ওয়ার্ল্ডকাপ কাউন্টডাউন

৩২ বছর পর ফের নকআউট পর্বের স্বপ্ন সৌদি আরবের

ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ৯৬ বছরের ইতিহাসে ২০২৬ সালের আসরটি হতে যাচ্ছে এক অনন্য নজির। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ নিয়ে আয়োজিত এই মহাযজ্ঞের আয়োজক হিসেবে থাকছে তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা। ফুটবল বিশ্বের মহাযজ্ঞ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কিক-অফ হতে ঘড়ির কাঁটায় আর বাকি মাত্র ৪১ দিন। বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিয়ে পড়ুন স্ট্রিমের নিয়মিত আয়োজন ‘বিশ্বকাপ কাউন্টডাউন’—

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

সংগৃহীত ছবি

২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকে স্তব্ধ করা সৌদি আরব এবারও চমক দেখাতে প্রস্তুত। সপ্তম বিশ্বকাপ যাত্রায় ৪৫ দিন পরেই মাঠে নামছে 'গ্রিন ফ্যালকনরা'।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর সৌদি আরবের ফুটবলে পরিবর্তন এসেছে। ঘরোয়া লিগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং নেইমারের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের আগমনে স্থানীয় ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। ‘গ্রিন ফ্যালকনস’ খ্যাত দলটি ১৯৯৪ সালের পর আবারও নকআউট পর্বের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের মাঠে নামবে।

১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে বিশ্বমঞ্চে অভিষেক ঘটে সৌদি আরবের। নিজেদের প্রথম অংশগ্রহণেই তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল। ২০২৬-এর আসরের আগের ছয় বিশ্বকাপে মোট ১৯ ম্যাচ খেলে চার জয়ের বিপরীতে তাদের ঝুলিতে রয়েছে ১৩ হার। বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬১তম অবস্থানে থাকা দলটি তাদের নতুন গ্রিক কোচ জর্জিওস দনিসের অধীনে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করতে সৌদি আরবকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এএফসি বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে রানার্স-আপ হওয়ার পর তৃতীয় রাউন্ডে তারা জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার পেছনে পড়ে যায়। তবে চতুর্থ রাউন্ডে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সরাসরি কোয়ালিফিকেশন নিশ্চিত করে।

এবারের বিশ্বকাপ সৌদি আরবের মূল আকর্ষণ হতে পারেন লেফট উইঙ্গার সালেম আল-দাওসারি। ছবি: সংগৃহীত
এবারের বিশ্বকাপ সৌদি আরবের মূল আকর্ষণ হতে পারেন লেফট উইঙ্গার সালেম আল-দাওসারি। ছবি: সংগৃহীত

এবারের আসরে সৌদি আরব খেলবে রোমাঞ্চকর ‘এইচ’ গ্রুপে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ও স্পেন এবং উদীয়মান আফ্রিকান শক্তি কেপ ভার্দে।

এবারের বিশ্বকাপ দলটির মূল আকর্ষণ হতে পারেন ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়সূচক গোলদাতা সালেম আল-দাওসারি। আল-হিলালের এই তারকা এবারের মৌসুমেও আট গোল ও আট অ্যাসিস্ট নিয়ে ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন। এছাড়া দলের আরেক বড় অস্ত্র সাউদ আব্দুলহামিদ, যিনি বর্তমানে ফরাসি ক্লাব লেন্সে খেলছেন।

গ্রুপ ‘এইচ’-এর সমীকরণে স্পেন ও উরুগুয়ে পরিষ্কার ফেবারিট। তবে সৌদি আরব যদি প্রথম দুই ম্যাচের যেকোনো একটিতে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে পারে, তবে ২৭ জুন কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য নকআউটের দুয়ার খুলে দিতে পারে।

১৬ জুন উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সৌদির বিশ্বকাপ অভিযান। এরপর ২১ জুন স্পেনের মুখোমুখি হবে তারা। ৩২ বছর আগের সেই বীরত্বগাথা আবারও লিখে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে চায় মরুভূমির ঈগলরা।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত