বিশ্বকাপের মাস্কট কেন রাখা হয়, কীভাবে এলো

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ১৪: ১৫
এই বিশ্বকাপের তিন মাস্কট

ফুটবল বিশ্বকাপের দামামা বাজলেই মাস্কট হিসেবে কখনো জেব্রা, কখনো বাঘ, কখনো আবার আরব্য কোনো রূপকথার ‘শপের’ মতো উড়ে চলা কোনো কাপড়ের স্মৃতি দর্শকদের চোখের সামনে ভেসে আসবে। ফুটবলের এই মহাযজ্ঞে আভিজাত্য আর ঐতিহ্যের মিশেল দিতে ১৯৬৬ সাল থেকে যুক্ত হয়েছে ‘মাস্কট’ বা প্রতীকী চরিত্র; যা এই ২০২৬ বিশ্বকাপেও রয়েছে।

এই মাস্কট স্বাগতিক দেশের স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং টুর্নামেন্টের চেতনাকে প্রতিফলিত করে। যার মাধ্যমে ফিফা এমন প্রাণি বা চরিত্রকে পরিচয় করিয়ে দেয়; যার মাধ্যমে সব বয়সী দর্শকদের যেন আকৃষ্ট করতে পারে।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপের মাস্কট কী

এবারের ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশ হিসেবে যুক্ত আছে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র। তিনটি দেশেই তিনটি ভিন্ন ভিন্ন মাস্কট দেশগুলাকে প্রতিনিধিত্ব করছে।

‘মেপল দ্যা মুজ’, কানাডার প্রতিটি প্রদেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী এই মাসকটটি মূলত একজন গোলরক্ষকের। ‘জায়ু দ্যা জাগুয়ার’ যিনি দক্ষিণ মেক্সিকোর জঙ্গল থেকে আসা জায়ু, মাঠের একজন দক্ষ স্ট্রাইকার। ‘ক্লাচ দ্যা বল্ড ইগল’ একজন অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মিডফিল্ডার হিসেবে ক্লাচ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে বেড়ায়।

ফুটবল বিশ্বকাপে মাস্কট কীভাবে এলো

১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরু হলেও প্রথম মাস্কটের দেখা মেলে ১৯৬৬ সালে, ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। যুক্তরাজ্যর পতাকাসংবলিত জার্সি পরা একটি সিংহ, যার নাম ছিল ‘উইলি’। ১৯৭০ মেক্সিকো বিশ্বকাপে দেখা যায় মেক্সিকান হ্যাট পরা কিশোর ‘জুয়ানিতো’কে। ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানি দুই কিশোর ‘টিপ ও ট্যাপকে’ নিয়ে আসে তাদের মাস্কট হিসেবে।

১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা নীল হ্যাট পরা এক কিশোর ‘গাউচিটোকে’ মাস্কট হিসেবে তুলে ধরে। ১৯৮২ সালে স্পেন ফুটবল হাতে দাঁড়ানো কমলা লেবু ‘নারানজিতোকে’ মাস্কট হিসেবে দেখা যায়। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর দ্বিতীয় আয়োজনে দেখা যায় গোঁফওয়ালা এক মরিচ ফুটবলে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, যার নাম ছিল ‘পিক’। ১৯৯০ সালে ইতালিতে এসে ফুটবল মাথার আকৃতির জ্যামিতিক কাঠামোর ফুটবলার ‘চাও’।

১৯৯৪ সালে আমেরিকায় দেখা যায়, ফুটবলে পায়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কুকুরকে যার নাম ছিল ‘স্ট্রাইকার’। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে ফুটবল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোরগকে দেখা যায় যার নাম ছিল ‘ফুটিক্স’। কালের বিবর্তনের ফলে একাবিংশ শতাব্দীর প্রথম বিশ্বকাপে, ২০০২ সালে কোরিয়া-জাপানে প্রথমবারের মতো থ্রি-ডি অ্যানিমেশনের ছোঁয়া পায় তিন ভিনগ্রহের প্রাণি ‘অ্যাটো, কাজ ও নিক’।

২০০৬ সালে জার্মানির সিংহ ‘গোলিও সিক্স’। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপে মাস্কট ছিল একটি চিতা, যার নাম ‘জাকুমি’। ২০১৪ সালে ব্রাজিলের বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী আরমাডিলো ‘ফুলেকো’ মাস্কট হিসেবে মাঠ দাপিয়েছে। ২০১৮ সালে রাশিয়ার বিশ্বকাপে চশমা পরা ‘জাবিভাকাকে’ মাস্কট হিসেবে দেখা যায়।

আর সবশেষ গত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আরব্য ঐতিহ্যের কেফিয়াহ থেকে অনুপ্রাণিত মাস্কাট ‘লা’ইব’ যুক্ত ছিল।

সম্পর্কিত