সক্ষমতা বাড়ানোই এ সমস্যার একমাত্র দীর্ঘমেয়াদী সমাধান। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ভোগান্তি কমানোর কোনো উপায় কি নেই? ইউরোপের দেশগুলো যদি আমদানির ওপর নির্ভর করেও শীতের আগে মজুত নিশ্চিত করতে পারে, তবে বাংলাদেশ কেন পারবে না? গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় পাইপলাইনের চাপের ঘাটতি পূরণে বিকল্প কোনো মজুত ব্যবস্থা বা ‘বাফার স্টোরেজ’ তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা জরুরি। গ্যাসের অভাবে গৃহস্থালি পর্যায়ে বৈদ্যুতিক ওভেন বা এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে মানুষের ব্যয়ভার আরও বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
গ্যাস বিলের বিপরীতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাওয়া গ্রাহকের অধিকার। সেই আধিকার যে ক্রমাগত বিঘ্নিত হচ্ছে তা সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন সংবাদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট। সরকার একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে আমদানিতে কাটছাঁট করছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বিশাল অংশ জ্বালানি খাতের আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে। এই স্ববিরোধিতা দূর করতে হবে। আমদানিনির্ভরতার এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে সমুদ্র ও স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গতি আনা এবং বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।
আমাদের নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে, শিল্প ও বাণিজ্যের পাশাপাশি গৃহস্থালি পর্যায়ে গ্যাসের সংকট সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি শীতকাল ও রক্ষণাবেক্ষণকালীন সংকট মোকাবিলায় মজুত সক্ষমতা তৈরির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন আশু বিবেচনার দাবি রাখে।
.png)

আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু—বিশেষ করে সংস্কার প্রশ্নে বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য চাপ সামলাতে সরকার আগেভাগেই নিজেদের ঘর গুছিয়ে নিতে চাইছে।
১৭ মিনিট আগে
দেশে দ্রুত বাড়ছে চিকিৎসাভিত্তিক এসথেটিক সেবা। বোটক্স, ফিলার, লেজার থেরাপি, পিআরপি ও থ্রেড লিফটের মতো সেবার বাজার এখন প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার, যা মোট বাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। একটি ক্লিনিকে বোটক্সের একেকটি সেশনের খরচ ৮ থেকে ২০ হাজার টাকা।
১ ঘণ্টা আগে
ভারতে গত এক দশকে একের পর এক গণআন্দোলন কেন্দ্রীয় রাজনীতিকে নাড়া দিয়েছে। কখনো নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) বিরুদ্ধে শাহিনবাগের আন্দোলন, কখনও কৃষকদের দীর্ঘ আন্দোলন, আবার কখনও বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক ছাত্র প্রতিবাদ।
১ ঘণ্টা আগে
একটি রাজনৈতিক তুলনা তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন দুই ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ক্ষমতার অবস্থান, দেশত্যাগের কারণ এবং জন-প্রতিক্রিয়া সমমানের হয়। সাম্প্রতিক সময়ে একটি যুক্তি সামনে আনা হয় যে, এক-এগারোর সময় তারেক রহমানের দেশত্যাগ এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগ একই প্রকৃতির ঘটনা।
১৮ ঘণ্টা আগে