স্ট্রিম সম্পাদকীয়

কক্সবাজারের উখিয়ায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা বেদনাদায়ক বললেও কম বলা হয়। এক রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও শহরে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছে তিন, পাঁচ ও সাত বছরের শিশু। ভারি বৃষ্টির রাতে ঘুমের মধ্যে মাটিচাপা পড়ে মৃত্যু—এর চেয়ে করুণ আর কী হতে পারে? তবে এমন মৃত্যু বলা যায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা এলেই পাহাড়ধসে মানুষ মারা যায়, সতর্কতা জারি হয়, তদন্ত কমিটি হয়। পরের বছর একই দৃশ্যপট ফিরে আসে।
এসব মৃত্যুকে তো অনিবার্য বলা যাবে না। আমাদের দেশের পাহাড়গুলো মূলত দুর্বল শিলা—যেমন স্যান্ডস্টোন, সিল্টস্টোন ও শেল দিয়ে গঠিত। এগুলো নরম, ভঙ্গুর এবং দীর্ঘদিনের আবহাওয়াজনিত ক্ষয়ের কারণে ওপরের অংশে পুরু মাটির স্তরে পরিণত। অতিবৃষ্টিতে এই মাটি ও শিলা সহজে স্থিতিশীলতা হারায় এবং ভূমিধস ঘটে। এমন ভূতাত্ত্বিক দুর্বলতার সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে মানুষের তৈরি বিপদ। পাহাড় কাটা, এর পাদদেশে বসতি নির্মাণ এবং গাছপালা উজাড় হওয়ার ফলে পাহাড়ের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা নষ্ট হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্ষেত্রে সমস্যাটি বেশি—লাখ লাখ মানুষ সংকীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় ঘনভাবে বাস করছেন। সেখানে পুনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থাও অপ্রতুল।
সমস্যাটি অবশ্য নতুন নয়। ২০০৭ সালের জুন মাসে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে একশোরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। দেশের ইতিহাসে এটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত। সেই ঘটনার পর এর প্রতিবিধানে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। যেমন—ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা, অবৈধ বসতি উচ্ছেদ, পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ ইত্যাদি। কিন্তু উদ্যোগগুলো কাগজে রয়ে গেছে। পাহাড় কাটা থামেনি, এর পাদদেশে বসতি বেড়েছে। বছর বছর পাহাড় ধসে প্রাণহানিও ঘটছে।
এবার কিন্তু বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরুর আগেই ভারি বৃষ্টিতে পাহাড়ধস ঘটেছে। বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ু মিলে সামনে কিছুদিন ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার শঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় আরও বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন হলো, প্রশাসনের প্রস্তুতি কতটুকু? মাইকিং করে সরে যেতে বলা হলেও দ্রুত ঘরবাড়ি স্থানান্তর করা মোটেও সহজ নয়। বিকল্পের ব্যবস্থাও প্রশাসন করতে পারছে না।
শুধু পাহাড়ি অঞ্চল নয়; পরিস্থিতিটি খোদ রাজধানীতেও রয়েছে। ঢাকার শাঁখারীবাজারের মতো এলাকায় শতবর্ষী ভবন আজও অনেক মানুষের বাসস্থান। এগুলো ধসে পড়তে হয়তো ভারি বৃষ্টিরও প্রয়োজন হবে না। অথচ প্রশাসনের জোরালো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো চিহ্নিত করে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। পাহাড়ধসে মৃত্যু ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বৈকি। অপরিণামদর্শী পাহাড় কাটা বন্ধে আইন প্রয়োগ, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরিয়ে ওইসব এলাকাকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা, সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার এবং পাহাড়ে বৃক্ষরোপণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই মৃত্যুর মিছিল ঠেকানো অসম্ভব নয়। প্রতিটি বেদনাদায়ক ঘটনার পর গতানুগতিক ব্যর্থ কর্মকাণ্ড নয়; প্রয়োজন পরিস্থিতি বদলানোর দৃঢ় সংকল্প ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। নইলে সামনের দিনগুলোয় আমাদের একই ধরনের শিরোনাম পড়তে হবে।

কক্সবাজারের উখিয়ায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা বেদনাদায়ক বললেও কম বলা হয়। এক রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও শহরে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছে তিন, পাঁচ ও সাত বছরের শিশু। ভারি বৃষ্টির রাতে ঘুমের মধ্যে মাটিচাপা পড়ে মৃত্যু—এর চেয়ে করুণ আর কী হতে পারে? তবে এমন মৃত্যু বলা যায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা এলেই পাহাড়ধসে মানুষ মারা যায়, সতর্কতা জারি হয়, তদন্ত কমিটি হয়। পরের বছর একই দৃশ্যপট ফিরে আসে।
এসব মৃত্যুকে তো অনিবার্য বলা যাবে না। আমাদের দেশের পাহাড়গুলো মূলত দুর্বল শিলা—যেমন স্যান্ডস্টোন, সিল্টস্টোন ও শেল দিয়ে গঠিত। এগুলো নরম, ভঙ্গুর এবং দীর্ঘদিনের আবহাওয়াজনিত ক্ষয়ের কারণে ওপরের অংশে পুরু মাটির স্তরে পরিণত। অতিবৃষ্টিতে এই মাটি ও শিলা সহজে স্থিতিশীলতা হারায় এবং ভূমিধস ঘটে। এমন ভূতাত্ত্বিক দুর্বলতার সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে মানুষের তৈরি বিপদ। পাহাড় কাটা, এর পাদদেশে বসতি নির্মাণ এবং গাছপালা উজাড় হওয়ার ফলে পাহাড়ের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা নষ্ট হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্ষেত্রে সমস্যাটি বেশি—লাখ লাখ মানুষ সংকীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় ঘনভাবে বাস করছেন। সেখানে পুনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থাও অপ্রতুল।
সমস্যাটি অবশ্য নতুন নয়। ২০০৭ সালের জুন মাসে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে একশোরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। দেশের ইতিহাসে এটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত। সেই ঘটনার পর এর প্রতিবিধানে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। যেমন—ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা, অবৈধ বসতি উচ্ছেদ, পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ ইত্যাদি। কিন্তু উদ্যোগগুলো কাগজে রয়ে গেছে। পাহাড় কাটা থামেনি, এর পাদদেশে বসতি বেড়েছে। বছর বছর পাহাড় ধসে প্রাণহানিও ঘটছে।
এবার কিন্তু বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরুর আগেই ভারি বৃষ্টিতে পাহাড়ধস ঘটেছে। বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ু মিলে সামনে কিছুদিন ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার শঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় আরও বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন হলো, প্রশাসনের প্রস্তুতি কতটুকু? মাইকিং করে সরে যেতে বলা হলেও দ্রুত ঘরবাড়ি স্থানান্তর করা মোটেও সহজ নয়। বিকল্পের ব্যবস্থাও প্রশাসন করতে পারছে না।
শুধু পাহাড়ি অঞ্চল নয়; পরিস্থিতিটি খোদ রাজধানীতেও রয়েছে। ঢাকার শাঁখারীবাজারের মতো এলাকায় শতবর্ষী ভবন আজও অনেক মানুষের বাসস্থান। এগুলো ধসে পড়তে হয়তো ভারি বৃষ্টিরও প্রয়োজন হবে না। অথচ প্রশাসনের জোরালো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো চিহ্নিত করে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। পাহাড়ধসে মৃত্যু ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বৈকি। অপরিণামদর্শী পাহাড় কাটা বন্ধে আইন প্রয়োগ, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরিয়ে ওইসব এলাকাকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা, সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার এবং পাহাড়ে বৃক্ষরোপণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই মৃত্যুর মিছিল ঠেকানো অসম্ভব নয়। প্রতিটি বেদনাদায়ক ঘটনার পর গতানুগতিক ব্যর্থ কর্মকাণ্ড নয়; প্রয়োজন পরিস্থিতি বদলানোর দৃঢ় সংকল্প ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। নইলে সামনের দিনগুলোয় আমাদের একই ধরনের শিরোনাম পড়তে হবে।
.png)

বর্তমানে এই ধসে পড়া ভবনের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার হতে পারে। অর্থাৎ, বহুতল ভবনের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ভবনই ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ঢাকায় অন্তত ২ থেকে ৩ লাখ মানুষের প্রাণহানি হতে পারে।
১ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিশীল প্রেক্ষাপটে কোনো চিরস্থায়ী শত্রু বা মিত্র থাকে না, থাকে কেবল চিরস্থায়ী জাতীয় স্বার্থ—এই ধ্রুব সত্যটিই আজ ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের টানাপোড়েনে চরমভাবে বাস্তব রূপ নিয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বাংলা একাডেমিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তিনি প্রায়ই একাডেমিতে আসতেন এবং আমাদের বহু অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করতেন। সুতরাং বলতেই হয়, একজন বুদ্ধিজীবী ও লেখক হিসেবে তিনি যেমন সক্রিয় ছিলেন, তেমনি জনসংযোগও বেশ পছন্দ করতেন। তাঁর কাছে প্রচুর মানুষের যাতায়াত ছিল।
০৫ জুলাই ২০২৬
পরিণত বয়সে চলে গেলেও অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তাঁকে যারা জানতেন এবং দীর্ঘদিন তাঁর চলার পথটি যারা খেয়াল করতেন, তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রবীণ শিক্ষক ও লেখকের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত হবেন।
০৫ জুলাই ২০২৬