সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধিতে উদ্বেগ বাড়বে

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ০৮
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

আটা-ময়দা ও চিনির দাম বাড়ার খবরের পাশাপাশি বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতির কথা জানা যাচ্ছিল। তাতে আশঙ্কা করা হচ্ছিল এর দাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ার। দাম বৃদ্ধির এ প্রক্রিয়া দেখতে দেখতে ক্রেতারা অভ্যস্ত। তারা অবশেষে খবর পেলেন বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর। উৎপাদকরা নাকি আরও বেশি দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। এর কারণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা। দেশে সাধারণত অপরিশোধিত সয়াবিন এনে প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি হয়। রান্নায় এর বিপুল ব্যবহারের কথা সবার জানা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম অবশ্য বাড়ানো হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েলের দাম কেমন, সেটা সরকারি কর্তৃপক্ষেরও জানা থাকার কথা। ভোজ্যতেলের মধ্যে পাম অয়েলের ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি। এর বিপুল বাণিজ্যিক ব্যবহার রয়েছে। দাম অপেক্ষাকৃত কম বলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোয়ও এর চাহিদা বেশি। সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা বাড়াতে বাধ্য হলেও সরকারের চেষ্টা করা উচিত, পাম অয়েলের দাম যেন না বাড়ে।

খোলা সয়াবিন তেলের বিক্রিও কম নয়। এতেও দামের বিষয়টি জড়িত। মনে হয় না, খোলা সয়াবিনের দাম অপরিবর্তিত রাখা যাবে। সেটা সম্ভব হলে অবশ্য অনেকেই চাইবেন বোতলজাত সয়াবিন থেকে খোলা সয়াবিন তেল ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে। যখন আটা-ময়দা ও চিনির দাম বাড়ছে; ডিমের দাম কমছে না, তখন স্থির আয়ের মানুষদের একাংশ বাধ্য হবে এমন পরিবর্তনে যেতে। সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনার ৩৩ লাখ মানুষের অবশ্য আয় বাড়বে বিগত জুলাই থেকে। চলমান মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সক্ষম হয়ে উঠবেন বলেই ধারণা। কিন্তু যে বিরাট জনগোষ্ঠী এর বাইরে রয়েছে, তাদের মধ্যে আটা-ময়দা ও চিনির পর সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ ভালোই অনুভূত হবে। এদের অন্তত একাংশের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় এসব পণ্যসামগ্রী জোগানো যায় কিনা, সেটা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনার ৩৩ লাখ মানুষের অবশ্য আয় বাড়বে বিগত জুলাই থেকে। চলমান মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সক্ষম হয়ে উঠবেন বলেই ধারণা। কিন্তু যে বিরাট জনগোষ্ঠী এর বাইরে রয়েছে, তাদের মধ্যে আটা-ময়দা ও চিনির পর সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ ভালোই অনুভূত হবে। এদের অন্তত একাংশের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় এসব পণ্যসামগ্রী জোগানো যায় কিনা, সেটা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

শিল্পাঞ্চলেও ন্যায্য দামে এসব নিত্যপণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করা গেলে ভালো হয়। চলমান জ্বালানি সংকটে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি শিল্প শ্রমিকরাও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাদের একাংশ ইতোমধ্যে কাজ হারিয়ে দিশেহারা। অনেকে আছেন কাজ হারানোর শংকায়। এ অবস্থায় ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির খবর তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়াবে। চালের দাম স্থিতিশীল থাকার খবর তাদের আশ্বস্ত করবে না; কেননা তারাও এরই মধ্যে আটা-ময়দা পরিভোগে অভ্যস্ত। মাঝে ডিমের দাম বাড়ার পর সেটা কমে না আসাও উদ্বেগজনক। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটা পুষ্টির সহজতম উৎস। বেকারি শিল্পেও ডিমের বিপুল ব্যবহার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আটা-ময়দা আর ভোজ্যতেলেরও বিপুল ব্যবহারের কথা জানা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেকারিতে উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়লে সেটাও জনজীবনে সৃষ্টি করবে নতুন চাপ। ডিমের দাম কমাতে সীমিতভাবে এর আমদানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও ভেবে দেখা যায়। মুরগি ডিম পাড়া বন্ধ রাখবে না বলে এর অল্প আমদানিতেই সমাধান মিলতে পারে।

সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির খবর মানুষকে উদ্বিগ্ন করবে। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের কারণে ‘মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা’ থেকেও কিছু নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার শংকা রয়েছে। সরকারকে এ অবস্থায় মনিটরিং জোরদার রাখতে হবে। যৌক্তিক কারণে কোনো পণ্যের দাম বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় কমে এলে দাম যেন আবার কমানো যায়, সেই প্রক্রিয়া বহাল রাখা চাই। সবচেয়ে বড় কথা, অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধির শিকার যেন না হয় ভোক্তাসাধারণ, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

বিষয়:

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত