ad

শেষ মুহূর্তের গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিতে স্পেন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯: ১৮
ম্যাচের ৮৮ মিনিটে মিকেল মেরিনোর গোলে জয় পায় স্পেন। ছবি: সংগৃহীত

নকআউট ফুটবলে শেষ বাঁশির আগপর্যন্ত নাটকীয়তার অভাব হয় না। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে শনিবার (১১ জুলাই) সেটি আবারও প্রমাণ করল স্পেন।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে সমতায় ফেরার পর বেলজিয়াম যখন অতিরিক্ত সময়ের আশা দেখছিল, তখন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা মিকেল মেরিনোর এক স্পর্শেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।ম্যাচের ৮৮ মিনিটে তাঁর গোলে বেলজিয়ামকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন।

এদিন শুরু থেকেই নিজেদের স্বভাবসুলভ পাসিং ও টিকিটাকা ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। দুই উইং ব্যবহার করে একের পর এক আক্রমণে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে তাঁরা। তবে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।

স্পেনের ধারাবাহিক আক্রমণের ফল আসে ৩০তম মিনিটে। ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে আসা রাইট ব্যাক পেদ্রো পোরোর নিচু ক্রস থেকে মিডফিল্ডার দানি ওলমো শট নিলে সেটি দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন কোর্তোয়া। তবে ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ।

গোল হজম করলেও এরপর বেলজিয়াম ধীরে ধীরে মাঝমাঠে নিজেদের গুছিয়ে নেয়। এর পুরস্কার মেলে ৪১তম মিনিটে। রাইট ব্যাক টিমোথি কাস্তানিয়ের দারুণ এক ক্রস থেকে অসাধারণ হেডে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১–১ সমতায় ফেরান যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জোড়া গোল করা ফরোয়ার্ড শার্ল দে কেতেলারে।

চলতি বিশ্বকাপে এটিই স্পেন জালে প্রথম গোল। বিশ্বকাপে টানা ৬৫০ মিনিট পর গোল হজম করল দলটি। বেলজিয়ামের সমতাসূচক গোলের পর ম্যাচের আবহও বদলে যায়। স্পেনের কিছুটা ধীরলয়ে চললেও বেলজিয়াম আরও সতেজভাবে খেলতে থাকে। তবে বিরতির আগে আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ১–১ সমতা নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ হয়।

অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গোল হজমের প্রভাব দেখা যায়নি স্পেনের খেলায়। আবারও পাসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তাঁরা। লামিন ইয়ামাল দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেলেও তাঁকে ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া।

অন্যদিকে স্পেনের আক্রমণের ফাঁকে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোলের চেষ্টা চালিয়ে যায় বেলজিয়াম। তবে তাঁদের শট হয় সাইড নেটিংয়ে, নয়তো স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের হাতে আটকে যায়।

এর মধ্যে ম্যাচের ৭২ মিনিটে থিবো কোর্তোয়া চোট পেলে তাঁর পরিবর্তে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্সকে নামান বেলজিয়াম কোচ।

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই বদলে যায় দৃশ্যপট। ৮৮ মিনিটে মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো স্পেনকে এগিয়ে দেন। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাও কুবারসির শট বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষক ল্যামেন্স তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হলে ফিরতি বলে জোরালো শটে বল জালে পাঠান শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে একমাত্র গোল করা মেরিনো।

শেষ দিকে সমতায় ফেরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায় বেলজিয়াম। তবে স্পেনের রক্ষণভাগ তাঁদের সব প্রচেষ্টা প্রতিহত করে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত