রেকর্ড নিম্ন ঋণ প্রবৃদ্ধিতে ঝুঁকিতে বেসরকারি বিনিয়োগ: ডিসিসিআই

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ১৭
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানিসংকট, ব্যবসার পরিচালন ব্যয়ে ঊর্ধ্বগতি ইত্যাদি কারণে আগে থেকেই চাপে রয়েছে বেসরকারি বিনিয়োগ খাত। এর ওপর আবার এই খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি সাড়ে তিন দশকের সর্বনিম্নে নেমেছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এই উদ্বেগ জানানো হয়।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে তা মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। অথচ দেশের জিডিপিতে বেসরকারি বিনিয়োগের হিস্যা ২১ দশমিক ২ শতাংশ।

১৯৯১-৯২ অর্থবছরের পর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এটাই সর্বনিম্ন। সেবার প্রবৃদ্ধির হার নেমেছিল শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে।

মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সুদের হার ধীরে ধীরে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান।

সেমিনারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নে ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজার ও বিকল্প শক্তিশালী উৎস তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে করপোরেট বন্ড, মিউনিসিপাল বন্ড, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট ও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কটেজ, মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (সিএমএসএমই) খাতে ঋণপ্রবাহের দুর্বলতা তুলে ধরে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, এ খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ শতাংশ হলেও বাস্তবে তা ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে আটকে আছে। ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ খাতে খেলাপি ঋণের হার ২৪ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রচলিত জামানতনির্ভর ঋণব্যবস্থার পরিবর্তে ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং ও ক্যাশফ্লো-ভিত্তিক ঋণ চালুর প্রস্তাব করেন তিনি।

সিএমএসএমই খাতের জন্য সম্প্রতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অর্থ প্রকৃত উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে।

জ্বালানিসংকটকে বিনিয়োগের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দেখছে ডিসিসিআই। এ জন্য শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সেমিনারে খাতভিত্তিক সংকটের তথ্য তুলে ধরেছে ডিসিসিআই। তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়া, চামড়া খাতে আন্তর্জাতিক সনদসংকট, এপিআই পার্কে গ্যাস ও ইউটিলিটি ঘাটতি, হালকা প্রকৌশল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে দক্ষ জনবল ঘাটতির কথা বলেছে তারা। একই সঙ্গে এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত নীতিগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে।

এছাড়া ব্যবসা সহজীকরণে কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিজিটাল করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করা, ১২৫টি সরকারি সেবা অনলাইনে দেওয়া এবং কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রমে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ডিসিসিআই।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানসহ ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

রেকর্ড নিম্ন ঋণ প্রবৃদ্ধিতে ঝুঁকিতে বেসরকারি বিনিয়োগ: ডিসিসিআই