সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে আন্দোলন চলবে
স্ট্রিম সংবাদদাতারংপুর

সরকার জনগণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে সংসদের ভেতরে তীব্র প্রতিবাদ এবং রাজপথে আন্দোলন চলবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ঢাকা-রংপুর লং মার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ আট দফা দাবিতে এ লং মার্চের আয়োজন করা হয়।
শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। সরকার জনগণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে সংসদের ভেতরে তীব্র প্রতিবাদ এবং রাজপথে আন্দোলন চলবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে সারা বাংলা থেকে আওয়াজ, “আর সহ্য হয় না, আপনারা একটা কিছু করেন।” সেই একটা কিছু আমরা চাই হওয়ার আগে সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। যদি না হয়, বসে বসে আঙ্গুল চুষব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে প্রথম লং মার্চ আমরা করেছিলাম। দ্বিতীয় লংমার্চ আসার আগেই আরও দুটি দাবি যুক্ত হয়েছে। এই মিলে আমরা আটটি দাবি রাস্তায় নেমেছি। একটাও দাবি আমাদের দলীয় দাবি নয়। এই দাবিগুলো ১৮ কোটি মানুষের দাবি।’
শফিকুর রহমান বলেন, যদি সংবিধানে গণভোট না থাকে, ২৬ সালে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনও নাই। কোনো সরকারও নাই। সুতরাং মানতে হলে সবটা মানতে হবে, আর বাদ দিলে সবটা বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা ওয়াদা রাখো, আজকে ঘোষণা করে দাও, আমরা যা করেছি ভুল করেছি, এখন সব সংশোধন করে নেব এবং দৃশ্যমান বাস্তবায়ন তোমরা আমাদের দেখাও, আমাদের লং মার্চের প্রয়োজন নাই। কিন্তু যদি না হয়, মনে রাখবা, লং মার্চ শুধু হবে না, তারপরে কী হবে আল্লাহ ভালো জানেন।’
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রেখেছিল ১১ দল। রংপুরের কর্মসূচিতে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত করে আট দফা করা হয়।
আট দফার মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা মিছিল ও স্লোগান নিয়ে জিলা স্কুল মাঠে প্রবেশ করতে থাকেন। একপর্যায়ে মাঠে জায়গা না থাকায় অনেকে আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন। মাঠেই মাগরিবের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল। সমাবেশের সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্বে থাকা ডেকোরেটরের কর্মী অমূল্য চন্দ্র রায় বলেন, মাঠে ৮০টি এবং মাঠের বাইরে বিভিন্ন সড়কে ১২০টি মাইক টানানো হয়েছে।







