
ভারতীয় বংশোদ্ভূত আলকা কানায়া নিজের পরিবারেই দেখেছেন ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ধ্বংসাত্মক প্রভাব। ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি, সান ফ্রান্সিসকোর এই চিকিৎসক-বিজ্ঞানী বলেন, তিরিশ-চল্লিশ বছর বয়সী দক্ষিণ এশীয় পুরুষদের হার্ট ও ডায়বেটিস সমস্যা নিয়ে প্রায়ই হাসপাতালে আসতে দেখি। এই দৃশ্য দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই সমস্যা এত প্রকটরূপে দেখি না।
পরিসংখ্যানও এই পর্যবেক্ষণের সত্যতা তুলে ধরে। দক্ষিণ এশীয়রা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ হলেও, বিশ্বব্যাপী হৃদরোগের প্রায় ৬০ শতাংশই দেখা যায় তাদের মধ্যে। অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতাও বেশি। এতদিন এর কারণ হিসেবে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স—অর্থাৎ কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি সাড়া না দেওয়া এবং সেন্ট্রাল এডিপোসিটি বা পেটের অংশে চর্বি জমা হওয়াকে দায়ী করা হতো।
কিন্তু কানায়া এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাঁর ভাষায়, কেন এমন হয় এবং কীভাবে এটি প্রতিরোধ করা যায়, এই বড় প্রশ্নের উত্তর সত্যিকার অর্থে পাওয়া যাচ্ছে বলে তাঁর মনে হয়নি।
এই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যেই কানায়া শুরু করেন ‘মেডিয়েটরস অব অ্যাথেরোসেক্লোরোসিস ইন সাউথ এশিয়ানস লিভিং ইন আমেরিকা’ নামের একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা, যার সংক্ষিপ্ত রূপ ‘মাসালা’। মাসালা একটি হিন্দি প্রতিশব্দ। ২০০৬ সালে মাত্র ১৫০ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে শুরু হওয়া এই গবেষণা বর্তমানে বিস্তৃত হয়েছে প্রায় ২,৩০০ জনে।
দক্ষিণ এশীয়দের বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সূচক পরীক্ষা করে কানায়া এবং তাঁর দল এমন কিছু বিষয় চিহ্নিত করেছেন যা সম্ভাব্যভাবে এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের বর্ধিত ঝুঁকির জন্য দায়ী। বর্তমানে মাসালা হলো দক্ষিণ এশীয় মানুষের স্বাস্থ্যের অবস্থা সময়ের সঙ্গে পর্যবেক্ষণকারী দীর্ঘতম গবেষণা, যা কেবল ঝুঁকির কারণ নয় বরং স্ক্রিনিং নির্দেশিকা বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরবর্তীতে কানায়া নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাঁর গবেষণার পরিধি বাড়িয়েছেন।
মাসালা গবেষণার জন্য কানায়া অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন ‘মাল্টি-এথনিক স্টাডি অব অ্যাথেরোসেক্লোরোসিস’ বা মেসা থেকে। এটি মূলত শ্বেতাঙ্গ, আফ্রিকান আমেরিকান, হিস্পানিক এবং চীনা জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক অ্যাথেরোসেক্লোরোসিস পরীক্ষা করার একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগ বৃদ্ধির কারণগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়ার আশায় বিজ্ঞানীরা একত্রিত হয়ে কাজ করেছেন।
কানায়ার ভাষায়, মেসা গবেষণার সঙ্গে এই তুলনা সত্যিই স্পষ্টভাবে দেখায় দক্ষিণ এশীয়রা কতটা আলাদা। উদাহরণস্বরূপ, মেসা এবং মাসালা—উভয় গবেষণার অংশগ্রহণকারীদের শারীরিক গঠন তুলনা করে দেখা গেছে, মাসালার অংশগ্রহণকারীদের লিভার এবং ভিসারাল ফ্যাট বা পেটের ভেতরের অঙ্গের চর্বি বেশি ছিল, যা হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সঙ্গে জোরালোভাবে যুক্ত। এর পাশাপাশি, অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় তাদের লিন মাস বা চর্বিহীন পেশীর পরিমাণও কম ছিল, যা ডায়াবেটিসের আরেকটি ঝুঁকির কারণ।
মাসালার অধীনে পরিচালিত একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ততটা প্রচলিত নয় যতটা একসময় ভাবা হতো। বরং দক্ষিণ এশীয়রা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের একটি কম সাধারণ ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকে, যেখানে অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষগুলো পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না।
এই আবিষ্কার চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে। কানায়া বলেন, যাদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স রয়েছে তারা নির্দিষ্ট কিছু জীবনধারা পরিবর্তনের প্রতি সাড়া দিতে পারেন, কিন্তু যাদের অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়েছে তাদের সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। অর্থাৎ সবার জন্য একই ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি কার্যকর নয়।
কানায়া এবং তাঁর দল আরও যুক্তি দেখিয়েছেন, যেহেতু দক্ষিণ এশীয়দের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় কম বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই স্তরেও ডায়াবেটিস হতে পারে, তাই তাদের রোগনির্ণয় পরীক্ষার জন্য বিএমআই-এর কাটঅফ পয়েন্ট কম হওয়া উচিত। এটি এই জনগোষ্ঠীর জন্য ভিন্ন স্ক্রিনিং নির্দেশিকা থাকার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
দক্ষিণ এশীয় এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মধ্যকার পার্থক্য পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কানায়া এবং তাঁর দল দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের ভেতরকার ভিন্নতার আরেকটি স্তরও উন্মোচন করেছেন। গবেষণাটিকে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে সম্প্রসারিত করার ফলে কানায়া বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আরও বেশি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পান। সম্প্রতি নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির দুটি কেন্দ্র বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানি অভিবাসীদের মাসালা গবেষণায় যুক্ত করেছে।
কানায়ার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভারতীয়দের তুলনায় পাকিস্তানিদের মধ্যে ডায়াবেটিসের মাত্রা বেশি, আর বাংলাদেশীদের মধ্যে এই রোগের হার আরও বেশি। এই গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—‘দক্ষিণ এশীয়’ নামক একটি ছাতার নিচে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষকে একই ক্যাটাগরিতে ফেলে দেওয়ার মধ্যে ত্রুটি রয়েছে।
কানায়া আশা করেন, এই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল ঠিক সেইসব মানুষদের সাহায্য করবে যাদের জন্য ২০০৬ সালে তিনি কাজ শুরু করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, যাদের সেবা করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, তাদের কাজের ভিত্তি সেই সম্প্রদায়ের মধ্যেই হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।
কানায়া এবং তাঁর দল তাদের গবেষণা থেকে পাওয়া নতুন ফলাফলগুলো নিয়মিতভাবে দক্ষিণ এশীয় মানুষদের কাছে পৌঁছে দেন, যাতে যা শেখা হচ্ছে তা আবার সম্প্রদায়ের কাছেই ফিরে যায় এবং তা সচেতনতা বাড়াতে ও রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কানায়া দক্ষিণ এশীয়দের রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে আরও গভীর অন্তর্দৃষ্টি পেতে গবেষণার দলটি আরও বড় করার আশা প্রকাশ করেন। ততদিন পর্যন্ত তিনি গত দুই দশক ধরে যা করে আসছেন, তাই চালিয়ে যেতে চান। কানায়ার ভাষায়, তাঁরা সচেতনতা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে চান এবং এই ছোট্ট দল থেকেও যতটা সম্ভব শিখতে চান।
(দ্য সায়েনটিস্ট থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিত)
.png)

সেদিন সম্ভবত খুব বেশি দূরে নয় যেদিন টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষকে আর প্রতিদিন ইনসুলিনের ইনজেকশন নিতে হবে না। শরীরের ভেতরেই তৈরি হয়ে যাবে নতুন কোষ, যা নিজে থেকেই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে। শোনাতে বিজ্ঞান-কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও, সুইডেনের দুই খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই
৩ ঘণ্টা আগে
ঢাকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘বর্ণ এআই’ কিনে নিয়েছে টাইগার মিডিয়া। ‘বর্ণ এআই’ মূলত একটি এআই টিউটরিং অ্যাপ, যা কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি। এটি বাংলাদেশের এনসিটিবি কারিকুলাম মেনে শিক্ষার্থীদের নিজের মতো করে পড়াশোনা করতে, অনুশীলন করতে এবং বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝ
৩১ আগস্ট ২০২৬
বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ক্যানসারকে ধরা হতো এমন একটা রোগ, যার কোনো প্রতিকার নেই। পরে ধীরে ধীরে চিকিৎসাবিজ্ঞানে আসে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও অস্ত্রোপচারের মতো পদ্ধতি। প্রতিষেধক হিসেবে আবিষ্কার হয় ভ্যাকসিনও। কিন্তু এত কিছুর পরও বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান থামেনি। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ই
৩০ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাজ্যে বিশ্বের প্রথম রোগী হিসেবে লাইভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহায়তায় মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন রাইস হিবার্ট। সফলভাবে তাঁর টিউমার অপসারণ করা হয়েছে। বেডফোর্ডশায়ারের দুই সন্তানের বাবা রাইস হিবার্ট অস্ত্রোপচারটি না করালে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারতেন বলে
২৭ আগস্ট ২০২৬