বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

জ্বালানির দামের প্রভাবে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ১৮
মূল্যস্ফীতি। স্ট্রিম গ্রাফিক

দেশে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি তীব্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, বিশ্ববাজারে ও দেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে ঘাটতিতে স্বল্পমেয়াদে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ইনফ্লেশন ডায়নামিকস’ প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, এর সঙ্গে মিলিয়ে দেশে মূল্য সমন্বয় এবং জ্বালানি সরবরাহে সংকট—এই তিন কারণ মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে।

সম্প্রতি সরকার জ্বালানির দাম বাড়ানোর পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পর্যবেক্ষণ সামনে এল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে প্রায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বাড়ে। এর প্রভাব ধাপে ধাপে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায় এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ জটিল হয়ে ওঠে।

ব্যাংক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক এজাজুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি সব খাতের মৌলিক উপাদান হওয়ায় এর দাম বাড়লে অর্থনীতিতে বহুমুখী প্রভাব পড়ে। এর একটি মূল্যস্ফীতিতে তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বগতি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও বলেছেন, দেশে জ্বালানির দাম বাড়ার পরপরই পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে সবজি ও মশলা জাতীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব দেখা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ঈদুল আজহার মৌসুমি চাহিদায় খাদ্য ও পোশাকের দাম বেড়েছে। এটিও সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক নীতিগত পদক্ষেপ চালু রাখা জরুরি। কারণ জ্বালানির দামের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে সামনের মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত