leadT1ad

রাজশাহী-৫

ফুটবল-ঘোড়া নিয়ে ছুটছেন বিএনপির দুই বিদ্রোহী, সুযোগ খুঁজছে জামায়াত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭: ২৫
‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম এবং ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলার নির্বাচনী মাঠে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে ধানের শীষের শিবির। তিন ভাগে বিভক্ত বিএনপি যখন ঘরোয়া কোন্দল সামলাতে ব্যস্ত, তখন সেই সুযোগে জয়ের স্বপ্ন দেখছে দীর্ঘদিন পর ভোটের মাঠে ফেরা জামায়াতে ইসলামী।

রাজশাহী-৫ আসনটি একসময় বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এখান থেকে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত নাদিম মোস্তফা।

এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তবে তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে আছেন যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম। অন্যদিকে, পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল লড়ছেন ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হলেও তারা মাঠ ছাড়তে নারাজ।

সরেজমিনে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধানের শীষের বড় একটি কর্মী বাহিনী নজরুল ইসলামের পক্ষে থাকলেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে তৃণমূলের একটি অংশ বিভক্ত হয়ে পড়েছে। পুঠিয়ার বানেশ্বর এলাকার ভোটার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে বিএনপির প্রভাব বেশি হলেও দুজন শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার ভয় আছে। এতে প্রার্থীরা সবাই প্রায় সমান অবস্থানে চলে এসেছেন, ফলাফল কী হবে বোঝা কঠিন।’

বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, ‘মানুষের চোখের পানি আর নেতাকর্মীদের চাপেই আমি ভোটে দাঁড়িয়েছি। আমি মানুষের সেবায় শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব।’

আরেক বিদ্রোহী ইসফা খায়রুল হক শিমুল বলেন, ‘গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আজ সেই কর্মীদের অনুরোধেই নির্বাচন করছি।’

তবে নজরুল ইসলাম বিদ্রোহীদের গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির কোনো বিদ্রোহী নেই। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে এবং ধানের শীষের ভোটাররা ঐক্যবদ্ধভাবে আমাকেই ভোট দেবেন।’

বিএনপির এই গৃহবিবাদের ফলে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মনজুর রহমান। পুঠিয়া উপজেলা জামায়াতের এই আমির ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মনজুর রহমান বলেন, ‘পরিবর্তনের জন্য দেশের আলেম-উলামা ও সাধারণ মানুষ এক হয়েছে। পুঠিয়া-দুর্গাপুরের মানুষ এবার ইনশাআল্লাহ দাঁড়িপাল্লাকেই বেছে নেবে।’

রাজশাহী-৫ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৩৮ জন। নির্বাচনে মোট ৭ জন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই বিএনপি, এর দুই বিদ্রোহী এবং জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন অনেকেই। দুর্গাপুরের আমগাছি গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমান বলেন, ‘প্রার্থী বেশি হওয়া ভালো, এতে যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ থাকে। তবে বিদ্রোহীরা ধানের শীষের ক্ষতি করতে পারে।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে ৩ লক্ষাধিক ভোটারের রায় শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত