ভোটের সুযোগ কোনভাবেই হারানো যাবে না: আসিফ নজরুলজুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে খুনি হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আমরা এখন একটি নতুন সময়ে উপস্থিত হয়েছি, যেখানে ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কোনোভাবেই হারানো চলবে না।
গণভোটের রায়ে কীভাবে বদলায় দেশস্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণাকে ‘ফরজে কিফায়া’ বলেছেন। সরকার মনে করে, নিছক ভোট নয়, বরং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান টিকিয়ে রাখার চূড়ান্ত লড়াই। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে চায় সরকার। কিন্তু একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটে আসলে কীভাবে?
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে এবং বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এই সনদ এক ঐতিহাসিক সুযোগ।
এই গণভোটে কি সরকার ‘নিরপেক্ষ’ থাকতে পারেপৃথিবীর অনেক গণতান্ত্রিক দেশে গণভোটের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সরকার সেখানে সবসময়ই ‘নিরপেক্ষ দর্শক’ নয়। অনেক সময় তারা ‘সক্রিয় পক্ষ’। ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট গণভোটের উদাহরণটি এক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক এবং শক্তিশালী দলিল হতে পারে।
ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি: বাণিজ্য উপদেষ্টাফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে সকল নাগরিকের গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেছেন, সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ দেশ রেখে যাওয়া আমাদের সবার কর্তব্য।
গণভোটের ফলাফলেই নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশ: ফারুক-ই-আজমগণভোটের ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতেই আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, বীর প্রতীক। তিনি বৈষম্যহীন দেশ গড়তে সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় সুজন ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি, অর্থায়ন করবে ব্যাংকআগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছে দেশের ব্যাংকগুলো।
‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারের সমালোচনায় যা বলছে সরকারপ্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের ওপর আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—যে সিদ্ধান্তের ভার জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তের একটি পক্ষে সরকার নিজেই প্রচারণা চালানো কতটা যুক্তিসংগত।
‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে বাধা নেই সরকারি কর্মচারীদের: আলী রীয়াজগণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় দেখা গেছে, এ বিষয়ে সরকারি কর্মচারীদের ওপর কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই।
জুলাই সনদ থেকে আসন্ন গণভোট, সরকারের পক্ষপাতত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে সরকার 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। এতে নির্বাচনে 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' থাকছে কিনা এই প্রশ্ন উঠছে।
কী আছে গণভোট অধ্যাদেশেজুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট হবে। এজন্য গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশ মূলত একটি রাষ্ট্রপতি আদেশ, যা বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে জাতীয় গণভোট আয়োজনের আইনগত কাঠামো নির্ধারণ করে দিবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’, কার জয়ে কী ঘটবেবাংলাদেশের আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটটি হলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর অনুমোদন বিষয়ে একটি গণভোট।
এই গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের আগামী দিনের পথচলাসম্প্রতি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি গণভোট আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনের দিনে বা তার আগেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।