বাজেট প্রতিক্রিয়া
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

নতুন সরকার ও নতুন অর্থমন্ত্রীর অধীনে একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবারের (২০২৬-২৭ অর্থবছরের) বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটের আকার নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন। তবে আমার মতে, বাজেটের আকার বড় নাকি ছোট—সেটি মূল বিবেচ্য বিষয় নয়। মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাজেটের আকার প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে বাড়ে।
ব্যয়ের আকার বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ে, এটি একটি সাধারণ হিসাব। কিন্তু মূল বিবেচ্য বিষয় হলো, আয় বা ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব হবে কি না। ব্যয় করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সতর্কতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। সঠিকভাবে এবং দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে অর্থ ব্যয় করা হলে তা অর্থনীতিতে সম্পদ ও সেবা উৎপাদনে ভূমিকা রাখে, যা দেশের অচল অর্থনীতিকে সচল করতে সহায়তা করে। বাজেটে একটি বড় অংশ ঘাটতি ধরা হয়েছে সত্যি। তবে তার চেয়েও বড় বিষয় হল, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল অংক রাজস্ব খাত থেকেই আসতে হবে।
এবারের বাজেটে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এবং প্রান্তিক মানুষকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে স্বস্তি দিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে করছাড় ও সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফেরে এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ে, তবে অর্থনীতি চাঙা হবে। আর অর্থনীতি চাঙা হলে রাজস্ব আদায়ও সহজ হবে। মূল কথা হলো—বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমেই অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে হবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে পাঠাতে পারলেও দেশ লাভবান হবে।
এই বাজেটটি সাধারণ আর দশটা বাজেটের মতো নয়। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতিতে চলা বিনিয়োগ খরা, ব্যাংকিং খাতের সংকট, পুঁজিবাজারের দুর্দশা, বেকারত্ব ও বৈষম্য থেকে অর্থনীতিকে উদ্ধার করার একটি ব্লু-প্রিন্ট হলো এই বাজেট। এটিকে কেবল এক বছরের পরিকল্পনা না ভেবে আগামী পাঁচ বছরের একটি ‘রোডম্যাপ’ হিসেবে দেখা উচিত। বাজেটে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা থেকে যদি মানুষ সত্যিকার অর্থে মানসম্মত সেবা পায়, তবেই অর্থনীতিতে সুবাতাস বইবে।
বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে (২০২৫-২৬) প্রথম ১০ মাসেই এনবিআরের ১ লাখ কোটি টাকার বেশি বিশাল রাজস্ব ঘাটতি ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের লক্ষ্যমাত্রা বেশ চ্যালেঞ্জিং, তবে অসম্ভব নয়। গত বছর কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় হয়নি বা ব্যয় করা সম্ভব হয়নি—তার মানে এই নয় যে এবারও হবে না। লক্ষ্য অর্জনে এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে দৃঢ়তার সাথে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি, অপচয় ও আত্মসাৎ রোধ করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব কখনোই আসবে না।
বর্তমানে আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭ শতাংশ, যা অন্তত ১৫ শতাংশ হওয়া উচিত। এর মানে হলো, জিডিপির ৮ শতাংশ অর্থ অর্থনীতিতে থাকলেও তা কর হিসেবে সরকারের কোষাগারে আসছে না। এই অনুপাত অবশ্যই বাড়াতে হবে। অন্যদিকে, বাজেটে যেসব করছাড় দেওয়া হয়েছে, তার ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়তে হবে। তবেই বর্তমানের ৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতিকে ৭ শতাংশের ঘরে নামিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব হবে। শুধু মুখে বললেই মূল্যস্ফীতি কমবে না, এর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, সঠিক পরিকল্পনা ও একাগ্রতার সাথে কাজ করলে বাজেটের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। একবারে হয়তো সব হবে না, কিন্তু আমাদের শুরু করতে হবে। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অর্থনীতিতে নেতিবাচক ধারা চলেছে; ৫ টাকার জিনিস ৩৫ টাকায় কেনা হয়েছে, এক বছরের প্রকল্প ছয় বছর ধরে চলেছে। এই অপচয়, অপব্যয় ও দুর্নীতির পাগলামি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ৫ টাকার জিনিস যদি আমরা ৫ টাকাতেই কিনতে পারি এবং অপচয় রোধ করতে পারি, তবেই সাশ্রয় হবে এবং বাজেটের শতভাগ সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।

নতুন সরকার ও নতুন অর্থমন্ত্রীর অধীনে একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবারের (২০২৬-২৭ অর্থবছরের) বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটের আকার নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন। তবে আমার মতে, বাজেটের আকার বড় নাকি ছোট—সেটি মূল বিবেচ্য বিষয় নয়। মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাজেটের আকার প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে বাড়ে।
ব্যয়ের আকার বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ে, এটি একটি সাধারণ হিসাব। কিন্তু মূল বিবেচ্য বিষয় হলো, আয় বা ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব হবে কি না। ব্যয় করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সতর্কতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। সঠিকভাবে এবং দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে অর্থ ব্যয় করা হলে তা অর্থনীতিতে সম্পদ ও সেবা উৎপাদনে ভূমিকা রাখে, যা দেশের অচল অর্থনীতিকে সচল করতে সহায়তা করে। বাজেটে একটি বড় অংশ ঘাটতি ধরা হয়েছে সত্যি। তবে তার চেয়েও বড় বিষয় হল, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল অংক রাজস্ব খাত থেকেই আসতে হবে।
এবারের বাজেটে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এবং প্রান্তিক মানুষকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে স্বস্তি দিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে করছাড় ও সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফেরে এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ে, তবে অর্থনীতি চাঙা হবে। আর অর্থনীতি চাঙা হলে রাজস্ব আদায়ও সহজ হবে। মূল কথা হলো—বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমেই অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে হবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে পাঠাতে পারলেও দেশ লাভবান হবে।
এই বাজেটটি সাধারণ আর দশটা বাজেটের মতো নয়। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতিতে চলা বিনিয়োগ খরা, ব্যাংকিং খাতের সংকট, পুঁজিবাজারের দুর্দশা, বেকারত্ব ও বৈষম্য থেকে অর্থনীতিকে উদ্ধার করার একটি ব্লু-প্রিন্ট হলো এই বাজেট। এটিকে কেবল এক বছরের পরিকল্পনা না ভেবে আগামী পাঁচ বছরের একটি ‘রোডম্যাপ’ হিসেবে দেখা উচিত। বাজেটে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা থেকে যদি মানুষ সত্যিকার অর্থে মানসম্মত সেবা পায়, তবেই অর্থনীতিতে সুবাতাস বইবে।
বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে (২০২৫-২৬) প্রথম ১০ মাসেই এনবিআরের ১ লাখ কোটি টাকার বেশি বিশাল রাজস্ব ঘাটতি ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের লক্ষ্যমাত্রা বেশ চ্যালেঞ্জিং, তবে অসম্ভব নয়। গত বছর কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় হয়নি বা ব্যয় করা সম্ভব হয়নি—তার মানে এই নয় যে এবারও হবে না। লক্ষ্য অর্জনে এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে দৃঢ়তার সাথে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি, অপচয় ও আত্মসাৎ রোধ করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব কখনোই আসবে না।
বর্তমানে আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭ শতাংশ, যা অন্তত ১৫ শতাংশ হওয়া উচিত। এর মানে হলো, জিডিপির ৮ শতাংশ অর্থ অর্থনীতিতে থাকলেও তা কর হিসেবে সরকারের কোষাগারে আসছে না। এই অনুপাত অবশ্যই বাড়াতে হবে। অন্যদিকে, বাজেটে যেসব করছাড় দেওয়া হয়েছে, তার ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়তে হবে। তবেই বর্তমানের ৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতিকে ৭ শতাংশের ঘরে নামিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব হবে। শুধু মুখে বললেই মূল্যস্ফীতি কমবে না, এর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, সঠিক পরিকল্পনা ও একাগ্রতার সাথে কাজ করলে বাজেটের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। একবারে হয়তো সব হবে না, কিন্তু আমাদের শুরু করতে হবে। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অর্থনীতিতে নেতিবাচক ধারা চলেছে; ৫ টাকার জিনিস ৩৫ টাকায় কেনা হয়েছে, এক বছরের প্রকল্প ছয় বছর ধরে চলেছে। এই অপচয়, অপব্যয় ও দুর্নীতির পাগলামি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ৫ টাকার জিনিস যদি আমরা ৫ টাকাতেই কিনতে পারি এবং অপচয় রোধ করতে পারি, তবেই সাশ্রয় হবে এবং বাজেটের শতভাগ সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।
.png)

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সংঘটিত ঘটনাকে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বা একটি ছাত্ররাজনৈতিক ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ভাবলে ভুল হবে। এটি বৃহত্তর সংকটের প্রতিচ্ছবি। আইনের শাসনের জায়গাটি পেশিশক্তি দখল করে নিচ্ছে বললে অত্যুক্তি হবে না। বিচারের এখতিয়ার আদালতের নয়; বরং যে গোষ্ঠী বেশি শক্তিশালী—এমনটাই
১ ঘণ্টা আগে
বছরের পর বছর ধরে ভারতীয় সমাজে একটি গভীর সংকট দানা বাঁধছে। একসময় মানুষের বিশ্বাস ছিল, পড়াশোনা করলেই সমাজে ও অর্থনীতিতে ভালো অবস্থানে পৌঁছানো যাবে। কিন্তু সেই বিশ্বাস এখন ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে। সম্প্রতি ভারতে ‘জেন-জি’ বা নতুন প্রজন্মের বিক্ষোভ এই সংকটকে আবারও সামনে এনেছে। তবে সত্যি বলতে, বহু বছর ধরেই
৪ ঘণ্টা আগে
জোরপূর্বক শ্রম চরম পর্যায়ের একটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো একটি বিষয়কে শুল্কের শর্ত হিসেবে দাঁড় করানো যায় না। কেউ যদি বলে, "যেহেতু পণ্যটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তাই ১০ শতাংশ বেশি শুল্ক দিতে হবে"—এর অর্থ দাঁড়ায়, শুল্ক দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনকেও ‘জায়েজ’ বা বৈধ করা যায়।
৬ ঘণ্টা আগে
বিউটি রানি পাল জানতেনও না, স্কুল প্রাঙ্গণে হেঁটে বেড়ানোর একটা রিল তাঁকে রাতারাতি বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেবে। কিন্তু এই আকস্মিকতাই আসলে সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যটা উন্মোচন করে দেয়—নারীর জন্য ‘স্বাভাবিক’ থাকাটাও নিরাপদ নয়। বরং প্রতিটি মুহূর্তই পরীক্ষা।
৭ ঘণ্টা আগে