প্রত্যেক এনার্জি সেক্টরে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ৪০
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি এনার্জি সেক্টরে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় কোনো কোনো এনার্জি খাতে ১৫ থেকে ১৭ দিনের রিজার্ভও ছিল না। বর্তমানে তা এক মাসে উন্নীত হয়েছে। এখন তিন মাসের রিজার্ভ গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে এফএসআরইউ এবং অনশোর গ্যাসের উৎস ও পাইপলাইন নিয়ে কাজ চলছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আমির খসরু বলেন, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মূলত বেসরকারি খাতনির্ভর এবং সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। শুধু নীতিমালা ঘোষণা নয়, এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ‘ইকোনমিক রিফর্ম এক্সিলারেটর ইউনিট’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে শুধু কমিটি গঠন করার মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর নির্বাহী ক্ষমতাও প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এ ধরনের ইউনিট থাকলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে সংস্কারের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি ব্যবসা পরিচালনায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার ওপর জোর দেন। করজাল সম্প্রসারণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে এই হয়রানি কমানো জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

খেলাপি ঋণের বিষয়ে কাঠামোগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কেবল যে ইচ্ছাকৃত খেলাপিরাই দায়ী, তা নয়। বরং নীতিগত ও কাঠামোগত ব্যর্থতাও অনেক ক্ষেত্রে দায়ী।

সেমিনারে পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমানসহ ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। এতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব ও মুদ্রানীতি, বেসরকারি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

প্রত্যেক এনার্জি সেক্টরে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার